ঢাকা, শুক্রবার 26 January 2018, ১৩ মাঘ ১৪২৪, ৮ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেনাপোল বন্দরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দল শ্রমিকের মধ্যে সংঘর্ষ

বেনাপোল সংবাদদাতা: বেনাপোল স্থলবন্দরে আধিপত্য বিস্তারকে  কেন্দ্র করে আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুইদল বন্দর শ্রমিকের মধ্যে সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও  গোলাগুলির ঘটনায়  দুই জন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। 

বন্দর এলাকায় এ ঘটনায় বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল থেকে বন্দরের অভ্যন্তরে মালামাল লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। ফলে শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকা পড়েছে বন্দর এলাকায়। 

দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল স্থলবন্দরের শ্রমিকদের দু’টি গ্রুপ তাদের ন্যয্য মজুরীর দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। গত ডিসেম্বরে বন্দরের শ্রমিক ঠিকাদারী দায়িত্ব পান ঢাকার একজন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তিনি গোটা বন্দরের শ্রমিকদের দায়িত্ব গ্রহন করতে  গেলে বাদ সাধে অপর একটি শ্রমিক সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ে  বন্দরে দু’টি শ্রমিক সংগঠন মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। বন্দর শ্রমিকরা সকালের দিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অহিদের বাস ভবনে গিয়ে তাদের বকেয়া মজুরী দাবি করলে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। পরে অহিদ শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও কেবলমাত্র প্রকৃত শ্রমিকরা বকেয়া মজুরী পাবে এই আশ্বাসে শান্ত হয় শ্রমিকদের একটি গ্রুপ। এর পরপরই প্রকৃত শ্রমিকরা লাঠিশোটা নিয়ে বহিরাগত শ্রমিকদের ওপর আক্রমণ শুরু করে। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মুহু মুহু বোমাবাজি ও গুলি বর্ষন। 

আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় মুহূর্তে বন্দর এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হলেও বন্দরের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। 

বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫ এর সাধারণ সম্পাদক  রাশেদ আলী জানান, বন্দরের ঠিকাদার শ্রমিকদের ঠিকাদারি দায়িত্ব পাওয়ার পর বন্দর শ্রমিকদের ইউনিয়ন দখল করার চেষ্টা করে আসছে। আজ সকালে কোন কিছু বোঝার আগেই ঠিকাদারের নেতৃত্বে শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস ভাংচুর করে। 

 বেনাপোল বন্দর শ্র্রমিক ইউনিয়নের অপর একটি সংগঠন-৮৯১ এর সভাপতি কলিম উদ্দিন কলি জানান, ৯২৫ শ্রমিক ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক কদের মজুরী রটাকা বেশ কিছু বহিরাগতদের ভাগ দিয়ে আসছিল। ফলে প্রকৃত মজুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল সাধারন শ্রমিকরা।       

এ ঘটনার পর  শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামানর বাড়িতে সন্ত্রাসীরা কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। 

 বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানান, বন্দরে দু’টি শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রযেছে। তবে বন্দর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ