ঢাকা, শুক্রবার 26 January 2018, ১৩ মাঘ ১৪২৪, ৮ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশকে ১০ উইকেটে  হারিয়েই ফাইনালে শ্রীলংকা

 

রফিকুল ইসলাম মিঞা : বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হঠাত ছন্দপতন। বলতে গেলে ছোটখাটো একটা সুনামি। ত্রিদেশীয় সিরিজে একের পর এক জয়ে আকাশে উড়তে খাকা টাইগাররা যেন হঠাতই নেমে এলো মাটিতে। ফাইনালের আগে বাংলাদেশ দলের জন্য এটা মোটেও ভালো বার্তা নয়। শ্রীলংকার কাছে বাংলাদেশ হারতেই পারে। কিন্তু যে দলটিকে প্রথম পর্বে ১৬৩ রানে হারিয়েছে, সেই দলের কাছেই ১০ উইকেটে হার। তাও আবার ফানইনালের আগের ম্যাচে ফাইনালের প্রতিপক্ষের কাছেই। এটা মোটেও প্রত্যাশিত ছিল না টাইগারদের কাছে। আগামীকাল এই শ্রীলংকার বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ফলে ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে এখন ক্রিকেট ভক্তদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। কারণ এই ম্যাচের আগে লংকার অধিনায়ক চন্ডিমাল বলেছিলেন বাংলাদেশকে হারিয়েই ফাইনালে যাবে শ্রীলংকা। গতকাল দলটি সেটাই করেছে। বাংলাদেশকে ১০ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আর ফাইনালে একানেই ভয় লংকারদের নিয়ে। এটা নিয়ে বাংলাদেশ ১২ বার হারল ১০ উইকেটে। তবে ঘরের মাঠে এটাই প্রথম ১০ উইকেটে হার। আর শ্রীলংকার বিপক্ষে এটা তৃতীয়বার ১০ উইকেট হার।

ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজে প্রথম থেকেই ফেভারিট ছিল বাংলাদেশ। অবশ্য এই তালিকায় শ্রীলংকারও নাম ছিল। তবে এই দুটি দল যে ফাইনালে খেলবে তা প্রায় সবারই জানা ছিল। হয়েছেও তাই। এই সিরিজে ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এখন শ্রীলংকাই। ফেভারিট হিসেবে বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই ফাইনাল নিশ্চিত করে। আর প্রথম থেকে একের পর এক হারে ফাইনালে উঠতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে লংকানদের। তবে গতকাল শ্রীলংকা যে ভাবে বাংলাদেশকে হারিয়েছে তা সবাইকেই হতবাক করেছে। ফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের দরকার ছিল লংকানদের। কম ব্যবধানেই বাংলাদেশের কাছে হারলেও দলটি খেলতে পারত ফাইনালে। কিন্তু শ্রীলংকা এক সাথে দুটি কাজ সেরেছে এই ম্যাচে। প্রথম পর্বে শ্রীলংকাকে রেকর্ড ১৬৩ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ফিরতি পর্বে সেই বাংলাদেশকে মাত্র ১১.৫ ওভারে ১০ উইকেটে হারিয়ে প্রতিশোধটা ভালোই নিয়েছে লংকানরা। সব চেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো নিজ মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফিতে একহাত রাখা বাংলাদেশের জন্য ফাইনালটা এখন যে অনেক চ্যালেঞ্জের তা মানতেই হবে। প্রথম তিন ম্যাচে টানা জয়ের পর ফাইনালের প্রতিপক্ষ পাওয়াই কঠিন ছিল বাংলাদেরে জন্য। আর সেই সাথে নিজেদের শিরোপার একক দাবিদারও ভাবতে শুরু করেছিল টাইগাররা। কিন্তু ফাইনালের আগের ম্যাচে ঠিকই ঘুম ভাংল বাংলাদেশ দলের। তাই ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে এখন নতুন করে পরিকল্পনা ছাড়া উপায় নেই টাইগারদের।

গতকাল টস জয়ের ভাগ্য পরিক্ষায় কিন্তু ঠিকই এগিয়ে ছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। আর আগে ব্যাট করে বড় স্কোর গড়তেই ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু দলের সামনে যে কি অপেক্ষা করছে তা হয়তো কেউ ভাবতেই পারেনি। অবশ্য পারার কথাও নয়। যে দলকে আগের ম্যাচে ১৬৩ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। সে দলটিকে নিয়ে এতো আর কি ভাবার থাকতে পারে। কিন্তু ক্রিকেটে যে সব সময়ই প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভাবতে হয় এটা আরেকবার প্রামান করল বাংলাদেশ। কারণ লংকানদের বিপক্ষে ব্যট করতে নেমে একের পর এক উইকেট হারিয়েই সেটা বুঝতে পারে বাংলাদেশ।  এ কারনেই বলে ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। আর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অলআউট হওয়ার আগে করতে পারে মাত্র ৮২ রান। দলের পক্ষে মাত্র দুই ব্যাটসম্যান করতে পারে ডারল ফিগারে রান। সাত ব্যাটসম্যানের একক ফিগারে রানের সাথে দুই জন রানের খাতা খুলতেই পারেনি। আর ২৪ ওভারেই অলআউট টাইগাররা। ফলে জয়ের জন্য শ্রীলংকার সামনে টার্গেট ছিল মাত্র ৮৩ রান। এই টার্গেটে জয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে লংকাররা কত কম বড় ব্যবধানে জিততে পারে সে দিকেই বেশি নজর দিয়েছে। আর এখানেই দলটি সফল হয়েছে। কারণ বাংলাদেশকে ১০ উইকেটে হারিয়েই ফাইনালে উঠৈছে শ্রীলংকা। জয়ের জন্য দলটি খেলেছে মাত্র ১১.৫ ওভার। দু-ওপেনার গুনাথিলাকা আর থারাঙ্গা মিলে ব্যাট করতে নেমে কোন উইকেট না হারিয়ে ৮৩ রান করে দলকে জয় এনে দেন। গুনাথিলাকা ৩৫ রানে আর থারাঙ্গা ৩৯ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন। বাংলাদেশের পাচ বোলার মিলে চেস্টা করেও ওপেনিং জুটি ভেংগে একটা উইকেট নিতে পারেনি। এটা বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বন্নি ওভারে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড। এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড ৬ ওভার খেলে ম্যাচে জিতে ছিল ১০ উইকেটে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ করেছিল ৯৩ রান।

গতকাল বাংলাদেশের ৮২ রানের ইনিংসে সর্বচ্চো ২৬ রান ছিল মুশফিকের। এছাড়া ১০ রান করেন সাব্বির রহমান। ব্যাট করতে নেমে লংকার বোলারদের সামনে ৫ ওভারেই বাংলাদেশ হারায় প্রথম উইকেট। লাকমালের বলে বিজয়ের শূন্য রানে বিদায়ের মধ্যে দিয়ে টাইগারদের উইকেট পতন শুরু। ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৫ রানে সাকিব ৮ রান করে রান আউটের শিকার হলেই দলের বিপদের আভাস পাওয়া যায়। আর দলীয় ১৬ রানে তামিমকে ৫ রানে ফিরিয়ে দিয়ে লাকমাল বুঝিয়ে দেন দিনটি শুধুই তার। দলীয় ১৬ রানে তামিম-সাকিবসহ তিন ব্যাটসম্যান আউট হলে বুঝতে বাকি থাকেনা টাইগাররা আর কি করতে পারবে। তবে আসা-যাওয়ার মিছিলে দলের হয়ে মুশফিক আর সাব্বির টিকে থেকে দলের ব্যাটিং বিপর্যয় এগাতে চেস্টা করেছেন। কিন্তু অন্য কোন ব্যাটসম্যান দলের হয়ে দাড়াতে না পারলে ৮২ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা। শ্রীলংকার পক্ষে লাকমাল নেন গুরুত্বপূর্ন তিন উইকেট। আর এতেই ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার উঠে তার ভাগ্যে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ  --৮২/১০ (২৪ ওভার)

শ্রীলংকা  --৮৩/০ (১১.৫ ওভার)

শ্রীলংকা ১০ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সুরাঙ্গা লাকমাল

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ