ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 January 2018, ১২ মাঘ ১৪২৪, ৭ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শ্রীলংকার বিপক্ষে নির্ভার থাকার কোনো সুযোগই নেই -সুজন

স্পোর্টস রিপোর্টার : ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচে জিতেই ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে । শ্রীলংকার বিপক্ষে আজকের ম্যাচটার গুরুত্ব তাই সামান্যই। তবে এই ম্যাচটাকেও ফাইনালের মতোই গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে বলে নির্ভার থাকার কোনো সুযোগই দেখছেন না টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ও শ্রীলংকার বিপক্ষে একটি- তিনটি ম্যাচই বাংলাদেশ জিতেছে বোনাস পয়েন্ট-সহ। কোনো ম্যাচেই পাত্তা পায়নি প্রতিপক্ষ। জিম্বাবুয়েকে দ্বিতীয়বার হারানোর পর গতকাল টিম হোটেলেই সময়  কেটেছে খেলোয়াড়দের। কারণ গতকাল কোন অনুশীলন ছিলনা বাংলাদেশের। তবে হোটেল সোনারগাঁওয়ে খালেদ মাহমুদ সুজন ম্যাচ নিয়ে বলেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হয় নাই এখনো। টুর্নামেন্টে যেহেতু ফাইনাল খেলা আছে, ওটা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভার থাকার কোনো সুযোগই নেই। এরপর আমরা আর  ব্রেক পাব না, কাল  খেললাম, আগামীকাল খেলব, আবার ২৭ তারিখ ফাইনাল। সুতরাং আজকে একটা  ব্রেক দরকার ছিল টিমের। ক্রিকেটের বাইরে থাকার, কিন্তু রিল্যাক্স না।’ খালেদ মাহমুদ বলেন,‘টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচ হারতে চাই না, বড় কথা হলো এটাই। কালকের ম্যাচটা আমাদের কাছে ফাইনালের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। আলাদা একটা ওয়ানডে ম্যাচ। প্রত্যেকটা ম্যাচই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর ফাইনাল তো অবশ্যই ফাইনাল, এ ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ।’ কয়েক বছর ধরেই ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ ‘বড় দল’। খালেদ মাহমুদ সুজন অবশ্য তা মনে করেন না। সুজন  বলেন, ‘আমি এখনও সন্তুষ্ট না। বড় দল হতে আরও অনেক গুণের প্রয়োজন। গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিজেদের প্রমান করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা পারেনি। বড় দলগুলোর টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলে পরের ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিয়ে  খেলে। বড় দল হওয়ার জন্য এ ধরনের সমস্যা দূর করা দরকার।  যেদিন যে কোনও পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো, সেদিনই আমরা বড় দল হয়ে উঠবো।’ গতকাল টাইগারদের অনুশীলন ছিল না, ক্রিকেটাররা বিশ্রাম নিয়েছেন হোটেলে। দুই-এক জন অবশ্য ব্যক্তিগত কাজে বের হয়েছিলেন। টানা তিন জয়ে পুরো দলই নির্ভার। সুজন বললেন, ‘দল যখন ভালো খেলে, তখন সব কিছুই ভালো লাগে। তারপরও আমাদের উন্নতি করার অনেক জায়গা আছে। সবাই অবশ্য নিজের  সেরাটা  দেওয়ার চেষ্টা করছে।’ একটা বিষয়ে অবশ্য সন্তুষ্টি লুকিয়ে রাখতে পারেননি সুজন। টুর্নামেন্টের তিন ম্যাচেই বল হাতে শুরুতে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তাই দারুণ খুশি। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে আমরা নতুন বলে উইকেট পাচ্ছিলাম না। তবে এই টুর্নামেন্টে বোলিংয়ে শুরুটা খুব ভালো হচ্ছে। কাল ২১৬ রান ডিফেন্ড করে দারুণ জয় পেয়েছি। বোলারদের পারফরম্যান্স দেখে ভালো লাগছে।’ চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে এখন পর্যন্ত প্রতিটা ম্যাচেই বোলিংয়ের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে বাংলাদেশের। তিন ম্যাচের প্রতিটাতেই প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যেই সাফল্য ধরে দিয়েছে। প্রথম দশ ওভারের মধ্যে এসেছে একাধিক সাফল্য। নতুন বলে  বোলারদের সাফল্যে দারুণ খুশি টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। খালেদ মাহমুদ বলেন,  ‘আমি মনে করি এটা দারুণ। আগে কথা হতো বাংলাদেশ অল্প রান ডিফেন্ড করতে পারে না। কালকে ২১৬ দারুণভাবে ডিফেন্ড করে আমরা জিতলাম। যখন দেখি ভালো লাগে। অনেকদিন নতুন বলে উইকেট পাচ্ছিলাম না আমরা। নতুন বলে শুরুটা এই টুনামেন্টে খুব ভালো হচ্ছে। টিম যখন ভালো যায় সবকিছুই ভালো লাগে। ফিল্ডিংয়ে তো আমরা সব সময়ই ভালো দল। তরুণ অনেক ভালো ফিল্ডার আছে। দল হিসেবে সবার অংশগ্রহণ অনেক বেশি। আপনি যদি  দেখেন, সাকিবের দুটি রান আউট, সবাই কিন্তু মাঠে  সেরাটা  দেওয়ার চেষ্টা করছে। একটা গ্রুপ বা ইউনিট হিসেবে আমরা মনে হয় এখন পর্যন্ত সেরাটাই করছি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ