ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 January 2018, ১২ মাঘ ১৪২৪, ৭ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফুটপাতের সঙ্গে রাস্তাও দখলমুক্ত করতে চায় পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার : ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে আবার মাঠে নামছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তাদের এই কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার অঙ্গীকার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ফুটপাতের সঙ্গে সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদে গুরুত্বারোপ করেছেন। গতকাল বুধবার নগর ভবনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দ্বাদশ বোর্ড সভায় মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, “ফুটপাত ক্লিন করে রাখার জন্য পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা বিশেষ ড্রাইভ দিতে চাই।”
একই সময়ে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধেও অভিযানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “যেসব গাড়ির কাগজপত্র নেই, ফিটনেস নেই, সেসব যানবাহনের বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান চলবে। অপ্রাপ্তবয়ষ্ক, ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকদেরও এ অভিযানের আওতায় আনা হবে।”
এ সময় ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া মেয়রের উদ্দেশে বলেন, “আমরা সহায়তা করব। তবে নট অনলি ফুটপাত, রাস্তাও দখলমুক্ত করতে হবে। ফুটপাত তো গেছেই স্যার, ওপেনলি বলি, রাস্তার একাংশ চলে যাচ্ছে। আমাদের প্রায়োরিটি দিয়ে রাস্তা থেকে উঠাইতে হবে। আমরা প্রতিদিনই আপনাকে ফোর্সের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”
যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম সংক্রান্ত এ সভায় বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল হক ও স্থপতি ইকবাল হাবিব উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ ছাড়াও ডিটিসিএ, বিআরটিএ, বিআরটিসি, জেলাপ্রশাসন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।
সভায় রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে ফ্র্যাঞ্চাইজি গঠনের জন্য একটি কমিটিও করা হয়। মেয়র সাঈদ খোকনকে প্রধান করে ওই কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন ডিএমপি কমিশনার।
পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, উত্তর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, বিআরটিএর প্রতিনিধি, বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক, স্থপতি ইকবাল হাবিব, ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক, বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি হিসেবে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি ঘোষণা করেন মেয়র খোকন। কমিটিতে দুই সিটি করপোরেশনের দুজন কাউন্সিলরকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
এই কমিটি ঢাকার বাস রুটগুলো একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির আওতায় আনতে কাজ করবে বলে জানান মেয়র।
যানজট নিরসনে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন অধ্যাপক শামসুল হক। তিনি বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনে স্থায়ী সমাধানেরজন্য পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। “সবার আগে পথচারীদের জন্য ফুটপাত নিশ্চিত করতে পারলে ঢাকার ৩০ ভাগ ট্রিপ হয়ে যাবে। এছাড়া গণপরিবহনকে কোম্পানির আওতায় আনার মাধ্যমে শৃঙ্খলা আনতে পারলে আরও ৪০ ভাগ ট্রিপ সেটা দিয়ে হয়ে যাবে। এভাবে ধাপে ধাপে এগোলে ৭০ ভাগ ট্রিপ হয়ে যায়।” ঢাকার আশপাশের সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণেরও পরামর্শ দেন তিনি।
রাজধানীর যানজট নিরসনে করিডরভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার পরামর্শ দেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এই সমস্যার সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইকবাল হাবিব বলেন, “রাস্তায় পার্কিং দিলে প্রাইভেটকারের ব্যবহার আরও বাড়বে। এটা বন্ধ করতে হবে। বাস রুটগুলোকে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির আওতায় আনুন। যানজট নিরসনে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ