ঢাকা, বুধবার 23 May 2018, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিজেপিকে ‘বিফ জনতা পার্টি’ বলল কর্ণাটক কংগ্রেস: মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মনোহর পারিকর ও আদিত্যনাথকে নিয়ে কংগ্রেসের ভিডিওর স্ক্রিনশট

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ভারতের কর্ণাটক রাজ্যকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হিন্দুত্ববাদী বিজেপিকে ‘বিফ জনতা পার্টি’ আখ্যা দেয়া হয়েছে। ‘বিফ’ (গরুর গোশত) নিয়ে বিজেপি ‘চূড়ান্ত ভণ্ডামি’ করছে বলেও অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।

কর্ণাটক কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপিকে ‘বিফ জনতা পার্টি’ বলে অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের ভিডিও গ্রাফিক্স পোষ্ট করা হয়েছে। এতে ‘বিফ’ নিয়ে বিজেপি দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে বলে প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছে।

কংগ্রেস প্রচারিত ওই ভিডিও বার্তায় বলা হয়েছে, গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা মনোহর পাররিকার ‘বিফ’ আমদানি করতে চান, যোগী আদিত্যনাথ (উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী) বিফ রফতানি করতে চান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ‘বিফ’ খেতে চান এবং সোম (সঙ্গীত সোম) ‘বিফ’ বিক্রি করতে চান। এসব ঘটনা বিজেপি’র দ্বিমুখীনীতি ছাড়া আর কিছু নয় বলে কংগ্রেস মন্তব্য করেছে।

 

কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, বিজেপি বলে থাকে ‘বিফ’ এবং ব্যবসাকে মেশাবেন না, কিন্তু বিফ ও রাজনীতির সংমিশ্রণে তাদের সম্মতি আছে যা ভণ্ডামির চূড়ান্ত!

কংগ্রেসের প্রচারিত ভিডিও গ্রাফিক্সে গোয়ার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিকারের বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘গোয়ায় প্রতিদিন দু’হাজার কিলোগ্রাম বিফ উৎপাদন হয়, বাকিটা আমরা প্রতিবেশি রাজ্যের কাছ থেকে নিই।’ মনোহর পারিকারের ছবিতে ‘বিফ লাভার’ লেখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সম্পর্কে লেখা হয়েছে ‘আমি বিফ খাবো, আপনি  জিজ্ঞেস করার কে?’

গ্রাফিক্সে কেরালার বিজেপি নেতাদের ‘বিফ’ খাওয়ার ছবি দেয়া হয়েছে। 

এতে মেঘালয়ের বিজেপি নেতা শিবুন লিংডোর ছবি ও মন্তব্যও দেয়া হয়েছে। 

 

কর্নাটক কংগ্রেসের টুইট

ভিডিও গ্রাফিক্সে উত্তর প্রদেশের বিজেপি বিধায়ক সঙ্গীত সোমকে ‘বিফ কারখানার মালিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ছবি দিয়ে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশে সবচেয়ে ভালো তৈরি হয়। সেজন্য আমরা এত বেশি উৎপাদন করি। উত্তর প্রদেশে গরু ইয়াম্মি।  

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আলফান্সো সম্পর্কে লেখা হয়েছে, তিনি বলেছেন- ‘বিদেশি বিফে কোনো সমস্যা নেই, কারণ বিদেশি গাভী পবিত্র নয়।’

বিজেপিকে ‘বিফ লাভার পার্টি’ বলেও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, উত্তর প্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সম্প্রতি কর্ণাটকে এক সভায় বলেছিলেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া নিজেকে হিন্দু বলে থাকেন কিন্তু গরুর গোশত ভক্ষণকারীদের হয়ে সাফাই দেন কেন?

কর্ণাটকের বিজেপি মুখপাত্র এস প্রকাশের অভিযোগ, ‘কংগ্রেস সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ওরা প্রথমে আমাদের সন্ত্রাসী পার্টি বলেছিল, এবার আবার ‘বিফ জনতা পার্টি’ বলছে এসব কী?’

 

ড. ইমানুল হক

‘উত্তর-পূর্ব ভারতে বিফ ইয়াম্মি, অন্যত্র বিফ মাম্মি’

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ও ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ড. ইমানুল হক আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিজেপিকে ভারতীয় জনতা পার্টি না বলে ‘বিদেশি জনতা পার্টি’, ‘বিফ জনতা পার্টি’, ও  ‘বিদ্বেষ জনতা পার্টি’ বলা যেতে পারে। ওই দলটি সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। এরা যা বলে তার বিপরীত কাজ করে। এরা বলেছিল, দেশে গোলাপি বিপ্লব, পিঙ্ক রেভিলিউশন চলছে আমরা তা বন্ধ করে দেবো। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, বিফ রফতানিতে ২০১৩ সালে ভারত ৬ নম্বরে ছিল, ২০১৪ সালে দ্বিতীয় স্থানে গেল, ২০১৬ সালে প্রথম স্থানে যায় ভারত।’  

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে ভারত আগে যা বিফ রফতানি করত এখন তার চেয়ে ৬ গুণ বেশি রফতানি করে। এখন পাকিস্তানে বিফ রফতানিতে যে রাজ্য এক নম্বরে আছে সেটি হলো (বিজেপিশাসিত) উত্তর প্রদেশ। উত্তর প্রদেশে বর্তমান যোগী রাজের আমলে কার্যত ভোগীরাজ চালু হয়েছে। এখানে অজস্র ধর্ষণ হচ্ছে, অসংখ্য মানুষ নিহত হচ্ছে। সেখানে (বিজেপি বিধায়ক) সঙ্গীত সোম হচ্ছেন সবচেয়ে বড় বিফ উৎপাদনকারী ৪ টি সংস্থার মধ্যে একটির মালিক। এ সংক্রান্ত নথি বাজারে চলে আসলেও গণমাধ্যম তা প্রচার করেনি।’  

ড. ইমানুল হক বলেন, ‘উত্তর-পূর্ব ভারতে বিফ ইয়াম্মি এবং অন্যত্র বিফ মাম্মি –এটা হচ্ছে এক ভণ্ডামি। এভাবে ভণ্ডামির রাজত্ব বেশি দিন চলতে পারে না। মানুষ ওদের খেলা ধরে ফেলেছেন। কেরালায় জয়ী হলে ওরা মানুষকে উৎকৃষ্ট বিফ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ওরা গরুর প্রতি কোনো যত্ন নেয়নি, বরং ওরা হল গো-সন্ত্রাসী। এদের আমলে সবচেয়ে বেশি গরু গো-শালায় মারা যাচ্ছে। বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থানের গোশালাতে প্রচুর গরু মারা গেছে। বিজেপি নেতা ও স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী নিজেও গোমাংস খান। কেরালার অনেক বিজেপি নেতাও গোমাংস খান ও কসাইখানা চালান।’  

আগামী ২০১৯ সালে (ভারতে লোকসভা নির্বাচনের সময়) মানুষ বিজেপি’র মিথ্যাচারের জবাব দেবে বলেও অধ্যাপক ড. ইমানুল হক মন্তব্য করেন।-পার্স টুডে

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ