ঢাকা, বুধবার 31 January 2018, ১৮ মাঘ ১৪২৪, ১৩ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দাবি আদায়ে এখনও অনড় প্রাথমিক শিক্ষকরা

স্টাফ রিপোর্টার: বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের একদফা দাবি আদায়ে চতুর্থ দিনের মতো আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। জাতীয়করণ না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। দাবি আদায়ে এখনও অনড় প্রাথমিক শিক্ষকরা।
জাতীয়করণের তৃতীয় ধাপে বঞ্চিত হওয়ায় আন্দোলনে নেমেছেন বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা ছয় দিন অবস্থান ধর্মঘট পালনের পর গত শনিবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আ স ম জাফর ইকবাল বলেন, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। অথচ সব শর্ত পূরণ হওয়ার পরও আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়নি। বঞ্চিত করা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয়কে।
তিনি বলেন, মরতে হয় মরবো, তবুও জাতীয়করণের দাবি আদায় না পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না। দাবি আদায়ে আমরা এখনও অনড় রয়েছি। আমরা আশা করি সরকার আমাদের দাবি মেনে নিবে। কারন হিসেবে তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। বিনা মূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা দিচ্ছে সরকার। তাহলে কেন আমাদের জাতীয়করণ করা হবে না।
সংগঠনের মহাসচিব কামাল হোসেন বলেন, শর্ত অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়নি। তালিকাভুক্ত থাকার পরও নানা কৌশলে আমাদের বাতিল করা হয়েছে। আমরা তা মেনে নেবো না। জাতীয়করণ আদায়ে আমরা রাজপথে নেমেছি। দাবি আদায় হওয়া না পর্যন্ত শিক্ষকরা রাস্তায় পড়ে থাকবেন। তবে তাদের বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাচার মত বাচতে চাই। এভাবে আর বেচে থাকা যায় না। একই শিক্ষা ব্যবস্থায সরকার কাউকে জাতীয়করন করছে আবার কেউ রাজপথে এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই আজ রাজপথে অবস্থান নিয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন আমরা কেবল প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেলেই রাজপথ ছাড়বো। অন্য কারো কথা আমরা অনশন ভাংবো না। কারন প্রধানমন্ত্রী আগে আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলে এখনও তিনিই পারেন আমাদের দাবি পূরন করতে।
শিক্ষকরা দাবি করেন, টানা আট দিনের আন্দোলনে এ পর্যন্ত প্রায় ১৪২ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আবারও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। অনেকে আবার শরীরে স্যালাইন লাগিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষক নেতারা বলেন  এখানে মাত্র আমরা ১৪২ শিক্ষক আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। আমরা সকল শিক্ষকদের প্রতিকী হিসেবেই আন্ধোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সাথে সারা দেশের শিক্ষকরা রয়েছেন। প্রয়োজনে সারা দেশের শিক্ষকরা এই আন্দোলনে অংশ নেবেন।
এছাড়াও অসুস্থ হয়ে পড়ায় দুইজন শিক্ষক ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি রয়েছেন। জাতীয় প্রেস ক্লবের সামনে জাতীয়করণের দাবিতে এমপিওভুক্ত ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ব্যস্তময় সড়কের উপর বসে শুয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ