ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 January 2018, ১২ মাঘ ১৪২৪, ৭ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিরিয়ায় ২৬০ কুর্দি ও আইএস জঙ্গিকে হত্যার দাবি তুরস্কের

সিরিয়ার আফরিনে তুর্কি সেনাবাহিনীর অবস্থান                                                             -ছবি রয়টার্স

২৪ জানুয়ারি, রয়টার্স : সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দি অধ্যুষিত আফ্রিন অঞ্চলে চারদিনের অভিযানে অন্তত ২৬০ কুর্দি যোদ্ধা এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছে তুরস্ক। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তুরস্ক সেনাবাহিনী এ দাবি জানায় বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টাসের।

কুর্দি ওয়াইপিজি গেরিলা ও কথিত ‘আইএস জঙ্গিদের’ বিরুদ্ধে গত শনিবার থেকে দক্ষিণ সীমান্ত লাগোয়া আফ্রিনে ‘অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ’ শুরু করে তুরস্কের সেনাবাহিনী, যা বহুমাত্রিক সংঘাতে জর্জরিত সিরিয়ায় নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের সূচনা ঘটিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আইএসের কথা বলা হলেও আঙ্কারার এই অভিযানের মূল লক্ষ্য কুর্দি ওয়াইপিজি গেরিলারাই।

অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কুর্দিদেরকেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে এরদোয়ান সরকার। তুরস্কের কুর্দিরা আফ্রিনের ওয়াইপিজি গেরিলাদের কাছ থেকে সহায়তা পেয়ে আসছে অভিযোগ সিরিয়ার ভেতর প্রবেশ করে অভিযানটি চালাচ্ছে আঙ্কারা। এ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে বলেও ধারণা পর্যবেক্ষকদের। 

আইএসবিরোধী লড়াইয়ের সময় থেকে আফ্রিনের কুর্দি ওয়াইপিজি গেরিলাদের সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

আফ্রিনে তুর্কি বাহিনীর এ অভিযান নিয়ে গতকাল বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এই অভিযানের মাধ্যমে আঙ্কারা ‘দ্বন্দ্বের সংকেত’ দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

“আমরা তাদের অনুপ্রবেশ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার আহ্বান জানাবো,” বলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা।

ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও তুরস্কের অভিযান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় এরদোয়ান বলেছেন, তার বাহিনী বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সম্ভাব্য সব ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনেরও। তিনি সিরিয়িার সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখ-তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে এরদোয়ানের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।

গত কয়েকবছর ধরে আইএসবিরোধী লড়াইয়ের অন্যতম ক্ষেত্র সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সৈন্যবাহিনী মোতায়েন আছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানের সময় তারা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও সিরীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে আগ্রহী, তবে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরণের পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত। ‘সন্ত্রাসীদের নির্মূলের’ পাশাপাশি এ অভিযানের মাধ্যমে সিরীয় গৃহযুদ্ধের সময় তুরস্কে পালিয়ে আসা ৩৫ লাখ মানুষকে ফেরত পাঠাতেও আঙ্কারা কাজ করছে বলে ইঙ্গিত দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুর।

যুক্তরাষ্ট্র যেন ওয়াইপিজি গেরিলাদের সহায়তা বন্ধ করে, সেটাই আঙ্কারার দাবি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

 “আমাদের দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর,” বলেন মেভলুত।

নেটোর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সৈন্যসংখ্যার দেশ তুরস্কের বাহিনী বিমান হামলা ও আর্টিলারির মাধ্যমে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। একই সময়ে তাদের সৈন্য এবং মিত্র সিরীয় বিদ্রোহীরা উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিক দিয়ে আফ্রিনে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ