ঢাকা, শুক্রবার 2 February 2018, ২০ মাঘ ১৪২৪, ১৫ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বইমেলা প্রাণের মেলা

বইমেলা প্রাণের মেলা- এই  ভাষণ আমাদের মুখে মুখে। কিন্তু উপলব্ধিতে কতোটা? বই কেনা ও বই পাঠের ক্ষেত্রে আমরা বড় কৃপণ। বড় উদাসীন। যে সমাজ বই পাঠ থেকে বিরত থাকে কিংবা এই চর্চা থেকে নিজেদের গুটিয়ে রাখে, তারা আর যাই হোক কোনোদিন অগ্রসর হতে পারে না। ধ্বংস তাদের অবশ্যম্ভাবী। প্রতি বছর ভাষার মাস এলে, বইমেলা এলে আমরা এর কিছুটা স্মরণে আনি। তারপর আবার ভুলে যাই। কিন্তু ভুলে যাওয়াটা কি কারো কাম্য? এরকম কিছু প্রশ্ন নিয়ে বরাবরের মতো এবারও আমরা কিছু লেখকের দারস্থ হই। আশার কথা, তারা আমাদের নিরাশ করেননি। জবাব দিয়েছেন খোলামেলা। অন্তরের গহীন থেকে তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। আজ চারজন প্রিয় লেখকের উত্তর পাঠকদের সৌজন্যে নিবেদন করা গেলো। আগামী সপ্তাহ এবং পুরো মাস জুড়েই থাকবে আমাদের এ আয়োজন। - রেদওয়ানুল হক

 

জীবনকে ভালোবাসতে চাইলে এবং জননীকে ভালোবাসতে চাইলে 

জন্মভাষা এবং মাতৃভাষা-বাংলাভাষা একই মাতৃকতায় গ্রহণ করতে হবে।

----------------------------------------------আল মুজাহিদী

 

০১.  নতুন বই প্রকাশের খবর নিশ্চয় আনন্দের। আপনার অনুভূতি প্রকাশ করুন।

উত্তর: আমার নতুন  বইটি প্রথম যখন প্রকাশ হয় তখন খুবই মানসিক এবং আত্মার অর্জন বলে মনে হয়। তারপর ধীরে ধীরে আরো নতুন বই যখন হাতে আসে, মনে হয় সেই নতুনের আনন্দটা, নতুন প্রকাশের আনন্দটা আরো ভেতরে সঞ্জীবিত হয়ে উঠছে নতুন করে। আর একুশের বইমেলাতে যখন নতুন বই বের হয়, ওখানে একটা সমগ্র বা সামগ্রিকভাবে একটা জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটে, জাতীয় চেতনার উন্মোচন ঘটে। এবং সে আনন্দ প্রাত্যহিক আনন্দ। এরকমটাই আমি মনে করি।

০২.  পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলার ভূমিকা কি?

উত্তর :  বইমেলার সব বই-ই যে আকর্ষণীয়, চিত্তাকর্ষক কিংবা খুব সৃষ্টিশীল বিষয় সেটা মনে করি না। তবে এর ভেতরে যখন কেউ দাগ ফেলতে পারে, সৃষ্টিতে একটা চিণহ স্থাপন করতে পারে, তখন  এ ধরনের মননশীল বইর আমি সবসময় প্রশংসা করি। এবং এই ধরনের মননশীল বই বের হওয়াটাও একটা দুরন্ত ব্যাপার। এটা সবসময় হয়ে ওঠে না। আর সাহিত্যের পথটা তো একটা লম্বা, দীর্ঘতর পথ অতিক্রম করে যেতে হয়। এবং এ হিমশীতলতার দিগন্ত খুব প্রসারিত বলে মনে করি। সে দৃষ্টিতে বলবো, বইমেলাতে যতো বেশি সৃষ্টিশীল, মননশীল বই আসবে ততোই আমাদের জন্য আনন্দবহ হতে পারে।

০৩. এই মেলায় আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তর: এই বইমেলায় আমার হাপডজনের মতো বই প্রকাশ পাবে। এর মধ্যে পুনমুদ্রণও আছে। কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি-কবিতার বই, নক্ষত্রযুদ্ধ ও প্রপঞ্চের পাখি-গল্পের বই, পর্ণকুটির স্বর্ণকুটির-ছড়ার বই, হালুম হুলুম-ছড়ার বই, নৈতিকতা ও নান্দনিকতা- প্রবন্ধের বই এবং প্রেমের কবিতা।

০৪.  বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের কেমন শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত?

উত্তর : জীবনকে ভালোবাসতে চাইলে এবং জননীকে ভালোবাসতে চাইলে জন্মভাষা এবং মাতৃভাষা-বাংলাভাষা একই মাতৃকতায় গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া জীবনের বিকাশমান যে সত্তা, সে সত্তা পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হবে।

০৫.  বইমেলা পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন...।

উত্তর :  একুশের বইমেলা একটি ঐতিহাসিক মাত্রা অর্জন করেছে। এবং এ ঐতিহাসিকতার মধ্য দিয়ে জাতীয় জীবনের যে জাগরণ ঘটে, আমার কাছে তা নতুন রেনেসাঁর মতো মনে হয়।রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ঘটেছিলো ১৯৫২ সালে। রফিক, সালাম, বরকত, শফিউর-এদের জীবন দানের মধ্য দিয়ে বাংলাভাষা আরো রক্তরুধির হয়ে উঠেছে। আরো শক্তিমন্ত হয়ে উঠেছে। যেটা আমাদের জীবনপ্রবাহের একটি চলন্ত গাড়ি।

পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলবো, বাজার থেকে একজোড়া স্যান্ডেল কিনতেও দুশ-চারশ টাকা লাগে। আর একটা ভালো বই, মানের বই সর্বোচ্চ ৫০০টাকায়ই হয়ে যায়। এর বেশি লাগে না। এই গ্রন্থ একদিকে পায়ের চলায় যেমন শক্তি জোগায় তেমনি মাথার উপর থাকে প্রদীপ বা বাতিঘর। যে  বাতিঘর আলোক দান করতে থাকে। পাঠকরা এটা যেন বুঝতে পারে। বাজার থেকে একটি বই কেনা মানে উত্তম জিনিস খরিদ করা।

 

 

একটি ভালো বই একজন ভালো বন্ধুর চেয়েও

অনেক উত্তম  --------------মোশাররফ হোসেন খান

 

০১.  নতুন বই প্রকাশের খবর নিশ্চয় আনন্দের। আপনার অনুভূতি প্রকাশ করুন।

উত্তর: হ্যাঁ, নতুন বই প্রকাশের খবর যেকোনো লেখকের জন্যই অবশ্য আনন্দের। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। তবে ১৯৮৬ সালের আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হৃদয় দিয়ে আগুন’ প্রকাশের পর যে আনন্দ, তৃপ্তি এবং হৃদয়ের শিহরণ অনুভব করেছিলাম, এখন আর তেমনটি আনন্দ পাই না বটে। তারপরও স্বীকার করতেই হবে যে, একটি বই প্রকাশের আনন্দঘন যে অনুভূতি সেটা আমার মধ্যেও সমানভাবে কাজ করে। তবে স্বার্বক্ষণিক লেখক হিসাবে আমার অনুভূতিটা একটু ভিন্ন।

০২.  পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলার ভূমিকা কি?

উত্তর: পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলার ভূমিকা অপরিসীম। তবে বইমেলাটি শুধুমাত্র রুটিন মাফিক কিংবা অনুষ্ঠান সর্বস্ব না হয়ে যদি অর্থবহ হয় তাহলেই সেটা পাঠক সৃষ্টিতে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। বইমেলাটি সুচিন্তিত ও সুবিন্যস্ত হওয়া প্রয়োজন।

০৩. এই মেলায় আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তর: দু’টি বই ইতিমধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে। আরও কয়েকটি মেলায় আসতে পারে ইনশাআল্লাহ।

০৪.  বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের কেমন শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত?

উত্তর : বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ নিবিড় ও প্রশ্নাতীত হওয়া প্রয়োজন। সর্বস্তরে ভাষার প্রতি সেই প্রেম ও শ্রদ্ধাবোধ যেন প্রকাশ পায়। সেই সাথে ভাষার যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করাও আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ বাংলা ভাষাটা আমাদের মাতৃভাষা হলেও এই ভাষা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও প্রতিষ্ঠার পেছনে আমাদের বহু রক্ত, সংগ্রাম ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত রয়েছে। যা অধিকাংশ দেশেই ঘটেনি। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমরা বাংলা ভাষাকে এখন আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ও বিশ^ দরবারে গ্রাহ্য করে তুলতে পেরেছি। সুতরাং বাংলা ভাষার প্রতি শুধু প্রেম ও ভালোবাসা নয়, আমাদের দায়বদ্ধতাও রয়ে গেছে অনেকখানি। 

০৫.  বইমেলা পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন...।

উত্তর : বইমেলায় যারা আসেন তারা সকলেই যে বইপ্রেমিক একথা আজ আর বলার সুযোগ তেমন নেই। তবে এর মধ্যেও যারা প্রকৃত বই প্রেমিক তারাতো অবশ্যই শ্রদ্ধার পাত্র। আমি আশা করি তাঁরা বই মেলা থেকে ভালো, ভালো এবং ভালো বই বেছে কিনবেন। কারণ একটি ভালো বই একজন ভালো বন্ধুর চেয়েও অনেক উত্তম। আমি বইমেলার পাঠকদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি এবং তাদের প্রতি আমার অজ¯্র ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

 

 

 

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। সরকারি বা রাষ্ট্রভাষাও বটে। সুতরাং

এ ভাষার প্রতি থাকা উচিত অফুরন্ত ভালবাসা ও শ্রদ্ধা। --নাজিব ওয়াদুদ

 

০১. নতুন বই প্রকাশের খবর নিশ্চয় আনন্দের। আপনার অনুভূতি প্রকাশ করুন।

উত্তর: নতুন বই প্রকাশের আনন্দকে আমি একবার সন্তান লাভের সঙ্গে তুলনা করেছিলাম। ব্যাপারটা আনন্দের এবং স্বস্তির। নতুন বই প্রকাশ পেলে মনে হয় সত্যিই লেখালেখি করছি, আমার কল্পনা ও মনন এখনো  সৃজনশীল। 

০২. পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলার ভূমিকা কি?

উত্তর:পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলার অবদান অপরিসীম। বইমেলায় এসে একজন দর্শক (ধরে নিচ্ছি তিনি পাঠক নন) বিপুল পরিমাণ ও বিচিত্র রকম বইয়ের দেখা পান। এর মধ্যে কোনও না কোনও বই তার মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে। তাছাড়া অনেক লোককে বই কিনতে দেখে। এসব কারণে তার মধ্যে বই কেনা ও পড়ার প্রবণতা তৈরী হয়।  

০৩. এই মেলায় আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তর: এখনও পর্যন্ত দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রবন্ধের বইÑ ‘বিশ্বসাহিত্য বরেণ্য সাহিত্যিক’, এটি প্রকাশ করেছে গ্রন্থকুটির। অন্যটি ছোটগল্পেরÑ ‘কমরেড ও কিরিচ’। প্রকৃতপক্ষে এটি পুরনো বই, নতুন সংস্করণ বের হয়েছে। এটির প্রকাশক পপি প্রকাশনী। আরেকটা বই প্রকাশিত হওয়ার কথা, সেটি হলোÑ ‘নোবেলবিজয়ীদের সাক্ষাৎকার’। বের করছে সন্দেশ। 

০৪. বাংলাভাষার প্রতি আমাদের কেমন শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত?

উত্তর: বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। সরকারি বা রাষ্ট্রভাষাও বটে। সুতরাং এ ভাষার প্রতি থাকা উচিত অফুরন্ত ভালবাসা ও শ্রদ্ধা। তাছাড়া এ ভাষার মর্যাদার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি। সেজন্য অতিরিক্ত আবেগও সক্রিয় থাকবে সেটাই স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত। তবু স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, বাংলা ভাষা আমাদের কাছ থেকে যথাযোগ্য সম্মান ও গুরুত্ব পাচ্ছে না। এর নানান কারণের মধ্যে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন অন্যতম। 

০৫. বইমেলা পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন...।

উত্তর: পাঠকদের উদ্দেশে আমার একটাই আবেদনÑ বই পড়–ন, এবং দেখে-শুনে ভাল বই কিনুন।

 

হাজার হাজার বইয়ের মধ্যে ভালো বই আছে খুবই কম।

ভালো বইগুলোই খুঁজে খুঁজে কিনুন।   ------সায়ীদ আবুবকর

 

০১.নতুন বই প্রকাশের খবর নিশ্চয় আনন্দের। আপনার অনুভূতি প্রকাশ করুন

উত্তর: অবশ্যই আনন্দের। এ আনন্দের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। আমার প্রত্যেকটা বইয়ের প্রকাশ হওয়ার মুহূর্তটা আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। সংশয়, সন্দেহ, ভয় ও আশার দোলাচলের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বই  যখন আলোর মুখ দ্যাখে, তখন প্রসূতির সন্তানের মুখ দেখার মতো নির্মল আনন্দে ভরে যায় বুক। প্রণয়ের প্রথম পাপ যখন ১৯৯৬ সালে প্রকাশ পায় তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। পালাবদল প্রকাশনী আমার এ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করে। আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না আমার বইটি শেষ পর্যন্ত বের হয়েছে। শিল্পী মোমিন উদ্দিন খালেদ প্রণয়ের প্রথম পাপ-এর একটি প্রচ্ছদ এঁকে দিয়েছিলেন। অত্যন্ত চমৎকার প্রচ্ছদ। প্রচ্ছদটি আমি যতœ করে তুলে রেখেছিলাম। মাঝে মাঝে খুলে দেখতাম আর ভাবতাম, আদৌ আমার এ বইটি ছাপাখানার মুখ দেখবে তো!

প্রণয়ের প্রথম পাপ ছাপা হওয়ার পর  হৃদয় আমার ময়ুরের মতো নাচতে লাগলো। কিন্তু দেখার কোনো সুযোগ নেই, কারণ আমি তখন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে। ফিরে এসে প্রণয়ের প্রথম পাপ-এর চেহারা দেখে আমার দুচোখ জুড়িয়ে গেল। নাকের কাছে নিয়ে প্রাণভরে নিতে থাকলাম নতুন বইয়ের ঘ্রাণ। তারপর তো অনেক বই-ই বের হলো। এখনও আমি একইভাবে  নতুন বইয়ের ঘ্রাণে বিভোর হয়ে থাকি। 

  ০২. পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলার ভূমিকা কি?

উত্তর: পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলার ভূমিকা অপরিসীম। সত্যি বলতে কী, একুশে বইমেলা এখন সারাদেশে জাতীয়  উৎসবে পরিণত হয়েছে। এটি আর শুধু বাংলা একাডেমী চত্বরে সীমাবদ্ধ নেই। বইমেলা ছড়িয়ে পড়েছে আজ সারাদেশে। বিভাগীয় ও জেলা শহরে শুধু নয়, উপজেলাতেও এখন আয়োজন করা হচ্ছে বইমেলা ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে। পাঠক তৈরি না হলে এত বইমেলা হবে কী করে? তবে একথাও সত্য যে, প্রকশনামাধ্যম সহজলভ্য হওয়ায় নিকৃষ্ট বইয়ে সয়লাব হয়ে গেছে সারাদেশ। গরুর রচনাও যারা লিখতে পারে, তাদেরও বই প্রকাশ পাচ্ছে দেদারচে এবং তা শোভা পাচ্ছে স্টলে স্টলে। এতে পাঠক বিভ্রান্ত হচ্ছে। এত বই প্রকাশ পাওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। রচিশীল ও শিল্পমান-উত্তীর্ণ গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমেই কেবল ভালো পাঠক তৈরি করা যায়।

    ০৩. এই মেলায় আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তর: এ বছর আমার সর্বোচ্চ সংখ্যক বই প্রকাশ পাচ্ছে। মোট ৬টি বই বইমেলায় আসতে পারে। তিনটি বই ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়ে গেছে। তিনটি বই-ই প্রকাশ করেছে ইনভেলাপ পাবলিকেশন্স। ইনভেলাপ প্রকাশ করেছে আমার প্রথম মহাকাব্য ‘মুজিবনামা’। আধুনিক কালেও যে মহাকাব্য লেখা যায়, আমি তা দেখিয়ে  দিলাম। এটা ছিলো একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমি সারাজীবন মহাকবিই হতে চেয়েছি। মধুসূদন আর আমার জন্ম একই উপজেলায় । আমার দুচোখে সবসময় লেগে ছিলো মেঘনাদবধ কাব্য, প্যারাডাইস লস্ট, ইলিয়াড ও ওডিসি। 

আমি মুজিবনামা লিখেছি। এখন আমি নবীনামা লিখতে চাই, মহম্মদ (স.)কে নিয়ে আমার জীবনের সেরা কাজটা আমি করতে চাই। শুরুও করেছি। কিন্তু  এটা তো  মুখের কথা না, হিমালয়ের মতো বিশাল কাজ; সৃষ্টিকর্তা শক্তি না দিলে এ ধরনের কাজ শেষ করা যায় না। ইনভেলাপ আমার আরও দুটি অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশ করেছে: একটি হলো, নির্বাচিত বিদেশী কবিতা; দ্বিতীয়টি, হ্যান্স এন্ডারসনের “বেহেস্তের বাগান”।  “নির্বাচিত বিদেশী কবিতা” আমার দীর্ঘদিনের অনূদিত বিদেশী কবিতার সংকলন। বিশ্বের অনেক সুন্দর সুন্দর কবিতা আছে এ গ্রন্থটিতে।

০৪.বাংলাভাষার প্রতি আমাদের কেমন শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত?

উত্তর: বাংলাভাষার প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত। বাংলা ভাষা ছাড়া কি আমরা বাঁচতে পারি? মধুসূদন ইংরেজি ভাষায় বাঁচতে চেয়েছিলেন। পারলেন না। তাঁকে ফিরে আসতে হয়েছে এই বাংলা ভাষাতেই। তবেই না তিনি বাঁচতে পেরেছেন। মধুসূদনের ইংরেজি কবিতা কিন্তু একটুও ফেলনা ছিলো না। তার প্রমাণ আমার অনূদিত “মধুসূদনের ইংরেজি কবিতা” (২০০৯) গ্রন্থটি, যা এদেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকে নীরোদ সি চৌধুরী কিংবা সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইনের কথা বলেন; আমি তাঁদের উভয়ের এবং আবও অনেক বাঙালী লেখকের ইংরেজি লেখা পড়েছি, কারো মধ্যে মধুসূদনের ইংরেজির মতো এত স্বতঃস্ফূর্ততা ও শক্তির তীব্রতা আমি দেখিনি। কিন্তু মধুসূদনও শেষপর্যন্ত টের পেয়েছিলেন পা-িত্য ও জ্ঞান-গরিমা দিয়ে কবি হওয়া যায় না, কবিতার একমাত্র ভাষা হলো মার্তৃভাষা। বিশ্বের সমস্ত কবিই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন মাতৃভাষাতেই। বাংলা ভাষা যে কত শক্তিশালী ভাষা, তা আর নতুন করে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই; মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জসীমউদ্দীন, জীবনানন্দ দাশ প্রমুখ  কবি তা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। আমাদের কোনো প্রকার হীনমন্যতায় ভোগার কারণ নেই। 

০৫.বইমেলা পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন...।

উত্তর: বইমেলা পাঠকদের উদ্দেশ্যে শুধু এটুকু বলবো, হাজার হাজার বইয়ের মধ্যে ভালো বই আছে খুবই কম। ভালো বইগুলোই খুঁজে খুঁজে কিনুন। ঝকঝকে ছাপা ও বড় প্রকাশনীর বই হলেই সবসময় ভালো বই হয় না। টাকার বিনিময়ে অনেকে বই ছাপছেন ও পত্রপত্রিকায় প্রচার-প্রপাগান্ডা চালাচ্ছেন। আমেরিকার এক নায়ককে একবার সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, বাজারের কোন খাবারগুলো ভালো? তিনি বলেছিলেন, টেলিভিশনে যেসব খাবারের কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয় না সেসব খাবারই সবচেয়ে ভালো খাবার। বইয়ের ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে একথা হয়তো খাটে না; তবে সত্যি যে, ভালো বই প্রায়সময়ই ভালো প্রচার পায় না, ফলে ব্যাপক পাঠকের কাছে সে সহজে পৌছোতে পারে না, পাঠককেই তাই তাকে খুঁজে বের করতে হয়।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ