ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 January 2018, ১২ মাঘ ১৪২৪, ৭ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আজ তফসিল ॥ ১৮-২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

সংসদ রিপোর্টার: দেশের একুশতম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে এ কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)  কেএম নূরুল হুদা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে এরই মধ্যে ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য জাতীয় সংসদের কাছে সদস্যের (এমপি) তালিকা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক এ পদে নির্বাচনে এমপিরাই ভোট দিয়ে থাকেন। কেউ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করতে চাইলে কোনো সংসদ সদস্যের সমর্থনেই মনোনয়ন নিতে হয়। আর সিইসি সে নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার ভূমিকা পালন করেন।
সিইসি’র সঙ্গে বৈঠকের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ অধিবেশন চলাকালে যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়, তাহলে স্পিকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে। এরজন্য মঙ্গলবার আমাকে চিঠি দিয়ে সময় চাওয়া হয়েছিল। সে আলোকে বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ একটি প্রতিনিধি দল দেখা করেন।
স্পিকার বলেন, ইসির প্রস্তাবিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনসহ এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ৩৪৮ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। আমরা এই ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছি। এই সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনগত বাধ্যবাধকতার একটা অংশ হিসেবে আমরা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনগতভাবে স্পিকারের কিছু নির্দেশনা থাকে, সেটা নিয়েছি।
তিনি বলেন, এখনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার কমিশনের বৈঠকে শিডিউল চূড়ান্ত হবে। সেটা সংসদ সচিবালয়কে জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া, সেদিন বিকেল ৩টায় তফসিল ঘোষণা করা হবে।
এদিকে সংসদ অধিবেশন চলাকালেই প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর দফতরে গিয়ে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের এ পদে শপথ গ্রহণ করেন।
সংবিধান অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট করতে হবে ইসিকে।
২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের তারিখ ছিল ২৯ এপ্রিল। সে বছর ৯ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২১ এপ্রিল ছিল মনোনয়নপত্র জমা, ২২ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বাছাই ও ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করার শেষ সময়। কিন্তু অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিনই আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আর ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
ডিসিসি নির্বাচন করতে না পারায় ইসি ব্যর্থ নয় - সিইসি
আইনগতভাবে নির্বাচন কমিশন ডিএনসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ নয়। আমরা আইনগতভাবে তফসিল ঘোষণা করেছি। কিন্তু আদালত যদি কারও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু করে থাকেন, তাহলে ইসির কিছু করার নেই।’
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘স্থগিতাদেশের সত্যায়িত কপি আমরা পেয়েছি। আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’
তফসিল ঘোষণার সময় অনেকে বলেছিলেন, আইনি জটিলতা রয়ে গেছে। তা নিরসন না করেই ইসি তফসিল দিয়েছে, এর দায় ইসির কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে কেএম নুরুল হুদা বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে ইসির তিনটি কাজ। সেগুলো হলো, নির্বাচন করা, তফসিল ঘোষণা করা। আরেকটা হলো, নির্বাচনের কেন্দ্র ঠিক করা। সীমানা নির্ধারণ করা, কখন নির্বাচন হবে, সেগুলো ঠিক করা। এগুলো ঠিক করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইসি নির্বাচন আয়োজন করে।’
সিইসি দাবি করেন, ‘ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। ভোটার তালিকা ঠিক আছে।’
এ জটিলতার কারণে স্থানীয় সরকার বিভাগ দায়ী কিনা এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগের বক্তব্য না শুনে তাদের দোষারোপ করা যায় না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ