ঢাকা, বুধবার 24 January 2018, ১১ মাঘ ১৪২৪, ৬ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফেনী পূবালী ব্যাংক থেকে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলন ॥ মামলার চার্জশিট প্রদান

ফেনী সংবাদদাতা: পূবালী ব্যাংক এসএসকে রোড শাখা থেকে স্বাক্ষর জাল করে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনার আড়াই বছর পর অপরাধীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। দুই আসামীকে অভিযুক্ত করে গত মঙ্গলবার আদালতে চার্জশিট প্রদান করছেন মামলা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলাউদ্দিন। আদালত শীঘ্রই চার্জশিট গ্রহণ করে বিচারকর্য শুরু করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মামলার তদন্তকারি সূত্র জানায়, এসএসকে সড়কের কাজী প্লাজায় মেঘনা লাইফ ইন্সুরেন্স লি: ফেনীর জোনাল অফিসের ক্যাশিয়ার সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের মাইজবাড়ীয়া গ্রামের মো: তাজুল ইসলাম ভূঞার ছেলে মো: জহিরুল ইসলাম ভূঞা (৩৫) ও ডেপুটি ম্যানেজার স্বপন কুমার দে যৌথভাবে পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ফেনী শাখায় (চলিত হিসাব নং- ০২৭১১০২০০০৩২১) প্রতিষ্ঠানের পক্ষে টাকা জমা ও উত্তোলন করে। মো: জহিরুল ইসলাম ভূঞা ও তার ভাই হামিদুল ইসলাম ভূঞা ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল পূবালী ব্যাংক লিমিটেড হইতে ডেপুটি ম্যানেজার স্বপন কুমার দে স্বাক্ষর জাল করে ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে। ২০১২ সাল হইতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মেঘনা লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের গ্রাহক নিকট হতে আদায়কৃত ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯শ ৬৬ টাকা ব্যাংকের চলতি হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাত করে। ২৪ এপ্রিল কো-অর্ডিনেটর মো: শেখ সাদী চৌধুরী মাইজবাড়ীয়া গ্রামের মো: জহিরুল ইসলাম ভূঞার বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে সে দিতে অস্বীকার করে। পরে ৩০ এপ্রিল মাসে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের কোÑঅর্ডিনেটর মো: শেখ সাদী চৌধুরী সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ বাদী হয়ে মো: জহিরুল ইসলাম ভূঞা ও তার ভাই হামিদুল ইসলাম ভূঞা এবং পিতা তাজুল ইসলাম ভূঞাকে আসামি করে মামলা দায়ের করে।
আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে ৬ মে তৎকালীন ওসি মো: মাহবুব মোরশেদ মামলাটি রুজু করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি তদন্ত করলে স্বাক্ষর জাল করে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের রিপোর্টের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ফেনী মডেল থানার এসআই আলাউদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এসআই আলাউদ্দিন মামলাটির তদন্তে স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আধুনিক প্রযুক্তির শনাক্ত করে এবং জহিরুল ইসলামের স্বাক্ষর প্রদান করছে বলে বিষয়টি তদন্তে বেরিয়ে আসে। জহিরুল ইসলাম ও তার ভাই হামিদুল ইসলাম অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হয়। এ মামলার আসামি মো: জহিরুল ইসলাম ভূঞা ও তার ভাই হামিদুল ইসলাম ভূঞা জামিনে রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ