ঢাকা, মঙ্গলবার 30 January 2018, ১৭ মাঘ ১৪২৪, ১২ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দশম সংসদ আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত

সংসদ রিপোর্টার: বর্তমান দশম জাতীয় সংসদকে জনকল্যাণকর ও অর্থবহ সংসদ বলে মন্তব্য করেছেন সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিরা। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতীক দশম সংসদ। বর্তমান সংসদ গঠিত না হলে তৃতীয় শক্তি এসে গণতন্ত্রকে হত্যা করত। এই সংসদ গঠনের সময় বিএনপিসহ কেউ কেউ বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু এই সংসদকে আন্তর্জাতিক বিশ্ব স্বীকৃতি দিয়েছে। আইপিইউ ও সিপিএ’র মতো দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় আমাদের এই সংসদের দু’জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কাজেই এই সংসদ আন্তর্জাতিকভাবেই স্বীকৃত।
জাতীয় সংসদের চারবছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সোমবার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ দাবি করেন। মাগরিবের নামাজের বিরতির পর এনিয়ে অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন সংসদের চিফ হুইপ আ. স. ম ফিরোজ। এরপর একে একে বক্তব্য রাখেন- বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আব্দুল মতিন খসরু, বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনএফ প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম আজাদ, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী প্রমুখ।
সভাপতির চেয়ারে বসা ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, আমার দীর্ঘ জীবন পরিক্রমায় যে কয়টি সংসদ দেখেছি তার মধ্যে নবম সংসদ এবং দশম সংসদ অত্যন্ত অর্থবহ। এর চেয়ে অর্থবহ সংসদ আগে কোনো দিন দেখিনি। বিশেষ করে দশম সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছি এটি একটি বিরল ইতিহাস। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল বলেই দেশে গণতন্ত্র ও সংবিধান সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই দশম সংসদ শুধু বাংলাদেশে নয় সারাবিশ্ব ব্যাপী প্রশংসীত হয়েছে। এই সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন এমপিরা।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই সংসদ খুবই সফল সংসদ। এই সংসদ এরই মধ্যে সফলতা অর্জন করেছে। এখানে বিরোধী দল বিভিন্ন বিষয়ে কথা তুলেছেন, সেই প্রসঙ্গে মন্ত্রীরা জবাব দিয়েছেন। এই সংসদে অনেকগুলো ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সংসদ গঠণের সময় বিএনপিসহ কেউ কেউ বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। প্রশ্ন তুলেছিলেন যারা তাদের কেউ কেউ নিজেরাই দুই একবার বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। যেমন ড. কামাল হোসেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ব এই সংসদকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আইপিইউ ও সিপিএ’র মতো দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় আমাদের এই সংসদের দু’জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কাজেই এই সংসদ আন্তর্জাতিকভাবেই স্বীকৃত।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, সেদিন যদি নির্বাচন না হতো আর এই সংসদ যদি না থাকতো তাহলে দেশের অবস্থা কোথায় যেত ভাবা যায় না। তৃতীয় শক্তি এসে গণতন্ত্রকে হত্যা করে রাজনীতিবিদদের দোষারুপ করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতো। সেদিন নির্বাচন হয়েছিল বলেই সাংবিধানিক ধারা আজও অব্যাহত আছে। আজ গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে কে আসল, কে আসল না এটা তাদেরই দায়িত্ব। ১৯৭০ সালের সাধারন নির্বাচনে ভাসানির দল আসেনি তাতেও কিন্তু নির্বাচন হয়েছিল।
তিনি বলেন, নির্বাচন এমন একটা জিনিস একটা দেশকে স্বাধীনতাও দিতে পারে, গণতন্ত্রও দিতে পারে। কাজেই নির্বাচনের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। কে আসবে না আসবে আমাদের দেখার বিষয় না। বিএনপি’র উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে তারা নির্বাচনী ট্রেন মিস করেছে, আগামিতে ট্রেন মিস করলে ছিটকে পড়বে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামি সংসদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে বলেও মন্তব্য তরেন তিনি।
আলোচনার সূত্রপাত করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ. স. ম ফিরোজ বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যহত রাখার প্রতীক এই সংসদ। এই সংসদ না থাকলে গণতন্ত্র কোথায় যেত? চার বছরে সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেত্রীর উপস্থিতির হার তুলে ধরে তিনি বলেন, এই চার বছরে ৩৪২ কার্য দিবসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩৮৪ দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন, আরো বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ উপস্থিত ছিলেন ২০৪ দিন। অথচ নবম সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া সংসদে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১০ দিন। দশম সংসদের এই চার বছরে ১৩১টি বিল পাস হয়েছে।
নবম সংসদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আসম ফিরোজ বলেন, নবম সংসদে কার্যদিবস ছিল ৪১৮দিন তারমধ্যে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন ৩৩৬ দিন। আর খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১০ দিন। বর্তমান বিরোধী দল সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সংসদে কোরাম সংকট নেই দাবি করে চিফ হুইপ বলেন, অনেকে লেখেন কোরাম হয় না। তার মানে সংসদে এমপিরা উপস্থিত থাকেন না? এটি সঠিক নয়। সংসদে এমপিরা সব সময়ই থাকেন। ‘লবি ইজ দ্যা পার্ট অব দ্যা হাউজ। এখানে মন্ত্রীরা অনেক সময় সংসদের ভেতরে তার দফতরে কাজ করেন। যদি এমনটাই হয় এমপিরা হয়তো উপস্থিতি কম কিন্তু তারা লবিতে থাকেন, তারা মন্ত্রীর রুমে গিয়ে এলাকার জন্য কাজ করেন। কাজেই কোরাম সংকট নেই।
জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, এই সংসদ সব চেয়ে বেশি কার্যকর সংসদ। এখানে আমরা ৫ বার সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছি। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে প্রতিবাদ করেছি। কাজেই বর্তমান সংসদ বেশি কার্যকর। এই সংসদে একটিও অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার হয়নি। সেদিন গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল বলেই এই সংসদ গঠিত হয়েছিল। এই সংসদ হচ্ছে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যহত রাখার প্রতীক।
জাতীয় পার্টির অপর সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, এই সংসদ গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। পুরোপুরি ওয়েস্ট মিনিস্টার সিস্টেমে যেতে না পারলেও এই সংসদ অতীতের সব সংসদের চেয়ে বেশি কার্যকর। আমরা সংসদে সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছি। ‘দিস ইজ দ্যা অনলি ইফেকটিভ পার্লামেন্ট।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সেদিন জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিল বলেই আজকের এই সংসদ। সেদিন বিএনপি নির্বাচনী ট্রেন ফেল করেছে পরবর্তি ট্রেনের জন্য বসে থাকুন। যদি কপালে থাকে ট্রেনে উঠবেন আর কপালে না থাকলে আসতে পারবেন না। সেদিন আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ