ঢাকা, বৃহস্পতিবার 1 February 2018, ১৯ মাঘ ১৪২৪, ১৪ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গুয়ানতানামো বে কারাগার চালু রাখার আদেশ ট্রাম্পের

৩১ জানুয়ারি, বিবিসি: কিউবার গুয়ানতানামো বে এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির কারাগার চালু রাখার একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণেও এ আদেশের কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প, জানিয়েছে ।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিতর্কিত ওই কারাগারটি বন্ধ করে দিতে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন; আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওমাবার পুরোপুরি বিপরীত সিদ্ধান্ত নিলেন।
৯/১১ হামলার পর থেকে গুয়ানতানামো বে-র স্থাপনাটিকে ‘শত্রুপক্ষের যোদ্ধাদের’ আটক রাখার জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ওই কারাগারটিতে মাত্র ৪১ জন বন্দি আছেন। ওবামার আমলে ওই কারাগারের কয়েকশত বন্দিকে অন্যান্য জায়গায় স্থানান্তর করা হয়। এই কারাগারটি বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসও জানিয়েছে। যখন প্রয়োজন হবে তখন মার্কিন প্রশাসন শত্রুপক্ষের যোদ্ধাদের এই কারাগারটিতে রাখতে পারবে বলেও জানিয়েছে তারা।  মঙ্গলবারের স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “সন্ত্রাসীরা নিছক অপরাধী না। তারা নিষিদ্ধ শত্রু যোদ্ধা। বিদেশে যখন তারা ধরা পড়ে, তারা যেমন ধরনের সন্ত্রাসী তাদের সঙ্গে তেমনই ব্যবহার করা উচিত।
 “অতীতে, আমরা বোকার মতো শত শত বিপজ্জনক সন্ত্রাসীকে ছেড়ে দিয়েছি, পরে লড়াইয়ের ময়দানে তাদের সাক্ষাৎ পেয়েছি।” উদাহরণ হিসেবে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নেতা আবু বকর আল বাগদাদির নাম উল্লেখ করেন তিনি। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে গুয়ানতানামো বে কারাগারে প্রথম বন্দিকে পাঠানো হয়েছিল। তারপর থেকে সাত শতাধিক বন্দিকে ওই কারাগারটিতে রাখা হয়েছিল, এদের অনেককেই কোনো অভিযোগ ছাড়াই বিনাবিচারে আটকে রাখা হয়েছিল।
কোনো অভিযোগ ছাড়াই বিনাবিচারে আটক রাখা ও বন্দিদের নির্যাতন করার অভিযোগে নিয়ে কারাগারটির বিরুদ্ধে সরব হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২০০৯ সালে ওবামা এক আদেশে সই করে কারাগারটি এক বছরের মধ্যে বন্ধ করার নিন্দেশ দেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের বাধার মুখে আট বছরেও নিন্দেশ কার্যকর করতে পারেননি তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ