ঢাকা, বুধবার 24 January 2018, ১১ মাঘ ১৪২৪, ৬ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শ্রীপুর বাজারে স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ৪৪ লাখ টাকা ও ৭২ ভরি স্বর্ণ লুট

শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা: গাজীপুরের শ্রীপুর থানা থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে দুই পাহারাদার ও এক চায়ের দোকানদারকে বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্নের দোকানে দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা প্রায় আড়াই ঘন্টাব্যাপী ডাকাতি করে নগদ ৪৪ লাখ টাকাসহ ৭২ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। ২০ জানুয়ারী শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার সময় শ্রীপুর সদর বাজারের কাঁচাবাজার রোডের অন্তী অরীন সেন স্বর্নালয়ে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে ১৫/২০জনের একদল ডাকাত ধারালো রাম দা ও বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শ্রীপুর ২নং ওয়ার্ডের মৃত জলধর সেনের পুত্র দীপক সেনের মালিকানাধীন অন্তী অরীন সেন স্বর্ন শিল্পালয়ের শার্টারের তালা কেটে ভিতরে ঢুকে। এসময় ডাকাতরা দোকানের তিনটি সিন্ধুক ভেঙ্গে ৭২ ভরি স্বর্ন ও নগদ ৪৪ লাখ টাকাসহ প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুটে নেয়। ডাকাতরা বাজারের পাহারাদার আব্দুল খালেক (৬৫), আলাল উদ্দিন (৫২) ও চায়ের দোকানদার আলী হোসেন (৫৫) কে এক এক করে গামছা ও রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘটনাস্থলের অনতিদূরে ফেলে রাখে। এদিকে ডাকাতির ঘটনা দেখে দোকান মালিক দীপক অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রোববার সকালে শ্রীপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শ্রীপুর বাজার ব্যবসায়ী নিরাপত্তা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুহুল আমীন খান রতন জানান, প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী তিনটি সিন্ধুক ভেঙ্গে ডাকাতির ঘটনা শ্রীপুর বাজারে কখনো হয়নি। দোকান মালিকের ভাই সজীব দে জানান, তার ভাইয়ের কাছে এলাকার অনেক মানুষ বিশ্বাসের কারণে টাকা পয়সা ও স্বর্নালংকার জিম্মায় রাখতো। আবার অনেকে স্বর্নালংকার বন্ধক হিসেবে তার কাছে গচ্ছিত রেখে টাকা নিত। পাশের স্বর্ন ব্যবসায়ী তপন বণিক জানান, এ ঘটনায় আমরা স্বর্ন ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। স্বর্ন ব্যবসায়ীরা ডাকাতির ঘটনার প্রতিবাদে দিন ব্যাপী শ্রীপুরের সমস্ত স্বর্নের দোকান বন্ধ রাখে। শ্রীপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে কাউকে বেঁেধ রেখে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি হয়নি। তবে ঘটনাস্থলের পাশে পাহাড়াদারদের হাত-পা মুখ বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছিল। এ ব্যাপারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। মালামাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ