ঢাকা, শুক্রবার 26 January 2018, ১৩ মাঘ ১৪২৪, ৮ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশের সব কোচিং সেন্টার আজ থেকে পরীক্ষা চলাকালে বন্ধ

 

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), আলিম ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে আজ শুক্রবার থেকে দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। 

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জাতীয় মনিটরিং কমিটির সভা শেষে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোচিং সেন্টার হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আখড়া। এ কারণে পরীক্ষার সাত দিন আগে থেকে এই কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আমরা মরিয়া ও কঠোর। কারণ আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমরা সবদিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। আগে বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নফাঁস হতো, সেটা বন্ধ করেছি। কিন্তু এখন শিক্ষকরাই প্রশ্নফাঁস করছেন। তবে সব শিক্ষক নন, কিছু শিক্ষক এসবের সঙ্গে জড়িত।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ৩০ মিনিট আগে প্রশ্নপত্রের খাম  খোলা যাবে না। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের বলে দেওয়া হয়েছে, টিম করে দেওয়া হবে। তারা দেখে আসবেন খাম খোলা হচ্ছে কি না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, পরীক্ষা চলাকালীন সীমিত সময়ের জন্য এগুলো বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছি। এ বিষয়ে বিটিআরসি’র সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার সব শিক্ষাবোর্ডের ছাত্রছাত্রীরা একই প্রশ্ন পাবে। তিনি বলেন, সারাদেশে শিক্ষার মান যেন একই হয় সেজন্য এসএসসি পরীক্ষায় সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে আলোচনা হয়েছে বিভিন্ন বোর্ডে বিভিন্ন প্রশ্ন থাকার কারণে শিক্ষার মান একইরকম থাকে না। এজন্য শিক্ষার্থীরা এবার একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেবে। 

বৈঠকে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার শেখ নাজমুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

এ দিকে ২৭ ও ২৯ জানুয়ারি চতুর্থবারের মতো স্টুডেন্টস কেবিটেন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

সারাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৭ জানুয়ারি এবং দাখিল মাদ্রসায় ২৯ জানুয়ারি মোট ২২ হাজার ৬৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভোটার সংখ্যা ১ কোটি তিন লাখ ৮৪ হাজার ৩৪৮ জন। 

গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বছর দেশের ৪৮৭টি উপজেলা ও আটটি মহানগরে ২২ হাজার ৬৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৯৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ছয় হাজার ৫৫৭টি দাখিল মাদ্রাসায় ভোট হবে। এক লাখ ৮১ হাজার ১৫২টি পদের জন্য দ্ইু লাখ ৮৩ হাজার ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনে শিক্ষার্থীরাই নির্বাচন কমিশন, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট, পোলিং অফিসার এবং শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করবে। শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকরা সার্বিক সহযোগিতা করবেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর বাস্তবায়ন ও ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ব্যানবেইস।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি মনোনয়ন পত্র আহ্বানের পর ১৬ জানুয়ারি মনোনয়ন পত্র দাখিল, ১৭ জানুয়ারি বাছাই ও বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ, ১৮ জানুয়ারি মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ