ঢাকা, মঙ্গলবার 23 January 2018, ১০ মাঘ ১৪২৪, ৫ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জনরোষ থেকে বাঁচতে সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা সংযোজন করুন

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর আবির্ভাব, বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও জনগণের জন্য আশীর্বাদ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার: জনরোষ থেকে বাঁচতে হলে দ্রুত সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা সংযোজনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে নির্বাচনকালীন একটি সরকার হবে। বর্তমান সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো অস্তিত্ব নেই। যদি নির্বাচনকালীন সরকার আপনি (প্রধানমন্ত্রী) মেনেই থাকেন তাহলে আপনার সংসদ আছে, আপনার দলের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। সেই সংসদে সংবিধান সংশোধন করেন, সেখানে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন একটি সরকারের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। সেইভাবে নির্বাচনকালীন সরকার এখনো সম্ভব সংবিধানে সংযোজন করা। সেটা করে সংবিধান মাফিক নির্বাচন হোক। জনগণের কাছে আপনারা ছেড়ে দেন তারা কাকে পছন্দ করে। খন্দকার মোশাররফ বলেন, নির্বাচন নিয়ে যে পরিস্থিতি তারা সৃষ্টি করছে, দিন যত যাবে শঙ্কা আরো বাড়বে। সরকারের অনতিবিলম্বে ‘হুশ’ হওয়া উচিত। একটি নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যবস্থা করা উচিৎ। নচেৎ জনগণ তাদের ভোটের অধিকার নিজেরা রাস্তায় নেমে তা আদায় করবে। আমরাও জনগণের দল হিসেবে দেশনেত্রীর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সেই আন্দোলনে সেই সংগ্রামে থাকবো। আমাদের সেই দাবি আদায় করে ইনশাল্লাহ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশে হবে। সরকারের চতুর্থ বর্ষপূতির দিনে জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার হবে। সেই সরকারের অধীনে একাদশ নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার মোশাররফ বলেন, উনি (ওবায়দুল কাদের) বলেছেন, আমরা নাকী নির্বাচনকালীন তিনটি সরকারের কথা বলি। তারা এখনো পরিষ্কার নয়। আমরা নির্বাচনকালীন তিনটি সরকারের কথা বলি নাই। পরিষ্কারভাবে আমরা বলেছি, নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে সেটা যেই নামেই হোক। এই সরকারটি নির্বাচন কমিশনকে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য সহায়তা করবে। সেই সহায়তা করার জন্য একটি সহায়ক সরকার হবে। এই সরকারের চরিত্র হবে নিরপেক্ষ চরিত্র। নির্বাচনকালীন সময়ে তাদের কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়টি নিয়ে সরকার জনগনকে ‘বিভ্রান্ত’ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার চেয়েছি। আমাদের নেত্রী সেই সরকারের (নির্বাচনকালীন সরকার) একটা রূপরেখা উপযুক্ত সময়ে দেবেন। সেই রূপরেখা নিয়ে আমরা জনগণের কাছে যাবো এবং তার স্বপক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য আমরা আমাদের কর্মসূচি দেবো। বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে ‘দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না’ বলেও হুশিয়ারি দেন খন্দকার মোশাররফ। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর আর্বিভাব, বাংলাদেশ অবরুদ্ধ ও জনগনের জন্য আর্শিবাদ’ এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, শাহ মো. আবু জাফর, আবুল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ