ঢাকা, বুধবার 31 January 2018, ১৮ মাঘ ১৪২৪, ১৩ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় পৃথক ঘটনায় ২ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় রাস্তা পার হবার সময় অটোর ধাক্কায় গুরুতর আহত ছকিনা খাতুন (৫৫) নামের এক মহিলা মারা গেছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ৮টায় মারা যায়। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাতিভাঙ্গা পশ্চিমপাড়ার মৃত নূর মোহাম্মদের স্ত্রী ছকিনা খাতুন (৫৫) মেয়ে মেহেরবানুর বাড়ি কুড়–লগাছি বেড়াতে যান। ফেরার পথে রোববার সকালে দর্শনা-কার্পাসডাঙ্গা সড়কের কুড়–লগাছি নামকস্থানে সড়কে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় ছকিনা খাতুনকে উদ্ধার করে নেয়া হয় দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে নেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ছকিনা খাতুনের মারা যাবার খবর সকালেই পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট প্রণয়ন করে। দুপুরে লাশ নিজ গ্রামে নিতে গেলে স্বজনদের সাথে পুলিশের বাগবিত-া শুরু হয়। হাসপাতাল জুড়ে উত্তেজনা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। পুলিশ অবস্থা বেগতিক দেখে অতিরিক্ত পুলিশ হাসপাতালে অবস্থান নেয়। বিধি মোতাবেক প্রশাসনের অনুমোদন নেয়া না হলে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করানোর বিষয়ে পুলিশ অনড় থাকে। শেষ পর্যন্ত নিহত ছকিনা খাতুনের নিকটজনেরা জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে সোমবার রাতে লাশ নিয়ে বাড়ি দাফন করে।
অবশেষে লাশ : দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করে আসা সুখি খাতুন অবশেষে লাশ হয়েছে। সোমবার সকালে স্বামী
হাফিজুর রহমানের জীবননগরের দেহাটি গ্রামের বাড়ির একটি ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে পুলিশী তদন্ত শুরু হয়েছে। স্বামী পক্ষের দাবি, সুখি খাতুন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পিতাপক্ষের অভিমত, সুখি খাতুন তার দু’বছরের সন্তান রেখে আত্মহত্যা করতে পারে না বরং তাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। গতকাল ময়নাতদন্ত শেষে লাশ ফেরত দিয়েছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দেহাটি গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক হাফিজুর রহমানের সাথে ৪ বছর আগে বিয়ে হয় জামতৈল গ্রামের আজমত মালিতার মেয়ে সুখি খাতুনের। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতে শুরু করে হাফিজুর। সুখি খাতুনের পিতা এ অভিযোগ করে বলেছে, দফায় দফায় সুখি খাতুনকে নির্যাতন করে যৌতুক আদায় করেছে । সর্বশেষ হত্যা করে তার লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে দাবি করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ