ঢাকা, বুধবার 24 January 2018, ১১ মাঘ ১৪২৪, ৬ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টাইগারদের টানা তৃতীয় জয়

সংক্ষিপ্ত স্কোর : বাংলাদেশ - ২১৬/৯ (৫০ ওভার) জিম্বাবুয়ে -- ১২৫/১০ (৩৬.৩ ওভার) বাংলাদেশ ৯১ রানে জয়ী। রফিকুল ইসলাম মিঞা : ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ ৯১ রানের বড় ব্যবধানে হারায় জিম্বাবুয়েকে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারিয়ে জয় দিয়েই শুরু করেছিল টাইগাররা। নিজেদের পরের ম্যাচে শ্রীলংকাকে ১৬৩ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচ আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করে মাশরাফিরা। গতকাল ফিরতি পর্বে জিম্বাবুয়েকে ৯১ রানে হারিয়ে এক বোনাস পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট এখন ১৫। অপর দিকে বাংলাদেশের কাছে হেরে ফাইনালে উঠার পথটা আরো কঠিন করে ফেলল জিম্বাবুয়ে। কারণ শ্রীলংকার সাথে সমান ৪ পায়েন্ট থাকলেও জিম্বাবুয়ের অবস্থান তিনে। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতলেই ফাইনালে উঠবে লংকানরা। আর হারলেও বাদ পড়বে না দলটি। সে ক্ষেত্রে রান রেটে এগিয়ে থেকে লংকানরাই যেতে পারে ফাইনালে। তবে বাংলাদেশের কাছে শ্রীলংকা বিশাল ব্যাবধানে হারলে ফাইনালের খেলার সুযোগ পাবে জিম্বাবুয়ে। গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় নিয়ে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফিও জয়ের রেকর্ড গড়েছে। এই জয়ের ফলে সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনকে পিছনে ফেলেছেন মাশরাফি। গতকাল দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করা তামিম ইকবাল হন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। গতকাল আগে ব্যাট করে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২১৬ রান করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের সামনে টার্গেট ছিল ২১৭ রান। ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ১২৫ রানে অল আউট হলে বাংলাদেশ জয় পায় ৯১ রানে। জিম্বাবুয়ে খেলতে পারেনি পুরো ৫০ ওভার। ৩৬.৩ ওভারেই অলআউট হয়েছে জিম্বাবুয়ে। জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের সামনে ২১৭ রানের টার্গেটটা কঠিন না হলেও মোটেও সহজ ছিলনা। ব্যাট করতে নেইে এটা সহজেই বুঝতে পারে জিম্বাবুয়ে। কারণ ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৪ রানে প্রথম উইকেট হারানো দলটি ২০ রানে গিয়ে হারায় আরো দুটি উইকেট। ফলে দলীয় ২০ রানে প্রথম তিন উইকেট হারিয়ে ইনিংসের প্রথমেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। দলীয় ১৪ রানে ওপেনার মাসাকাদজকে মাত্র ৫ রানে মাশরাফি ফিরিয়ে দিয়ে দলকে প্রথম উইকেট এনে দেয়। দলীয় ২০ রানে সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে অপর ওপেনার মারে ফিরে যান ৭ রান করে। ব্যাট করতে নেমে দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটস্যান টেইলর শূন্য রানে আউট হলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। টেইলরকে সাকিব ফিরান এলবি আউট করে। দলীয় ৩৪ রানে আরো এককি উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এবার এরভাইনকে ১১ রানে মাশরাফি ফিরান সাব্বিরের হাতে ক্যাচ বানিয়ে। মাশরাফি-সাকিবের আঘাতে ৩৪ রানে চার উইকেট হারিয়েই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। তবে সিকান্দার রাজা আর মুর পঞ্চম উইকেটে জুটি করে দলকে একটু এগিয়ে নেয়। এই জুটি ভাংগার আগে দলটি পৌছে ৬৮ রানে। মুরের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। সাঞ্জামুলের বলে এলবি আউট হওয়ার আগে মুর করেন ১৪ রান। ওয়ালার নেমে রানের খাতা খোলার আগে বিদায় নিলে ৬৮ রানে দলটি হারায় ৬ষ্ঠ উইকেট। তবে সপ্তম উইকেট জুটিতে সিকান্দার রাজা ক্রেমারকে নিয়ে দলকে নিয়ে যায় ৯৫ রানে। রুবেলের বলে এলবি হওয়ার আগে ক্রেমার করেন ৩ রান। তবে দলকে শতরানে নিয়েই মাঠ ছাড়েন সিকান্দার রাজা। দলীয় ১০৭ রানে সিকান্দার আউট হলে আর বেশদিূর যেতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের স্কোরটা থেমে যায় ১২৫ রানে। সিকান্দার রাজা করেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রান। ফলে বাংলাদেশ জয় পায় ৯১ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে সাকির ৩টি, মাশরাফি, সাঞ্জামুল আর মোস্তাফিজ নেন ২টি করে উইকেট। এর আগে, মিরপুর স্টেডিয়ামের টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই আউট হন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। ৭ বলে ১ রান করে কাইল জার্ভিসের শিকার হন বিজয়। ইনিংসের প্রথমে উইকেট হারিয়ে ওয়ানডাউনে ব্যট করতে নামা সাকিবকে নিয়ে সর্তকতার সাথে ব্যাট চালান ওপেনার তামিম। তাই রান তোলার গতিও ছিলো কিছুটা কম। তবে দলের স্কোর তিন অংকে পৌঁছে দিতে পেরেছেন এ জুটি। দলকে শতকে পৌঁছাতে গিয়ে হাফ-সেঞ্চুরির করেছেন তামিম-সাকিব দুজনেই। তামিম ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪১তম ও সাকিব ৩৭তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান। হাফ-সেঞ্চুরির করার পর বেশি দূর যেতে পারেননি সাকিব। ৬টি চারে ৮০ বলে ৫১ রানে থামেন তিনি। দলীয় ১১২ রানে সাকিবের বিদায়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন তামিম। কিন্তু বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হন তারা। এই জুটিতে ৩৫ রান আসার পর বিচ্ছিন হন মুশফিকুর। ১টি ছক্কায় ২৫ বলে ১৮ রান করেন মুশি। মুশফিকুরের বিদায়ের পর যাওয়া আসার মিছিল শুরু করে বাংলাদেশের পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ১৭০ই রানে অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এসময় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২, সাব্বির রহমান ৬, নাসির ২, মাশরাফি শূন্য রানে সাজ ঘরে ফেরেন। আর দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রানে থামেন তামিম। তামিমের বিদায়ে দ্রুত গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়ে বাংলাদেশ। তবে সেটি হতে দেননি শেষ তিন ব্যাটসম্যান সানজামুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন। সানজামুল ১৯ রান করে ফিরলেও, মোস্তাফিজুর ১৮ ও রুবেল ৮ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। ফলে ২১৬ রানের ইনিংস গড়তে পাওে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার ৪টি ও জার্ভিস ৩টি উইকেট নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ