ঢাকা, শনিবার 27 January 2018, ১৪ মাঘ ১৪২৪, ৯ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইবি ভিসির উপর সন্ত্রাসী হামলা ॥ বিভিন্ন মহলের নিন্দা

ইবি সংবাদদাতা : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের গাড়াগঞ্জ নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের ন্যক্কারজনক হামলায় ভিসি মৃত্যু বিভীষিকা নিজ চোখে দেখেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের এক সাক্ষাতে জানিয়েছেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ভিসির ব্যক্তিগত গাড়ি যোগে ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ-মহাসড়কের গাড়াগঞ্জ নামক স্থানে পৌঁছান। এ সময় রাস্তায় একটি গাছ পড়ে থাকতে দেখে। তখন গাড়ি ড্রাইভার ফরহাদ রেজা সন্ত্রাসী কর্মকা-ের আচ করতে পেরে গাড়ি পিছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেই মুহূর্তে পিছন দিক হতে সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে রামদা দিয়ে ভিসির গাড়ির উপর হামলা করে। সন্ত্রাসীদের রামদার এলোপাতাড়ি আঘাতে গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে যায়। তখন ড্রাইভার গাড়ি দ্রুত সামনের দিকে নিয়ে যায়। পরে ড্রাইভারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিসি গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশে জঙ্গলে আত্মগোপন করেন। ততক্ষণে সন্ত্রাসীরা দূর থেকে টর্চ লাইট মেরে ভিসিকে খুঁজে বের করেন। তখন সন্ত্রাসীরা রামদা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভিসিকে জিম্মি করে গাড়ির কাছে নিয়ে টাকা দাবি করে এবং অকথ্য গালিগালাজ করে। সন্ত্রাসীরা দূরে চলে গেলে ভিসি ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় ভোর পৌনে ৫টার দিকে ক্যাম্পাসে চলে আসেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তব্যরত সাংবাদিকরা ভিসির সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে ভিসি বলেন ‘যখন সন্ত্রাসীরা জঙ্গল থেকে আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে আসছিল তখন আমি আল্লাহর নাম নিলাম । ভাবলাম এখানে আমার জীবনের শেষ দিন। তারা নেমে এসে আমাকে  গালিগালাজ করতে থাকে। তারপর আমার কাছে টাকা দাবি করে। সেখানে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। আমি তখন নিকটস্থ একটি বাড়িতে আশ্রয় নিই। পরে পুলিশ প্রশাসন আমাকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে।’
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি, জিয়া পরিষদ, গ্রীন ফোরাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি ৩টা ৪৬ মিনিটে খবর পাওয়ার পর ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় উপাচার্য মহোদয়কে উদ্ধার করে বাংলোয় নিয়ে আসি। আমি এ বিষয়ের মূল উৎপাটন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।
এ ঘটনায় ঝিনাইদহ শৈলকূপা থানায় জিডির প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আব্দুল লতিফ।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রতন শেখ বলেন, ‘প্রক্টরের ফোন পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে ভিসি স্যারকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি।’
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা শুনেই ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। সেখানে এখনো সাড়াশি অভিযান চলছে। আমরা এ ঘটনাটি  পূর্ব পরিকল্পিত অথবা সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে ধারণা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ