ঢাকা, রোববার 28 January 2018, ১৫ মাঘ ১৪২৪, ১০ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছাত্রাঙ্গনের সন্ত্রাস থামানো যাচ্ছে না কেন?

মোঃ তোফাজ্জল বিন আমীন : বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এখন সংবাদের শিরোনাম। প্রতিনিয়ত তাদের নানা ধরনের আপত্তিকর কর্মকাণ্ড ছাত্র রাজনীতির সুনামকে নস্যাৎ করে দিলেও প্রতিরোধে সরকার বাহাদুরের তেমন কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার মোহে এতটাই অন্ধ হয়ে গেছে যে, দলীয় ছাত্রসংগঠনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পারছে না। তাদের কর্মকা-ের সকল রেকর্ড লিখলে সমাপ্তি টানা সম্ভব নয়। এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করছে না। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ধর্ষণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিপক্ষকে বিতাড়নসহ অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা তারা ঘটিয়ে চললেও টুঁ শব্দ করার সাহস কেউ করছে না। সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অভিভাবকেরাও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের একটি গৌরবোজ্জল সোনালি অতীত ছিল। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬২-শিক্ষা আন্দোলন,’৬৬-এর ছয় দফা ও ১১ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখা সংগঠনটি এখন সকল অপকর্মের হোতা হিসেবে সংবাদের শিরোনাম। ছাত্রলীগের অধঃপতন শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকালেই যাত্রা শুরু করেছে। তাদের অপর্কমে বিরক্ত হয়ে  শেখ মুজিবুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করে বলেছিলেন ছাত্রলীগ পচে গেছে গলে গেছে তাদের দিয়ে কিছু হবার নয়। এই হল ছাত্রলীগের সোনালী অতীত। ছাত্র রাজনীতির গৌরবময় অধ্যায়ে কলংকের তিলক এই দেশে প্রথম ছাত্রলীগই লেপন করেছে। মুজিবের স্বপ্নের ছাত্রলীগ যখন দুঃস্বপ্নে চলে তখন তাদের কাছ থেকে হত্যা, খুন, টেন্ডারবাজি ব্যতীত আর কি আশা করা যেতে পারে?
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে আইভী শামিম ওসমানের সমর্থকরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ধরনের অজস্র ঘটনা সারা দেশে ঘটে চলেছে। ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা যখন প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। অথচ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিনা অপরাধে হামলা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে। নিরীহ মহিলাদেরেকে কুরআন শিক্ষার আসর থেকে গ্রেফতার করতেও কুন্ঠাবোধ করছে না। সরকার বিরোধী মতালম্বীদের যেভাবে দমন করছে তার ছিটেফোঁটাও যদি ছাত্রলীগের ব্যাপারে করা হতো তাহলে ছাত্রলীগ এতটা বেপরোয়া হতো না। কোনো কোনো দেশে এমন আইন চালু আছে যে সব তরুণকেই বাধ্যতামূলকভাবে কিছুদিন সামরিক সার্ভিসে যোগ দিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সে ধরনের আইন না থাকলেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর বাধ্যতামূলক ছাত্রলীগ করতে হয়। নবাগত শিক্ষার্থী হিসেবে কেউ যদি হলে সিট পেতে চায় তাহলে তাকে ছাত্রলীগের মিছিলে যোগ দিতে হয়। আর যদি কেউ যোগ দিতে না পারে তাহলে তাকে কড়া মূল্যের মাশুল দিতে হয়। যেমনটি দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আফসানা আহমেদ। ছাত্রলীগের মিছিলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করায় রোকেয়া হলের ছাত্রলীগ নেতারা তাঁকে হল থেকে বের করে দিয়েছে। কনকনে শীতের মধ্যে সারা রাত হলের বাহিরে অবস্থান করে প্রতিবাদ করেছে যা প্রথম আলো পত্রিকায় মুদ্রিত হয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামে আদনান নামের নবম শ্রেণীর মেধাবী এক ছাত্র স্কুল ছাত্রলীগের প্রথম বলি হয়েছে। দলীয়ভাবে কোনো অনুমোদন না থাকলেও চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্কুলে চলছে ছাত্রলীগের রাজনীতি। স্কুলে ছাত্রলীগের রাজনীতির এক দুঃখজনক অধ্যায় রচিত হলো আদনান হত্যার মধ্য দিয়ে। আদনান হত্যার রেশ কাটতে না কাটতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী গুরুত্বর আহত হন। গত ১৭ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হওয়ার ঘটনায় দোষীদের বহিষ্কার,শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, প্রক্টরের পদত্যাগ ও সাত কলেজের সংকট নিরসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিল। আন্দোলনকারীদের ভাষ্যমতে, তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। সংর্ঘষের ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএস জাকির হোসাইন বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ ভিসি স্যারকে উদ্ধার করতে গিয়েছে। এ সময় অবস্থানরত বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলে আমরা মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি। সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন জাকির হোসাইন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে রক্ষা করার দায়িত্ব ছাত্রলীগের উপর ন্যস্ত করা হয়নি। তাহলে কেন ছাত্রলীগ সেখানে গিয়ে সংর্ঘষে জড়িয়ে গেল তা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি রাখে।
এই সরকারের শাসনামলে ছাত্রলীগ ইতিবাচক সংবাদের শিরোনাম না হলেও খুন, হত্যা, ধর্ষণের মতো জঘন্যতম কান্ড ঘটিয়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। তাদের অতীত ইতিহাস যে খুব বেশি সুখকর তা কিন্তু নয়! এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগ যে তান্ডব চালিয়েছে  তার কিছু অংশ এখানে উদ্ধৃত করা প্রয়োজন। গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে অস্ত্রের মহড়ার জের ধরে সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী তানিম খান খুন হন। গত মঙ্গলবার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে গুলি করে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যা করা হয়। চট্টগ্রামেও দলীয় কোন্দলে ছাত্রলীগ নেতারা খুন হচ্ছেন। একের পর এক খুন হলেও ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। গত ৪২ বছরে ছাত্রসংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ১৬ জন খুন হয়েছে। ২০১৩ সালে টেন্ডারবাজি ও নিয়োগ বাণিজ্যে ছাত্রলীগের সভাপতি,সম্পাদক ও সমর্থকদের সংঘাতে শিশু রাব্বি নিহত হয়। পরের বছরই ছাত্রলীগ কর্মী সায়াদ খুন হন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাফর ইকবালের কান্না ভেজা হৃদয়ের কথা নিশ্চয় পাঠকেরা এখনও ভুলে যাননি। সেদিন ইকবাল সাহেব বলেছিলেন আমার গফায় ফাঁস দেওয়া উচিত। কারণ যে স্লোগান দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনিছি, সেই একই স্লোগান দিয়ে শিক্ষকের উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভিসিকে পিটিয়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিল ছাত্রলীগ। ১৯৭৪ সালের ৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের সেভেন মার্ডারের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ এদেশের ছাত্র রাজনীতির কলংকিত অধ্যায়ের সূচনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দলীয় কোন্দলে আরো চারজন নেতা নিহত হন। ১৯৯৫ সালের ২১ জানুয়ারিতে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জগন্নাথ হলে নিহত হন ছাত্রলীগ নেতা জয়দ্বীপ দত্ত চৌধুরী। ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি রাজশাহী পলিটেকনিকে ছাত্রলীগের হাতে খুন হয় ছাত্রমৈত্রী সভাপতি রেজাউল ইসলাম চৌধুরী। ২০০৯ সালের ৩০ মার্চ ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিহত হন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আসাদ। একই বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে মারা যায় ইসলামের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী ছাত্র আবু বকর। ২০১০ সালের ১৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার হয়ে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া ২০১০ সালের ১২ জুলাই সিলেট এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আজাদ গ্রুপের কর্মী গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী উদয় সিংহকে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একটি অংশ। ২০১০ সালের ১৫ আগস্ট ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হলের তিন তলার ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়  ছাত্রলীগ নেতা নাসিমকে। ২০১১ সালের ৯ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের  শিক্ষাথী ছাত্রলীগের কর্মী জুবায়ের আহমেদ একই সংগঠনের কর্মীদের হামলায় নিহত হন। একই বছরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিহত হয়েছেন যারা তাদের মধ্যে উল্লেখ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু বকর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারুক, সোহেল, শিবির নেতা শরিফুজ্জামান নোমানী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির নেতা মাসুদ বিন হাবিব ও মুজাহিদ। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগের নেতা আবদুলাহ আল হাসান সোহেল মারা যান। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলা থেকে রেহাই পায়নি দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস। ২০১৪ সালের ৩ এপ্রিল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্মম পিটুনিতে মারা যান ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সায়াদ ইবনে মোমতাজ। ২৯ মে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ছাত্র ভর্তিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা সালেহ আহমেদ রাসেল ও জহিরুল ইসলাম গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত হন যুবলীগ নেতা আহসান হাবিব। ১৪ জুলাই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজ দলের নেতাকর্মীদের উপর্যুপরি আঘাতে মারা যান নাঈমুল। ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট রাজধানীতে ছাত্রলীগের ছাত্রসমাবেশ ছিল। সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা আসেন ঢাকায়। সে দিনই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে হত্যা করা হয় নিজ সংগঠনের কর্মী তৌকিরকে। এসব ঘটনার বিবরণ সত্যিই আমাদেরকে মর্মাহত করে। মানুষের জীবন নিয়ে নোংরা রাজনীতি করা মোটেও সুখকর নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন আমরা সবাই। অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমানের হত্যা, খুন, অপহরণের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। তার সাথে নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে ছাত্রলীগের সারাদেশের শিক্ষাঙ্গনের নৈরাজ্যতা। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী তাণ্ডবে জর্জরিত দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলো। অস্ত্রের ঝনঝনানিতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন। তাদের সন্ত্রাসী তা-বের হাত থেকে রেহাই পায়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পাঠকদের মনে থাকার কথা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সময় দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন, ছাত্রলীগের মধ্যে শিবিরের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। ভালো কথা। আমরাও মনে করি সৈয়দ আশরাফ সাহেব যথার্থই বলেছেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে সব জায়গাতেই যদি শিবিরের অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে যায় তাহলে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে দিতে বাধা কোথায়? এদের মধ্যে এখন আদর্শের ছিটেফোঁটাও নেই তা বুঝার জন্য বড় পন্ডিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাদের নারকীয় হামলায় এটা স্পষ্ট যে, ছাত্রলীগের কর্মীরা মুখে যতই জয় বাংলা বা জয় বঙ্গবন্ধু বলুক না কেন, বাস্তবে তারা কোনো আদশর্ই ধারণ করে না। এ ধরনের অঙ্গসংগঠন টিকিয়ে রাখবেন কিনা তা আওয়ামী লীগ সরকারের ভেবে দেখা উচিত। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কঠোরভাবে এখনই দমন করা প্রয়োজন। মানুষের প্রত্যাশা সরকার অপরাধী কে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ