ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 January 2018, ১২ মাঘ ১৪২৪, ৭ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অচলাবস্থা নিরসনকে রিপাবলিকানদের বিজয় হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প

‘পরাজয়ের গর্তে পড়েছে ডেমোক্র্যাটরা’

২৪ জানুয়ারি, দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি : পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে অস্থায়ী বাজেট পাসের মধ্য দিয়ে মার্কিন সরকারের ৩ দিনের অচলাবস্থা নিরসনের ঘটনাকে রিপাবলিকানদের বিজয় হিসেবেই দেখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শীর্ষ মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের পৃথক দুইটি বিশ্লেষণেও ট্রাম্পের দাবির সমর্থন পাওয়া গেছে। ট্রাম্প বলছেন, সিনেটে অচলাবস্থা নিরসনের পক্ষে ভোট দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে ডেমোক্র্যাটরা। তার দাবি, ডেমোক্র্যাটরা গর্তে পড়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং গার্ডিয়ান ট্রাম্পের দাবির পক্ষে খোদ ডেমোক্র্যাটদের মুখ দিয়েই যুক্তি হাজির করেছে। সবমিলে অভিবাসন বিতর্কের মৌখিক প্রতিশ্রুতির বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের অস্থায়ী বাজেটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘটনাটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ডেমোক্র্যাটপন্থী ও ট্রাম্পবিরোধী এই সংবাদমাধ্যমগুলোতে।

সিনেটের ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার ও রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককনেলের মধ্যে একটি সমঝোতার মধ্য দিয়েই অবসান হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রায় তিনদিনের অচলাবস্থা। অভিবাসন প্রশ্নটিকে ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য তুলে রেখেই রিপাবলিকান সরকারকে সচল করতে রাজি হয় ডেমোক্র্যাটরা। দলের একাধিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ম্যাককনেল ও অন্যান্য রিপাবলিকান নেতারা সরকারের অচলাবস্থা নিরসনের পর অভিবাসন ইস্যুতে একটি বিতর্কে সম্মত হয়। এই বিতর্কের শর্তেই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তহবিল ছাড়ে সম্মতি দেয়।

 সোমবার সকালে মার্কিন সিনেটে সরকারের ব্যয় নির্বাহের বিলটি পাসের পর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ডেমোক্রেটরা সঠিক সিদ্ধান্তে আসায় আমি আনন্দিত।’ তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ‘যদি এবং সত্যিই যদি আমাদের দেশের জন্য ভালো হয়, তাহলে অভিবাসন নিয়ে আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করব।’ ট্রাম্প টুইটারে লেখেন, ‘শাটডাউন রিপাবলিকানের জন্য বড় জয়, ডেমোক্র্যাটদের জন্য গর্ত। এবার আমি রিপাবলিকান, ডেমোক্রেট, ড্রিমার্স সবার জয় চাইছি । তবে বিশেষভাবে আমাদের মহান সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষীদের জয়-প্রত্যাশী আমি। আলোচনার টেবিলে দেখা হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ তরুণ অভিবাসীদের সামাজিক সুরক্ষায় ওবামা ঘোষিত ‘ড্রিমার কর্মসূচি’ পরিচালনায় বরাদ্দ অর্থ নিয়ে দুই ভাগে ভাগ হয়েছিল সিনেট। ওই কর্মসূচির আওতায় থাকা সাত লাখ তরুণ-তরুণীর ব্যাপারে কোনও স্থায়ী সমাধানকে সমঝোতার শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছিল ডেমোক্র্যাটরা। এ নিয়ে মতানৈক্যের কারণেই ডেমোক্র্যাট সিনেটররা প্রথম ধাপে সমঝোতায় অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে ম্যাককনেলের দেওয়া ভবিষ্যত বিতর্কের মৌখিক প্রতিশ্রুতির বিপরীতেই সরকার সচলে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা অস্থায়ী বাজেট পাসে সম্মত হয়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, ম্যাককনেলের প্রতিশ্রুতি তেমন জোরালো নয়। আর তাতে ড্রিমারদের আইনগত বৈধতা দেওয়ার কোনও নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়নি। তাকে বিশ্বাস করা যায় কিনা খোদ তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসন পরামর্শকরা। ‘সিনেট ঐক্যে উপেক্ষিত অভিবাসন প্রশ্ন’ শিরোনামে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে শার্লি স্টোলবার্গ ও থমাস ক্যাপলান বলছেন, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ভাগ্যের প্রশ্নকে উপেক্ষা করেই সোমবার স্বল্পমেয়াদী বাজেট পাস হয়েছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রিমারদের ভাগ্য ম্যাককনেলের হাতে চলে যাওয়ায় অনেক ডেমোক্র্যাটের মনেও সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের এই নেতাকে তারা বিশ্বাস করেন না। ম্যাককনেল সম্পর্কে ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কামালা হ্যারিস বলেন, ‘সে প্রতিশ্রুতি রাখবে তা বিশ্বাস করা বোকামি হবে।’

নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত শার্লি স্টোলবার্গ ও থমাস ক্যাপলান জানিয়েছেন, সিনেটে থাকা ডেমোক্র্যাট ভোটারদের এক তৃতীয়াংশ, এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ-এর ডেমোক্র্যাট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বাজেট পাসের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ডায়ানি ফেইনস্টেইন তীব্র হতাশা জানিয়েছেন দলের সিদ্ধান্তে। আরেক কংগ্রেসমান লুইস গুয়েতারেজ নিজ দল সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, ‘তারা গর্তবন্দি হয়েছে। নতি স্বীকার করেছে।‘ বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে , সোমবার “গর্তে ডেমোক্র্যাটরা” (উবসড়পৎধঃং ঈঅঠঊউ) ছিল টুইটারের ট্রেন্ডিং-এ। বার্নি স্যান্ডার্স,এলিজাবেথ ওরায়েন, ক্রিস্টেন গিলিব্র্যান্ড, কোরি বুকার আর কামালা হ্যারিসকে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী আখ্যা দিয়ে তারা জানিয়েছে, এরা সবাই বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

হাউসের রিপাবলিকান স্পিকার পল রায়ান অভিবাসন বিতর্ককে ভোটাভুটিতে নিতে নারাজ। ট্রাম্প কী করবেন তা নিয়েও স্পষ্ট কোনও ধারণা নেই কারও। এই বাস্তবতা মেনে ডেমোক্র্যাটদের করা সমঝোতায় ক্ষুব্ধ অভিবাসনের পক্ষে সোচ্চার অ্যাক্টিভিস্টরা। অভিবাসন বিতর্কের রিপাবলিকান প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয়ী তারা।। অনেকে একে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের জনগণের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেও মনে করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ