ঢাকা, বুধবার 31 January 2018, ১৮ মাঘ ১৪২৪, ১৩ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রধান আসামী ফাহিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

খুলনা অফিস : খুলনা পাবলিক কলেজের ৭ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিন (১৪) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী ফাহিম ইসলাম মনি (১৩) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে খুলনা মহানগর হাকিম শাহীদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় তার এ স্বীকারোক্তিমূলক জবাদবন্দী রেকর্ড করেন। এর আগে ফাহিম ইসলাম মনি সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। খুলনার শিশু আদালতে বিচারক (অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ) মোসাম্মাৎ দিলরুবা সুলতানা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান। মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার ১১নং রোডের বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেনের ছেলে ফাহিম ইসলাম মনি মডেল স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্র।
মামলায় অন্যান্য আসামীরা হলো, নগরীর বড় বয়রা মেইন রোডের ২৬৭নং বাড়ির মো. আহাদ হোসেনের ছেলে তারিন হাসান ওরফে রিজভী (১৩), মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার ১৪ নম্বর রোডের ১৭৭নং বাড়ির আলমগীর হোসেনের ছেলে আসিফ প্রান্ত আলিফ (১৬), খালিশপুর থানাধীন আফজালের মোড়ে জাফর নেভীর বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. জাকির হোসেনের ছেলে মো. জিসান খান (১৩), বড় বয়রা মুজগুন্নী শেখপাড়া এলাকার মো. সাইদ ইসলামের ছেলে মো. সানি ইসলাম আপন (১৪) ও ছোট বয়রা ইসলামীয়া কলেজ রোডের আনিস নগরের বাসিন্দা এস এম আব্দুল মজিদের ছেলে মো. সাক্রান সালেহ মিতুল (১৪)। অভিযুক্তদের মধ্যে বর্তমানে তিনজন কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে। এরা হলো, বয়রা সবুরের মোড় এলাকার বিএম মো. লিয়াকত হোসেনের ছেলে বিএম মাজিব হাসান রয়েল (১৪), বয়রা ইসলামীয়া কলেজ রোডের শ্মশানঘাট এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে সাব্বির হাওলাদার (১৭) ও প্রধান আসামী মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার ১১নং রোডের বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেনের ছেলে ফাহিম ইসলাম মনি (১৩)।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার ১১নং রোডের বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেনের ছেলে ফাহিম ইসলাম মনির সাথে পাবলিক কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিনের মধ্যে ২০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে অনুষ্ঠান স্থলে তর্ক বিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ফাহিম ইসলাম মনি তার বন্ধুদের ডেকে আনে। এদের মধ্যে বয়রা ইসলামিয়া কলেজ রোডের শ্মশানঘাট এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে সাব্বির হাওলাদার চাকুসহ পাবলিক কলেজের অনুষ্ঠান স্থলে যায়। এরপর অনুষ্ঠানের গ্রীণ রুমের পেছনে ডেকে নিয়ে ১০/১২ জন মিলে রাজিনকে চড় চাপ্পড় ও কিল ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে সাব্বির চাকু বের করে রাজিনের বুকে ঢুকিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ২১ জানুয়ারি ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে নিহত রাজিনের পিতা শেখ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ তিনজন গ্রেফতার
খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ধারালো অস্ত্র ও ডাকাতির সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১২টায় পুলিশ এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো-জীবন কুমার মন্ডল (৩২), আনোয়ার হোসেন (৩০), সাইদুর রহমান (৩০)। এদের কাছ থেকে একটি চাপাতি, একটি গুপ্তি, দু’টি প্লাস, দু’টি রেঞ্জ, একটি স্ক্রু ড্রাইভার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম সুমি আহমেদ নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার ২৫নং রোড থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতারকৃত তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোল্যা আব্দুল হাই আসামীদের আদালতে হাজির করে তিনদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামীরা হলেন-নিরালা আবাসিক এলাকার ২৪নং রোডের ৪৩১নং বাড়ির বাসিন্দা ললিত মন্ডলের ছেলে জীবন কুমার মন্ডল (৩১), মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার হাসাড়া গ্রামের মো. আবুল হোসেনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩০) ও শেরপুর জেলার নকলা থানার বাছুর আগলা গ্রামের মৃত ওয়াজউদ্দীন মন্ডলের ছেলে মো. সাইদুর রহমান (৩০)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২৮ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে নিরালা আবাসিক এলাকার ২৫নং রোডের রফিকুল ইসলামের বাড়ির পাশে ১০/১৫জন ডাকাত ডাকাতি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে খুলনা সদর থানার এসআই মো. কামাল উদ্দীন। এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত চাপাতি, লোহার এ্যাংগেল, রেন্স, স্ক্রু ড্রাইভারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় এসআই মো. কামাল উদ্দীন বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ ও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর দু’আসামী হলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার হাসাড়া গ্রামের মেছের আলি ছেলে শাহ আলম (৩০) ও নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার কিফাত উল্লার ছেলে রনি (২৫)।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম মিজানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত পৌনে ১২টায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে নিরালা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদল পালানোর চেষ্টা করে। এসময় ধাওয়া করে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকী দুইজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় খুলনা থানায় একটি মামলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ