ঢাকা, মঙ্গলবার 23 January 2018, ১০ মাঘ ১৪২৪, ৫ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নেতাকর্মীদের কারাগারে রেখে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না -মির্জা ফখরুল

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সোমবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলাকে রাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে এসব মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক মামলায় আমাদের নেতাকর্মীরা জেলের ভেতরে থাকবে, আর আপনারা নির্বাচন করবেন তা হবে না। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার না হলে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। সংগঠনের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরজাহান ইয়াসমিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ মহিলাদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৭৮ হাজার মামলা করা হয়েছে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে, প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ আসামী করা হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আজকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদের খুব পরিষ্কার কথা- এসব মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদেরকে কারাগারে রেখে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কোনো নির্বাচন এখানে হবে না। এসব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের জন্য সকল দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও জানান ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা চাই অতি দ্রুত একটা নির্বাচন যা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। অবশ্যই সকলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া সাপ্তাহে ৫ দিনের কর্মদিবসের মধ্যে তিনদিন কোর্টে যেতে হবে। আর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে বেড়াবেন। সেখানে কোনো সুষ্ঠু ভোট হতে পারে না। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সকলকে ‘জেগে’ উঠার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। রাজধানীর তীব্র যানজটের জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঢাকায় আজকে কী অবস্থা? আপনাদের (মহিলা দলের অনুষ্ঠান) এখানে আসতে আমার দেরি হয়েছে। কারণ কী? ট্রাফিক জ্যাম, গাড়ি চলে না। এমন উন্নয়ন হচ্ছে যে, ঢাকার রাস্তায় এখন গাড়ি আর চলে না। আমরা চুপ-চাপ বসে থাকি হয় রিকসায়, না হয় বাস-গাড়ির মধ্যে। এই হচ্ছে এ সরকারের উন্নয়ন। আমরা ঢাকায় এই যানজটের দ্রুত নিরসন চাই। দেশের দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতির লাগামহীন বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, এখন স্বল্প আয়ের মানুষের বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিটি জিনিসের দাম এখন নাগালের বাইরে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অবৈধ। তাই জনগণের প্রতি এদের কোনো দায় নেই। তিনি বলেন, এই সরকার বলেছিল ১০ টাকায় চাল খাওয়াবে। অথচ এখন মোটা চালের দামই ৫০ টাকার বেশী। সারাদেশে সংগঠন শক্তিশালীকরণের জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতৃত্বের কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, মহিলাদেও আরও বেশী বেশী করে ভূমিকা রাখতে হবে। আমাদের মা বোনদের সজাগ করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে মহিলা দল এগিয়ে চলছে। মহিলা দলই একমাত্র সংগঠন যারা শত প্রতিকূলতার মাঝেও প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা সফর করে কাউন্সিল করতে পারছে। এমনকি ঢাকায় যে সমস্ত কর্মসূচি পালিত হয় তাতেও পিছিয়ে নেই মহিলা দল। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বের করে এনে সমৃদ্ধশালী করেছিলেন। সরকার উন্নয়নের নামে লুটপাট করছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ। তাদের উন্নয়ন শুধু একটি গোষ্ঠীর জন্য। আর সে গোষ্ঠী তারা, যারা ধনী। তারাই আরও ধনী হচ্ছে। এমন তাদের উন্নয়ন যে আজ ঢাকায় গাড়ি চলে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথেই বসে থাকতে হয়। ফখরুল বলেন, আমাদের কথা পরিষ্কার, বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে নির্বাচন চাই। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে অতিদ্রুত নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। যে নির্বাচনে দেশের মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। আমাদের যে ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে তা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে জেগে উঠতে হবে। সজাগ হতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ