ঢাকা, বুধবার 31 January 2018, ১৮ মাঘ ১৪২৪, ১৩ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেডিএ’র শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা

খুলনা অফিস : জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)’র নেয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও কার্যতঃ দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছে না। তবে অনেক বাধা-বিপত্তি চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সম্প্রতি টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে ময়ূরী প্রকল্প। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে সরকারি অর্থায়নে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প রয়েছে, সড়ক প্রশস্তকরণের মাধ্যমে চার লেনে উন্নীতকরণ, ডিভাইডার, লাইট ও তিনটি কালভার্ট নির্মাণ। ওই বছর ৩০ জুলাই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন মেলে। যার বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০১৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু নানা জটিলতায় বস্তবায়নের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। এরপর কেডিএ মন্ত্রণালয়ে বাস্তবায়ন মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রেরণ করে। এর প্রেক্ষিতে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১২৬ কোটি টাকা, আর বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয় ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু এ মেয়াদেও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। শুধুমাত্র পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ভূমি হুকুম দখল কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এরপর পুনরায় মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
কেডিএ’র কর্মকর্তারা বলছেন, জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। জেলা প্রশাসন এখনও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দশমিক ৭৪২০ একর এবং দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরীর দশমিক ২৭৪১ একর জমি বুঝে দেয়নি। ফলে টেন্ডার আহ্বান করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন জমি হস্তান্তর করলে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করা হবে।
খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে ৫ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই জমিতে তারা কাজ শুরু করতে পারে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দশমিক ৭৪২০ একর জমির স্টিমেট করা হয়ে গেছে। টাকা পেলে খুব শিগগিরই মূল্য পরিশোধ করে হস্তান্তর করা হবে। বাকি দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরীর দশমিক ২৭৪১ একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য চিটি দেয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে ওখানেও অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে  মহানগরীর পশ্চিম প্রান্তে সিটি বাইপাস সড়ক সংলগ্ন আহসানাবাদ মৌজায় ‘ময়ূরী’ নামে নতুন একটি আবাসিক এলাকা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার ৯০ একর জমির উপর এ আবাসিক এলাকাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কেডিএ’র গ্রহণ করা ওই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায় বিগত ২০১৩ সালে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় ছিল ১২৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। কিন্তু জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের সংশোধিত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে কেডিএ। ২০১৫ সালে সংশোধিত প্রকল্পে ২৩৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। যার বাস্তবায়ন কাল ধরা হয় ২০১৭ সাল পর্যন্ত। ওই মেয়াদে প্রকল্পের প্লট বরাদ্দের কাজ শেষ হয়। তবে ফের প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের মার্চে পুনরায় ২৭৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার সংশোধিত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন শেষে ইতোমধ্যে প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন ও ঠিকাদারী নিয়োগের লক্ষে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বেড়েছে বাস্তবায়ন মেয়াদও। ফলে অনেক বাধা-বিপত্তি চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সম্প্রতি আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে এ প্রকল্পটি।
এ ব্যাপারে কেডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) মো. আরমান হোসেন বলেন, আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পের সকল প্লট গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এবার সুন্দরবন ছেড়ে হরিণ লোকালয়ে : খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবন ঘেঁষা গ্রাম রামনগর। গ্রামের দশঘর পাড়ায় ২৮ জানুয়ারি সকালে একটি বাড়ির উঠানে দেখা যায় মায়াবি এক চিত্রল হরিণ। ক্ষতি না করে হরিণটিকে আদর-যত্মে ধরা হয়। আড়াই ঘণ্টা পর আরেকটি হরিণ আসে। এভাবে হরিণ আসতে দেখে হতবাক স্থানীয়রা। পরে হরিণ দু’টিকে সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়া হয়। সুন্দরবনের আশাপাশের গ্রামগুলোয় সাধারণত বাঘ ঢুকে পড়ে। এবারই প্রথম রামনগরে হরিণ আসার ঘটনা ঘটলো।
সুন্দরবন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্য জাহিদুল ইসলাম গাজী বলেন, লোকজন দেখে প্রথম আসা হরিণটি পুকুরে লাফিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা হরিণটিকে উদ্ধার করে। হরিণ ধরার খবর পেয়ে ফাঁড়ি ইনচার্জ আবু তাহের এবং টাইগার টিম ও ওয়াইল্ড টিমের সদস্যরা ওই বাড়িতে যান। হরিণটি নিয়ে দুপুর একটার দিকে সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়া হয়।
তিনি জানান, দুপুরের দিকে ছোমেদ ফরাজীর বাড়িতে আরও একটি হরিণ দেখতে পাওয়া যায়। সবার সহযোগিতায় সেটিও ধরে তারা বন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সুন্দরবনে ছেড়ে দেন।
 কৈলাশগঞ্জ টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু বলেন, মরা ভদ্রা নদীতে জোয়ার এবং রাতে কুয়াশায় পথ ভুলে হরিণ দু’টি লোকালয়ে আসতে পারে। হরিণ দু’টিকে আবার জঙ্গলে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
রামনগর দশঘরের বাসিন্দা রাসেল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের মরাভদ্রা নদীর এক পাশে সুন্দরবন, অপর পাশে তাদের গ্রাম। নদীতে পানি কমে যাওয়ায় হরিণ লোকালয়ে চলে আসছে। এছাড়া বনের ভেতর খাদ্য সংকটও হতে পারে। এর আগে কখনও সুন্দরবন থেকে হরিণ আসার ঘটনা ঘটেনি। ২০০৩ সালের শেষদিকে একটি বাঘ নদী পার হয়ে এ গ্রামে ঢুকেছিল। ওই বাঘের থাবায় চারটি ছাগল আহত হয়। পরে গ্রামবাসী পিটিয়ে বাঘটি মেরে ফেলে। সুন্দরবনের নলিয়ান রেঞ্জ কর্মকর্তা সোয়েব খান বলেন, হরিণ দু’টি সুস্থ-সবল থাকায় তাদের সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ