ঢাকা, বুধবার 24 January 2018, ১১ মাঘ ১৪২৪, ৬ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় ১৩০ গ্রাম আদালতে ২৪২৬ মামলা

খুলনা অফিস : খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার ১৬টি উপজেলার ১৩০টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে গেল নবেম্বর পর্যন্ত ২৪২৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬৫০টি। খারিজ, বাতিল ও উচ্চ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে ২৫৩টি মামলা। বর্তমানে এসব আদালতে ৫২৩টি মামলা বিচারাধীন ও অপেক্ষমাণ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগের মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার ১৩০টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনার ৬টি উপজেলার ৪১টি ইউনিয়ন, বাগেরহাটের ৬টি উপজেলার ৪২টি ইউনিয়ন এবং সাতক্ষীরার ৪টি উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। এসব ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে দায়ের হওয়া দুই হাজার ৪২৬টি মামলার মধ্যে সরাসরি ইউপিতে দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা দুই হাজার ১৯৭টি। বাকিগুলো আদালত ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত। এর মধ্যে দেওয়ানী মামলা এক হাজার ২৫২টি এবং ফৌজদারী মামলা এক হাজার ১৭৪টি। এসব আদালতে সেবা গ্রহীতার সংখ্যা তিন হাজার ৩শ’ জন। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে এক হাজার ৩৮৭টি এবং ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে এক কোটি ৪৪ লাখ ২২ হাজার ২২৩ টাকা।
এই সূত্র জানান, গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য খুলনার ১৩০টি ইউনিয়নে এজলাস স্থাপন করা হয়েছে। গ্রাম আদালত পরিচালনার লক্ষ্যে ৬৫টি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এক হাজার ৪৩৭ ইউপি চেয়ারম্যান, প্যানেল চেয়ারম্যান, ভিসিএ ও সচিবদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৩০টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত সহকারী নিয়োগ এবং গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এসব আদালত নিয়মিত পরিচালনার বিষয়ে নির্দেশনা, বিভাগীয় পর্যায় থেকে মনিটরিং, প্রচারণা বৃদ্ধিকরণ, ইউপির বার্ষিক কর্ম-মূল্যায়নে গ্রাম আদালতকে প্রাধান্য দেয়া এবং বিচার এবং পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, স্বল্প খরচে ও স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার পাশাপাশি নি¤œ আদালতের দীর্ঘ মামলার জট কমানোর জন্য গ্রাম আদালতকে আরো কার্যকর করতে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত যদি কার্যকরী হয় তাহলে ৮০ শাতাংশ মামলা স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করে এর মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ইউএনডিপির পক্ষে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প’র জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়ক সরদার এম আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রাম আদালত কোন প্রকল্প নয় ‘এটি একটি সেবা’ যা সারা দেশে কার্যকরী করা বাংলাদেশ সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য ম্যানডেট। গ্রামীণ জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী গত বছরের ২৫ জুলাই আয়োজিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ২৩টি নির্দেশনার মধ্যে ৯নং নির্দেশনায় গ্রাম আদালতকে সক্রিয়করণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ