ঢাকা, শুক্রবার 26 January 2018, ১৩ মাঘ ১৪২৪, ৮ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশে গুমহত্যা সমানে হয়ে যাচ্ছে 

চট্টগ্রাম অফিস : প্রবীণ রাজনীতিবিদ, খ্যাতিমানআইনজ্ঞ ও গণফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডঃ কামাল হোসেন বলেছেন, দেশে গুমহত্যা সমানে হয়ে যাচ্ছে। এটাকে বন্ধ করার ব্যাপারে সরকার  কি বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছেন ? জানতে চাই। দেশ আপনাদের না। দেশ ষোল কোটি মানুষের। গুমহত্যা কেন হচ্ছে? এ ব্যাপারে তদন্ত করার কথা বলা হয়েছে। তদন্ত হয়েছে কী না জানতে চাই। তদন্তের মধ্যে কি পাওয়া গেছে, তদন্তে কাকে দোষারোপ করেছে, কাকে দায়ী করেছে সেটা আমরা জানতে চাই। তিনি গত বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে গণফোরাম চট্টগ্রাম জেলা শাখার ‘নাগরিক সংলাপ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এ কথাগুলো বলেন।

 ডঃ কামাল হোসেন বলেন, দেশের পুঁজি লুটপাট হচ্ছে। সোনালী ব্যাংকের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। আর অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোন টাকাই না। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ডঃ কামাল হোসেন বলেন, ‘আপনি শিক্ষিত, আপনি গুণী। আপনার কাছে এটা কোন টাকা না, এই টাকার গুরুত্ব নাই। কিন্তু আমার কাছে আছে। জনগণের কাছে আছে। এই টাকা যদি পাচার হয়, তা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া সরকারের দায়িত্ব কর্তব্যবোধের মধ্যে আছে? এই দায়িত্ব কর্তব্য কি পালন করেছেন?

তিনি আরো বলেন, বেসিক ব্যাংকের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এটা পুনরুদ্ধারে কি কোন বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে? যদি নিয়ে থাকেন আমাদেরকে জানান। তদন্তের প্রেক্ষিতে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে আমাদের জানান। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি পাচার হয়েছে। এটার জন্য দেশে বিদেশে আইনানুগ কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানান। কি মাপকাঠিতে একজনকে ব্যাংক দেয়া হচ্ছে জানতে চাই। রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দেয়া হচ্ছে। সেখানে কি কি বিষয় বিবেচনা করা হয়, হয়েছে সেটা জানতে চাই। উত্তর না পেলে দাবি কিভাবে আদায় করতে হয় জানি। সন্তোষজনক উত্তর না দিলে আপনাদের ব্যর্থ বলে ঘোষণা করা হবে। তার আগে সময় দিচ্ছি। কেন ব্যর্থ ঘোষণা করবো না বলেন।

 ডঃ কামাল হোসেন বলেন, ‘মহামান্য মন্ত্রীসাংসদরা। আপনারা কি করেছেন, জনগণ জানতে চায়। আপনারা স্বীকার করেন জনগণ মতের মালিক। স্বীকার করলে কালকে পত্রিকায় দেখতে চাই, স্বীকার করা হয়েছে। তা না হলে প্রত্যেক জেলায় মিটিং করে দাবি করবো, আপনারা সেটা স্বীকার করেন না। আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করুন, জনগণ ক্ষমতার মালিক। না হয় একটা ভুল ধারণা হচ্ছে, জনগণ অসহায়। তিনি আরো বলেন, দেশের জনগণ হচ্ছে ক্ষমতার মালিক। দেশের ষোল কোটি মানুষকে মালিকের মর্যাদা দেয়া হয়েছে সংবিধানে। সংবিধানের সাত নম্বর অনুচ্ছেদে আছে, দেশের জনগণ হল ক্ষমতার মালিক।  

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে ঘাতকরা হত্যা করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ নিয়ে বলতে বাধ্য হচ্ছি, আর আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করছে। এই দায়িত্ব তাদের কে দিয়েছে? কেউ দেয়নি। বঙ্গবন্ধু কোন দলের নয়। কোন দলের পিতা নয়। তিনি সবার। তিনি জাতির পিতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে দুইটা মন্ত্রী আছে। অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন রাবিশ এবং শিক্ষামন্ত্রী হচ্ছেন হবিশ। এদের মোমের বাতি বানিয়ে রাস্তায় রাখার প্রস্তাব করছি। কারণ, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেখবে, এদের একজন শিক্ষাকে এবং অন্যজন অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছেন। হবিশ তো উচ্চ শিক্ষার দ্বার বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষাকেও ধ্বংস করেছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ভয় পায় দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের দলের এই অবস্থা কেন? ওয়াশিংটনের রাডারে নাকি ধরা পড়েছে আগামী ২১ বছর ক্ষমতায় থাকবেন। এরশাদ পারেনি। পতনের আগের দিনও এরশাদ মনে করেছিলেন ক্ষমতা দীর্ঘ হচ্ছে। পারেননি। বিএনপিও চেষ্টা করে পারেনি। আমরা করতে দেইনি।

 তিনি ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকা-ের সমালোচনা করে বলেন, পাকিস্তান আমলে এনএএসএফ’র গু-ামি দেখেছি। এখন দেখছি ছাত্রলীগের। ছাত্রলীগ কি সরকারের বাহিনী? তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্তাক্ত করেছে। নারীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। নারী নেত্রী চুপ কেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় লোকদেরকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আজ মেধার মূল্য নাই।

গণফোরাম নগর কমিটির সভাপতি মো. মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আও ম শফিকুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি আবদুল মোমেন চৌধুরী, উত্তর জেলা সভাপতি রতন ব্যানার্জী, আদিল আহমেদ মজুমদার, নগরের সাধারণ সম্পাদক রণজিত শিকদার, মহিলা সম্পাদিকা নীলিমা বড়ুয়া ও ডাঃ আলাউদ্দিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ