ঢাকা, মঙ্গলবার 23 January 2018, ১০ মাঘ ১৪২৪, ৫ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহরাস্তির প্রবাসী বাবুল কুয়েতে ৮ মাস যাবৎ নিখোঁজ ৫ সন্তান নিয়ে স্ত্রী খোদেজার হাহাকার

 

শাহরাস্তি (চাঁদপুর) সংবাদদাতা : চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার কুয়েত প্রবাসী বাবুল ৮ মাস ধরে পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তার স্ত্রী ৫ সন্তান নিয়ে অসহায় দিনাতিপাত করছেন। তার খোঁজ পেতে স্ত্রী খোদেজা বেগম উদ্দেশ্যহীন ছুটাছুটি করছেন। জানা যায়, উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের আহাম্মদ নগরের রশিদ ম্যানেজারের বাড়ির মৃত সিরাজুল হকের ছেলে ওমর ফারুক বাবুল (৪২) প্রায় ২০ বছর যাবৎ কুয়েত হাসাবিয়া শহরে চাকুরী করে আসছেন। কয়েক বছর পর পর তিনি দেশে আসা যাওয়া করতেন। গত বছর তিনি ছুটিতে আসার পর ১২ মার্চ আবার কুয়েতে চলে যান। তার পরিবারের সাথে সব সময় মোবাইল ফোনে কথা হতো। গত ২৩ আগস্ট তার স্ত্রী খোদেজা বেগমের সাথে তার সর্বশেষ কথা হয়, এর পর থেকে তার পরিবারের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ না হওয়ার পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে বাবুলের স্ত্রী খোদেজা বেগম জানান, প্রায় ৮ মাস যাবৎ তার স্বামীর সাথে তাদের কোন যোগাযোগ নেই, তিনি কেমন আছেন, কি ভাবে আছেন নাকি কোন বিপদে পড়েছেন কোন বিষয়েই তারা জানেন না। পরিবারের ৫ সন্তান নিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন। সন্তানরা তাদের বাবার কথা মনে করে কান্নাকাটি করে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, বাবুল কুয়েতে তার ভাগীনা সোলেয়মানের সাথে থাকতো, সে নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন পর সোলেয়মান দেশে আসে। বাবুলের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বাবুল জেলে রয়েছে বলে জানান। বাবুলের স্ত্রী আরও বলেন, সোলেয়মানের সাথে বাবুলের লেনদেন রয়েছে, বাবুলের নিখোঁজের ব্যাপারে সোলেয়মান জানতে পারে। এ ব্যাপারে বাবুলের ভাগিনা মৃত নুরুজ্জামানের পুত্র সোলেয়মানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বাবুল কোথায় রয়েছে তিনি জানেন না। তবে জেলে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, তার মামা বাবুল সন্ত্রাসী তেজারী গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত ছিল তা সবাই জানতো। বাবুল নিখোঁজ হওয়ার আগে কুয়েতের হাসাবিয়ার হত্যাকান্ড ঘটে এ ঘটনায় এক রাতে বেশ কয়েক জনকে আটক করে কুয়েতি পুলিশ, আটককৃতদের মধ্যে তার মামা থাকতে পারে বলে সে জানান। তার মামা বাবুল আটক হয়েছে কিনা তার কোন তথ্য তার কাছে না থাকার বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে সে জানায় কুয়েতে এ সংবাদ নেয়া কঠিন, সংবাদ নিতে গিলে তারও বিপদ হতে পারতো। ভাগিনা হিসেবে মামার খোঁজ নেয়া কি কর্তব্যের মধ্যে ছিলো কিনা প্রশ্ন করা হলে সে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। বাবুলের স্ত্রী বর্তমানে তার স্বামীর খোঁজ কি ভাবে নিবে তা ভেবে পাচ্ছে না। কোন পথে আইনের আশ্রয় নিবে তাও তার জানা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ