ঢাকা, শুক্রবার 26 January 2018, ১৩ মাঘ ১৪২৪, ৮ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার : খালেদা জিয়া নির্দোষ এবং নিশ্চিতভাবেই তিনি খালাস পাবেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা। তারা বলেছেন, এ মামলাটি একটি সারবর্তাহীন মামলা। রাষ্ট্রপক্ষ কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি। কোনো এভিডেন্সেই মামলাটি প্রমাণিত হয়নি। খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান বলেন, এই মামলা প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন সম্পূণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেছি। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) নির্দোষ। তিনি নিশ্চিতভাবেই খালাস পাবেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ায় জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার জান্য ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করে আদেশ দেন। এর আগে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে আদালতে পৌঁছান খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা এদিন মামলার দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তাদের আইনজীবী আহসান উল্লাহ। তাকে সহায়তা করেন সৈয়দ মিজানুর রহমান। 

তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তার বক্তব্য শেষে খালেদা জিয়ার পক্ষে আবার রিপ্লাই বক্তব্য রাখেন প্রবীণ আইনজীবী রেজাক খান। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ৩০, ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছেন একই আদালত। আদালত মুলতবী ঘোষণার পর বিকাল ৩টা ২৭ মিনিটের দিকে আদালত চত্বর ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। 

তিনি আদালত থেকে চলে যাওয়ার পর মিডিয়ার সাথে কথা বলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট আ: রেজাক খান। তিনি বলেন, এ মামলাটি একটি সারবর্তাহীন মামলা। রাষ্ট্রপক্ষ কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি। কোনো এভিডেন্সেই মামলাটি প্রমাণিত হয়নি। কুয়েত থেকে আসা অর্থে খালেদা জিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতাও প্রমাণ হয়নি। তাই তিনি এ মামলার সব আসামিকেই সসম্মানে বেকসুর খালাস দেয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান।

অপরদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, তারা ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে এ মামলার আসামিদের দোষ প্রমাণ করতে পেরেছেন। তাই তারা আদালতে কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে এ আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদ- প্রার্থনা করেছেন।

 প্রসঙ্গত, গত ১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এ দিন রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। এরপর ২০, ২১, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩ , ৪, ১০ ও ১১ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্ত উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা। এরপর ১৬ জানুয়ারি শেষ হয় তার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। । মামলায় বিএনপি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তিনজন পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থানের সুযোগ নেই।

এদিকে খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে কঠোর রাস্তায় অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। আদালত প্রাঙ্গনেও প্রবেশ করতে হয় আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কয়েক স্তর নিরাপত্তার জাল পেরিয়ে।  

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় আরও একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

যেভাবে রায়ের পথে জিয়া অরফানেজ মামলা :

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। আদালত সূত্রে জানা গেছে,  প্রায় ১০ বছর এবং ২৩৬ কার্য দিবসে এ মামলার কার্যক্রম শেষ হয়েছে।  ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২৮ দিন ধরে বেগম খালেদা জিয়া ৩৪২ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন। আর ১৬ দিন তার পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী আহসান উল্লাহ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ মামলায় আসামিদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ হয়েছে। আসামিদের শাস্তি দেয়ার মত কিছু নেই। আশা করছি, আসামিরা খালাস পাবেন।

তিনি বলেন, বাবার (জিয়াউর রহমান) নামে ট্রাস্ট গঠন করেছেন তারেক রহমান। ট্রাস্টের নামে জমি কিনেছেন, আবার টাকা ফেরত নিয়েছেন, তাতে দোষের কি হয়েছে? এ ঘটনায় কেউ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হননি, আবার কেউ লাভবানও হননি। যাক ওইদিকে আমি আর যেতে চাচ্ছি না।

আদালত প্রাঙ্গণে গতকাল  সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন দাবি করেন, মামলার খালেদা জিয়া খালাস পাবেন। আব্দুর রেজাক খান বলেন, এই মামলা প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন সম্পূণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেছি। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) নির্দোষ। তিনি নিশ্চিতভাবেই খালাস পাবেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং তথ্যাদির মাধ্যমে এ মামলা আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। ৪০৯ ও ৫০২ ধারায়  আদালতের কাছে আমরা সকল আসামির যাবজ্জীবন কারাদ-ের দাবি করেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ