ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 January 2018, ১২ মাঘ ১৪২৪, ৭ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিরপেক্ষ সরকার ব্যতিরেকে দেশের জনগণ ভোটে যাবে না

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যতিরেকে দেশের জনগণ ভোটে যাবে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে জাতীয় নির্বাচন যাতে না হয়। সত্যিকার অর্থে যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, তাহলে তারা আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেজন্যই তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে সংবিধান সংশোধন করেছে। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনকালীন সময়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই, সমান সুযোগ চাই। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া দেশে নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করবে না। যতই নিপীড়ন-নির্যাতন করা হোক না কেনো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি থেকে জনগণকে ‘দূরে সরানো যাবে না’ বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউ রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ‘আওয়ামী লীগের চরিত্র’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটেছে তা আওয়ামী লীগের চরিত্র। এটা ছাত্রলীগের নতুন কোনো ব্যাপার না। তারা বহুবার শিক্ষকদেরকে মেরেছে, ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মেরেছে। যখনই তাদের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ডিক্টোরিয়াল অথোরিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে তখনই তাদের হাতিয়ার হয়ে তারা (ছাত্রলীগ) আক্রমণ করেছে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজকে ক্ষমতাসীন সংগঠনটি এই অবস্থা চালু করেছে। এটা শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নয়, সমগ্র দেশে, সমগ্র সমাজে, সমগ্র রাষ্ট্রে তারা জোর করে, মাস্তানি করে, গুন্ডামী করে ক্ষমতা দখল করে থাকতে চায়। এটা সমর্থন দেয়া যায় না, এর অবসান হবেই। এদেশের মানুষ নিঃসন্দেহে তাদেরকে পরাজিত করবে।
প্রক্টরের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামানকে তার কার্যালয়ে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিকেলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই তাকে উদ্ধার করে আন্দোলনকারীদের পিটিয়ে। তারা রড-লাঠি নিয়ে চড়াও হয় বিক্ষোভকারীদের ওপর, ভিসি ভবন থেকে সরিয়ে দেয়ার পরও বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফায় হামলা হয় বলে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ।
ফখরুল বলেন, সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান ছিল, আওয়ামী লীগের দাবিতেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা নিয়ে এসেছিলাম, তা বাতিল করে দেয়া হয়েছে। আজকে তারা দলীয় সরকারের অধীনে জোর দিয়ে নির্বাচন করছে। জোর করেই করছে এবং বিভিন্ন অজুহাত সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, সরকার গণতন্ত্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। জনগণের ভোট দেয়ার ন্যূনতম অধিকারও কেড়ে নিয়েছে। আজকে কথা বলার, লেখার ও সংগঠন করার সুযোগ নেই। রাস্তায় বের হওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আমাদের দলের তরুণ নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিএনপরি এ নেতা বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি যে, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকার চাই। যা ছিল, এ দেশের মানুষ তা গ্রহণ করেছিল। তিনটি নির্বাচন এখানে হয়েছে।
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চক্রান্ত করা হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রতিদিন সারাদেশে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চক্রান্ত হচ্ছে। তারেক রহমানকেও মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তৈমুর আলম খন্দকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীসহ প্রতিদিন নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে একটাই বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। এই অবস্থা চলবে না, এই অবস্থা কখনোই চলবে না।
এই সময়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা শামা ওবায়েদ, আমিনুল হক, মীর সরফত আলী সপু, শাহ নুরুল কবির শাহিন, কাইয়ুম চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম বাবু, চেয়ারপার্সনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে কবরাস্থানের বাইরে ‘আরাফাত রহমান কোকো যুব ক্রীড়া পরিষদ’ ও ‘আরাফাত রহমান স্মৃতি পরিষদের’ যৌথ উদ্যোগে গরীব ও দুঃস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন বিএনপি মহাসচিব। সকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীরা কোকোর কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।
২০১৫ সালে ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কোকো মারা যান। তার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বিএনপির উদ্যোগে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে চেয়ারপার্সনের বাসা ‘ফিরোজা’য় এবং চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিল এবং কবরপ্রাঙ্গনে কোরানখানির আয়োজন করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ