ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 January 2018, ১২ মাঘ ১৪২৪, ৭ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেপরোয়া ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ড

কামাল উদ্দিন সুমন : আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীনদল আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ। হেন কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নেই যার সাথে সম্পৃক্ততা নেই তাদের। দল ক্ষমতায় তাই যেন প্রভাব আর উচ্ছৃঙ্খলতায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে এই ছাত্রসংগঠনটি। বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ছাত্রলীগের। একশ্রেণীর নেতাকর্মীর খুনোখুনি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অপহরণ, ধর্ষণ, শিক্ষক লাঞ্ছনা, প্রশ্ন ফাঁস, অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ নানা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে তারা।
সর্বশেষ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেকটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে । আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এ সময় শিক্ষার্থীদের লোহার রড ও লাঠিশোটা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছে। এর আগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস. এম. জাকির হোসাইন ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের করে নেন। এ দিকে হামলায় কথা অস্বীকার করে উল্টো আন্দোলনকারীদের বিচার চাইলেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।
সূত্র জানায়, দেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের একশ্রেণির নেতা-কর্মীর উচ্ছৃঙ্খলতা যেন থামছেই না। কিছু নেতা-কর্মীর কর্মকান্ডে দেশের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অস্থির। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, অন্তর্দ্বন্দ্ব সংঘর্ষ, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখল-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ারও অভিযোগ উঠেছে অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চার শতাধিকবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। যার বেশিরভাগই ঘটেছে নিজেদের মধ্যে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, অনেক জায়গায় এ সংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের সংঘর্ষের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতাও বিরক্ত।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, ছাত্রলীগের এ পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও তা নিয়ে কেন্দ্র মাথা ঘামায়নি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার দিকে নজর না দিয়ে তারা সকাল-বিকাল গণভবনে গিয়ে বসে থাকছেন। এটি বিভিন্ন জায়গায় ভুল বার্তা পাঠাচ্ছে। এ অবস্থায় ছাত্রলীগে শৃংখলা আনা কষ্টসাধ্য হবে বলেও মনে করেন তিনি। দলের অপর একজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, গৌরবোজ্জ্বল ছাত্র রাজনীতি বর্তমান ছাত্র রাজনীতির কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বর্তমান ছাত্রনেতারা পড়েন না বলেই তারা এ ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন।
রাজনীতি বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর ইমতিয়াজ হোসেন একটি গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষাঙ্গনে যে অবস্থা চলছে, তার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী না করে তাদেরকে আইন শৃংখলা ভঙ্গকারী হিসাবে দেখতে হবে। সংঘর্ষের যে ঘটনাগুলো এতদিন ঘটে আসছে, সেগুলোর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি এমন হতো না।
তিনি বলেন, অনেক জায়গায় নানা উপদলের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আর দলের মধ্যে কোন্দল থাকলে ছাত্র সংগঠনের মধ্যেও কোন্দল থাকবে। ডক্টর ইমতিয়াজের মতে, দলীয় রাজনীতিতে কোন্দল থাকলে ছাত্র রাজনীতিতেও তা ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিককালে যেসব ঘটনা ঘটছে, তা তারই বহিঃপ্রকাশ।
এসব ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা। এসব নিয়ে বিব্রত ছাত্রলীগের অভিভাবক সংগঠন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। এরপরও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে অপরাধীরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তথাকথিত ‘সাংগঠনিক বহিষ্কার’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে তাদের শাস্তি। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক ইউনিটে ছাত্রলীগের কর্মকান্ড সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
এমনকি ফৌজদারি অপরাধ করলেও দেখা যায়, কোনো মামলা হচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে মামলা হলেও গ্রেফতার হয় না আসামিরা। ঘুরে বেড়ায় প্রকাশ্যে। ‘নীরব দর্শক’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বদ্ধমূল ধারণা- ‘অপরাধ করলে কিছুই হয় না।’
এতে ক্রমশই বাড়ছে অপরাধের ঘটনা। ছাত্রলীগের বিতর্কিত কর্মকান্ড নিয়ে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডকেও একাধিকবার বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তবুও লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের- এমন মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের। তাদের প্রশ্ন, তাহলে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? তাদের থামাবেই বা কে?
সাবেক ছাত্র নেতারা মনে করছেন, ছাত্র নেতাদের ছাত্রত্ব থেকে অর্থ-বিত্তের দিকে অধিক মনোযোগী হওয়াই ছাত্রলীগের বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার মূল কারণ। অন্যদিকে বেপরোয়া হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে আইনানুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির স্থাপন করতে না পারায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে নিরুৎসাহিত করা যাচ্ছে না।
তারা আরও বলছেন, দীর্ঘদিন সরকার ক্ষমতায় থাকা এবং বিরোধী দলে রাজনীতি না করার ফলে বর্তমান ছাত্রলীগ শুধু ‘ক্ষমতা’ দেখেছে। ফলে তারা কাউকে পরোয়া করছে না। তাদের আরও অভিমত, শুধু ছাত্রলীগই নয়, ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের একশ্রেণীর নেতাকর্মীর মধ্যেও এ ধরনের অপরাধমূলক প্রবণতা দেখা গেছে।
 দেখা গেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ছাত্রলীগ বেপরোয়া হতে থাকে। তাদের কর্মকান্ডে বিরক্ত হয়ে ২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সূত্র জানায়, গত ৮ বছরে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রায় ৬০ জন নিহত হয়েছেন। এ হিসাব শুধু অভ্যন্তরীণ কোন্দলের। এর বাইরে ছাত্রলীগ কর্তৃক আহত ও নিহত করার হিসাব তো রয়েই গেছে। অপরাধের এ ধারাবাহিকতা থেকে বের হতে পারছে না সংগঠনটি।
গত বছরেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অসংখ্য সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রলীগ। গতবছর ১৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে কক্ষ দখল করতে রাতভর তান্ডব চালায় ছাত্রলীগ। এ সময় এক সাংবাদিককেও মারধর করেন তারা।
এর আগে গত বছরের শুরুর দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ২০টির মতো সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগ। এসব ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পদহীন কর্মীদের তথাকথিত বহিষ্কারের মাধ্যমেই বিচার শেষ হয়।
গত বছর ১৪ জুন টেন্ডার দখলকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হক ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দু’জনই রক্তাক্ত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে চলতি বছরের শুরুর দিকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যার নেপথ্যে ৫১ কোটি টাকার টেন্ডার ছিল বলে ছাত্রলীগ সূত্র জানায়।
এর আগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন গুলিস্তানে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে সংবাদের শিরোনাম হন। গত বছর ১২ জুলাই বুধবার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা দা-কিরিচ ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়।
গত বছর ৮ এপ্রিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থের কয়েকজন অনুসারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। এরপর এ শাখার কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
এ ঘটনায় গতবছর ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় চার ছাত্রলীগ কর্মীকে এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে, সতর্ক করা হয়েছে ছাত্রলীগের সভাপতিকে।
গতবছর ৩০ জুন নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় ছাত্রলীগ নেতা তোফাজ্জলের দাবি করা ৫ লাখ টাকা দিতে না পারায় স্থানীয় কৃষক মুশতাককে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। একইদিন লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রতিপক্ষের হামলায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ তিনজন গুরুতর আহত হন।
গত ১ জুলাই সুনামগঞ্জের দিরাই ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ৪ জুলাই মানিকগঞ্জের শিবালয় সদরউদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের উপসম্পাদক নাজমুল হুদাসহ দুইজন প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন। ৯ জুলাই ঝালকাঠির রাজাপুর কলেজে এক অনুষ্ঠানের আগে ছবি তোলা ও স্থানীয় সাংসদ বি এইচ হারুনের পাশে হাঁটাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। একইদিন বগুড়ার নন্দী গ্রামে ছাত্রলীগ কর্মী রিপনের গুলিতে নিহত হন এক যুবক।
১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি খুব কাছ থেকে দেখেছেন এমন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে ছাত্র রাজনীতি ছিল আদর্শের। আমরা তোফায়েল ভাইদের (তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ) দেখেছি ক্যাম্পাসে হেঁটে আসতেন, কখনও কখনও রিকশায় আসতেন। তাদের দেখতাম একটি শার্ট দিনের পর দিন পরতেন, চপ্পল পরে ঘুরতেন। আর এখন যেভাবে গাড়ির বহর নিয়ে ছাত্রনেতারা চলেন- তখন এগুলো দেখিনি। এগুলো খুবই দৃষ্টিকটু লাগে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটা লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি, সত্যিকারের ছাত্র রাজনীতি নয়। এটা ছাত্রদের ব্যবহারের রাজনীতি। এটা দন্ডনীয় অপরাধ। প্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন থাকতে পারে না। অথচ সব রাজনৈতিক দলই এটা চালিয়ে যাচ্ছে, যা অবৈধ।’
ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ সাংবাদিকদের বলেন, ‘যখনই আমরা কোনো অপরাধের খবর পেয়েছি ব্যবস্থা নিয়েছি। আগামীতেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা অস্বীকার করে সোহাগ বলেন, আন্দোলনকারীরা আন্দোলনের নামে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে। তারা ভিসির ওপর হামলা করেছে। ভাঙচুর চালিয়েছে। আমরা তাদের বিচার চাইছি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন বলেন, ‘ছাত্রলীগ অনেক বড় একটি সংগঠন। অনেক সময় নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা যখনই কোনো সমস্যার কথা শুনেছি, খোঁজ নিয়েছি। কেউ অপরাধমূলক কর্মকান্ড করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। কখনও নিজেরা ছুটে গিয়েছি, কখনও প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। কখনই কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় ছাত্রলীগ যদি কোনো অন্যায় করে থাকে, তাহলে ছাত্রলীগকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। এ কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি এ কথাও বলেন, যাঁরা ফটক ভেঙে ভিসির কার্যালয়ে ঢুকেছেন, তাঁদেরও শাস্তি হওয়া উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ