ঢাকা, মঙ্গলবার 23 January 2018, ১০ মাঘ ১৪২৪, ৫ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আমাদের রিল্যাক্স থাকার কোন সুযোগ নেই -তামিম

স্পোর্টস রিপোর্টার : ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দুই ম্যাচ জিতে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ফলে শেষ দুই ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশের হারানোর কিছু থাকবে না। তবুও রিল্যাক্সের কোনো সুযোগ দেখছেন না জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। কারণ প্রত্যেক আন্তর্জাতিক ম্যাচেই পাওয়ার থাকে নতুন কিছু। তাই জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলংকার বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচকে বড় করেই দেখছেন জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। গতকাল মিরপুরে ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, ‘দুইটা ম্যাচ জিতে গেছি, হারলেও কিছু হবে না, এই জিনিসটা দেখছি না। প্রত্যেকটা আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলোয়াড়ের একটা সুযোগ থাকে একটি হানড্রেড করার, একটি পাঁচ উইকেট নেওয়ার। আমি যখন আমাদের গ্রুপটাকে দেখি তখন মনে হয় প্রত্যেকেই এ জিনিসটার পিছনে ছুটছে। রিল্যাক্সের কোনো সুযোগ দেখছে না। আমরা ফাইনালে ওঠে গেছি তারপরও প্রত্যেকটা ম্যাচ সমান গুরত্বপূর্ণ। এই দুইটা ম্যাচে আমাদের অর্জনের অনেক কিছুই আছে।’ শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়ে দুই দলেরই সমান সুযোগ আছে ফাইনালে যাওয়ার। বাংলাদেশ ফাইনালের প্রতিপক্ষ হিসেবে কাকে চাইছে? তামিম বলেন, ‘আমি ওরকম করে বলব না যে শ্রীলংকাকে চাই বা জিম্বাবুয়েকে চাই। ফাইনালে যার সাথে দেখা হবে ওরকম করেই খেলব। যেই আসবে তাদের সাথে খেলা লাগবে, ভালো খেলতে হবে। প্রতিপক্ষ কে, সেটা নিয়ে আমাদের খুব একটা চিন্তা নেই। যেই আসবে তাদের সাথে খেলা লাগবে, ভালো খেলতে হবে। আমাদের কাজ হলো, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমাদের ম্যাচটা জেতা। কতটা পরিপূর্ণ হয়ে আমরা ম্যাচ জিততে পারি, সেদিকেই থাকবে আমাদের মনোযোগ।’ তামিম ইকবালের ১১ বছরের ক্যারিয়ারে ১৭৬ ওয়ানডে খেলে সেঞ্চুরি মাত্র ৯টি! হাফসেঞ্চুরি তার ৪০টি। এমন পরিসংখ্যানে হতাশ তামিম। আরও বেশি  সেঞ্চুরি হওয়া উচিত ছিল মনে করেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলংকার তাকে আউট করলো  সেই ৮৪ রানেই। তামিম বলেন, ‘আমার নিজের কাছে খারাপ লাগে। আমার আরও অনেক সেঞ্চুরি করা উচিত ছিল। খুব তাড়াতাড়ি সেঞ্চুরির সংখ্যা দুই অঙ্কে নিয়ে যাবো, সেটা দেখতে ও শুনতে ভালোই লাগবে। আপাতত আমার এটাই লক্ষ্য। ১৭০টির বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ফেলেছি। ৪০টা হাফসেঞ্চুরি। এদিক থেকে চিন্তা করলে সেঞ্চুরির সংখ্যা মাত্র ৯টি। বিষয়টি খুবই হতাশাজনক।’ গত দুই ম্যাচে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি তামিম। এটা নিয়ে খুব একটা হতাশ নন তিনি। তামিম বলেন, ‘দুর্ভাগ্য বলবো না একে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিং করা বেশ কঠিন ছিল। তখন উইকেট বিলিয়ে দেইনি বলেই তৃপ্ত আমি। আমি আসলে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। নির্দিষ্ট বোলারকে টার্গেট করেছিলাম। মাঝে মাঝে আক্রমণও করেছিলাম। তবে ভালো একটি বলে আউট হয়েছি বলে হতাশা নেই।’ ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ৬ হাজার রান থেকে ৬৪ রান দূরে আছেন তামিম। আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রানটি করতে পারলেই এ ক্লাবের সদস্য হবেন তিনি। এই কীর্তিগুলোকে কেবল ব্যক্তিগত অর্জন মনে করে উপভোগ করতে চান তামিম। তিনি বলেন, ‘দুটোই মাইলফলক। কেউ ১০ হাজার রান করলে এটা অবশ্যই মাইলফলক। জানি না কয়জন করেছে এটা। সাকিবের ১০ হাজার হয়েছে, মুশফিক সব মিলিয়ে ৩০০ ম্যাচ খেলেছে। এটাও মনে হয় না খুব বেশি মানুষ করেছে। আমাদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগে এগুলো।’ সাকিব ও তামিমের রানের প্রতিযোগিতা ছিল একই ধারায়। কিন্তু গত তিন বছরে অনেকখানি এগিয়ে গেছেন তামিম। তিন সংস্করণ মিলিয়ে প্রায় এক হাজার রানে পিছিয়ে সাকিব। ১০ হাজার ১ রান তার। আর তামিমের ১১ হাজার ৭৭ রান। এটা নিয়ে তামিম বলেন, ‘এমন প্রতিযোগিতা হলে ভালোই হবে। দলের মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা থাকলে পারফরম্যান্স বের হয়ে আসে। সাকিব তিনে ব্যাট করায় অনেক বেশি ওভার ব্যাট করতে পারবে। এজন্য আমাকেও মনে রাখতে হবে যে এগিয়ে থাকতে হলে আমাকেও পারফর্ম করতে হবে। কেবল সাকিব না, মুশফিকও আছে। সে-ও অনেক রান করে ফেলেছে। ২০১৭ সালে দারুণ বছর গেছে তার।’ গত বৃহস্পতিবার বর্ষসেরা টেস্ট ও ওয়ানডে দল ঘোষণা করেছে আইসিসি।  

যদিও সেখানে ছিল না কোনও বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নাম! তবে অদূর ভবিষ্যতে এই তালিকাতে অনেক বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নাম থাকবে বলে মনে করেন ওপেনার তামিম ইকবাল। তামিম বলেন,‘যেভাবে শেষ বছরটা গেলো, এভাবে গেলে একটা সময় আমরা বর্ষসেরা দলে স্থান পাবোই। এর জন্য বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। আগামী বছরগুলো ভালো গেলে স্বীকৃতি চলে আসবে। 

গত বছরটা যেভাবে গেছে,  তেমন  খেলতে পারলে আমাদের দল থেকে দু-তিনজন বর্ষসেরা হতে পারবে।’সাকিব ও মুশফিকের পারফরম্যান্সের পরও আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট একাদশে জায়গা হয়নি।  এই না থাকার কারণ হিসেবে তামিম মনে করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাদের চেয়ে অন্যদের পারফরম্যান্স বেশি ভালো ছিল। তামিম বলেন, ‘আইসিসি পুরস্কার পেতে হলে খুব ভালো কিছু করতে হয়।  যারা ব্যক্তিগত পুরস্কার পেয়েছে, তারা অনেক রান করেছে।  আমি বলছি না সাকিব-মুশফিক পাওয়ার যোগ্য না।’এই কয় বছরে কেবলমাত্র ২০১৫ সালে ওয়ানডের সেরা একাদশে ছিলেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।  এর আগে ২০০৯ সালে টেস্ট একাদশে ছিলেন সাকিব আল হাসান।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ