ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 January 2018, ১২ মাঘ ১৪২৪, ৭ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের মিছিলে হামলা ছাত্রলীগের

চট্টগ্রাম অফিস : গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের প্রতিবাদ মিছিলে দুই দফা হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। পর পর দুই দফা হামলায় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের আটজন আহত হয়। চবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি বাম সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে এই প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়েছিল।
প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা জানায়, আমরা বেলা ১১টার দিকে চাকসু থেকে মিছিল নিয়ে বের হই। যখন আমরা প্রক্টর অফিসের সামনে যাই তখন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ওমর ফারুকের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মী জিসান, জুয়েল, রিসাতসহ আরও অনেকেই আমাদের ওপর রড, রামদা, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন। আমাদের ব্যানার কেড়ে নেয়। এতে কয়েকজন আহত হয়। সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এই হামলার ঘটনার বিচার চাইতে আমরা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা বেলা তিনটার দিকে প্রক্টর অফিসে যায়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের কাছে ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন নেতা-কর্মী আবার আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। প্রথম দফার হামলায় আহতরা হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফজলে রাব্বি, সৈয়দ আইরিন সুলতানা, সায়মা আকতার নিশু ও রিজু এবং ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল। আহত শিক্ষার্থীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অ্যাম্বুলেন্স অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হামলার বিষয়ে চবির প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের রেশ ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ঝামেলা করা যাবে না। হামলার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় যারাই দোষী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু বলেন, শেখ হাসিনা ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যারা স্লোগান দেবে কিংবা বিরূপ মন্তব্য করবে তাদের ছাড় দেয়া হবে না।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিক্ষোভ- ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম জেলা সংসদ ঢাবিতে আন্দলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামস্থ নিউমার্কেট এলাকায় এক প্রতিবাদী ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বক্তারা বলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের আজীবন বহিষ্কার এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের করা মামলা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপচার্য অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালনকালে ছাত্রলীগ কর্মীরা আন্দোলনকারীদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ছাত্র ইউনিয়ন ঢাবি সংসদের সভাপতি তুহিন কান্তি দাসসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা কর্মীসহ শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হয়। উপচার্যের নির্দেশেই ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এহেন আচরণ নজিরবিহীন। বিশ্ববিদ্যালয় কোন অনুগত দাস তৈরির কারখানা নয়, যে তারা যা চাপিয়ে দেবে ছাত্ররা বিনা বাক্যে তাই মেনে নেবে। সভায় বক্তারা আরো বলেন, দেশে আজ হীরক রাজার রাজত্ব চলছে। শিক্ষঙ্গনে সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব এক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকায় ছাত্ররা তাদের কথা বলার অধিকারটুকু হারাচ্ছে। অবিলম্বে ডাকসু, চাকসুসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ দিতে হবে । বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচার ও ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম জেলার সভপতি মু গোলাম সারোয়ার। ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক আতিক রিয়াদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য নাহিদ আল নাহিয়ান, অটল ভৌমিক, চট্টগ্রাম জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যানি সেন, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক শাহরিয়ার রাফি প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ