ঢাকা, মঙ্গলবার 23 January 2018, ১০ মাঘ ১৪২৪, ৫ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীর কোটি কোটি টাকার বাড়ির সন্ধান

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা গ্রেফতার নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আতংক ছড়িয়েছে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে। আটকের একদিন পর শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিও) মো. মোতালেব হোসেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উচ্চমান সহকারী মো. নাসির উদ্দিনকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করে ডিবি পুলিশ। এ দিকে রাজধানীর বছিলায় মোতালেব হোসেনের কয়েক কোটি টাকার বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, অপরাধী যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত সহকারী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নাসিরকে কেন ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে আমি জানি না। তারা যদি অপরাধী হয় পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মো. মোতালেব হোসেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উচ্চমান সহকারী মো. নাসিরউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে আগে কোনো ধরনের অভিযোগ পেয়েছেন কি-না জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, না, এর আগে তার বিরুদ্ধে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধরেছে বলে এখন তো আমরা শিওর হলাম। নিশ্চয় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। সেটা কোর্টে প্রমাণ হবে, তার শাস্তি হবে। সেই অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ দিকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, রাজধানীর বছিলা রোডে সাত তলা বাড়ি বানাচ্ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন। পশ্চিম ধানমন্ডির বি ব্লকের ৪ নং রোডের ২৬ নম্বর প্লটে নির্মাণাধীন বাড়িটিই তার। স্থানীয়রা বলছেন, নির্মাণাধীন এই বাড়িটি এখন যে অবস্থায় আছে জমিসহ সেটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। বাড়িটি সম্পন্ন করতে আরও লাগবে অন্তত ১ কোটি টাকা। বাড়িটি দুটি ইউনিটের। প্রতি ইউনিটে দুটি বেডরুম, একটি ডাইনিং রুম, দুটি বাথরুম এবং দুটি বারান্দা রয়েছে। সিঁড়িসহ লিফটের পজিশনও রয়েছে। একদম নিচতলায় গ্যারেজের জন্য জায়গা রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র দোতলায় দুটি ইউনিট সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি তলাগুলো খালি পড়ে আছে। কক্ষের দেয়াল তোলাসহ বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। স্থানীয়রা জানান, এই এলাকার বর্তমান বাজার মূল্য প্রতিকাঠা জমি ৬০ লাখ টাকা। সে হিসেবে মোতালেবের ৩ কাঠা জমির দাম বর্তমানে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। মোতালেব হোসেনের বাড়িটিতে ৭ তলা ফাউন্ডেশন দেয়া হয়েছে। তিনি বাড়িটির নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন অন্তত এক বছর আগে। বাড়িটিতে ইতোমধ্যে আনুমানিক খরচ হয়েছে দেড় কোটি টাকা। আরও অন্তত এক কোটি টাকা খরচ করতে হবে বাড়িটি সম্পন্ন করতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, মোতালেব প্রায়ই বাড়িটিতে আসতেন। নির্মাণকাজের খোঁজখবর নিতেন। তিনি কখনও প্রাইভেট কারে, কখনও রিকশায় চড়ে আসতেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে জানা গেছে, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে ১০ম গ্রেডে সরকারি বেতন পেতেন শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন। তার মূলবেতন ২৮ হাজার ১০০ টাকা। বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে কেটে নেয়ার পর বর্তমানে মাসে মোট ১৩ হাজার ৮৮ টাকা উত্তোলন করেন তিনি। তার ব্যাংক লোন আছে ৬ লাখ টাকা। এ কারণে তার এমন কোটি টাকার ভবন নির্মাণ বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ