ঢাকা, শুক্রবার 2 February 2018, ২০ মাঘ ১৪২৪, ১৫ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পড়া শেখো ও শুদ্ধ করে  লেখো

 

আহসান হাবিব বুলবুল : ফেব্রুয়ারি মাস এলে আমরা সর্বস্তরে বাংলা ভাষার চর্চা নিয়ে কথা বলি। কবির ভাষায় সরব হয়ে উঠি-

‘মোদের গরব, মোদের আশা

আমরি বাংলা ভাষা!

তোমার কোলে তোমার বোলে

কতই শান্তি ভালোবাসা।’

 

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের গর্বের, অহঙ্কারের। বাহান্নর এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেরা মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে রাজপথে জীবন উৎসর্গ করেছিল। এ ইতিহাস তোমরা জানো। ইতিহাস বলা উদ্দেশ্য নয়। জিজ্ঞাসা- যে ভাষার জন্য আমরা জীবন দিলাম সেই ভাষা আমরা কতটুকু শিখতে বলতে লিখতে পারছি? সর্বস্তরের বাংলা ভাষা চর্চার প্রয়াস এগিয়ে যাচ্ছে। একথা সত্য। তারপরও মনে হয় বাংলা মাতৃভাষা হওয়ার কারণে এই ভাষা শিক্ষা ততটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। তাই দেখা যায়, একজন শিক্ষিত লোক শুদ্ধ বাংলা বলেন না। শুদ্ধ করে লিখেন না। এটা কারো কা¤্র নয়। তোমরা শিশুরা ছোটবেলা হতেই মাতৃভাষা বাংলা শুদ্ধ করে লিখতে পড়তে ও বলতে শিখবে। এ ব্যাপারে তোমাদের চিন্তার কিছু খোরাক দিতে চাই।

সুন্দর হাতে লেখা: এ বিয়টি এতদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপেক্ষিত হয়ে আসছিল। বর্তমানে ভালো হাতের লেখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কেননা, পরীক্ষায় ভালো রেজাল্টের জন্য সুন্দর হাতের লেখা চাই। যার হাতের লেখা ভালো সে একজন শিল্পীও বটে। 

তার কদর সবার কাছে। কিভাবে হাতের লেখা আকর্ষণীয় করা যায় সে আলোচনা এই স্বল্প পরিসরে সম্ভব নয়। সুযোগ হলে পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে রইল।

বই পড়ার আনন্দ: জানতে হলে পড়তে হবে। তোমাকে পড়ার মাঝে প্রচুর আন্দ খুঁজে পেতে হবে। পৃথিবীর তাবৎ সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো মানবচিত্তে নির্মল আনন্দের ফালগুধারা প্রবাহিত করা। বই মানুষকে জ্ঞান দেয়, জ্ঞানরাজ্যে বিচরণের সুযোগ করে দেয়। যত পড়বে তোমার ভাষা, সাহিত্য ততো সমৃদ্ধ হবে। সঞ্চিত হবে বিচিত্র শব্দভা-ার। তখন তুমি শুদ্ধ ও প্রাঞ্জল ভাষায় বলতে ও লিখতে পারবে।

ব্যাকরণ অধ্যয়ন: ব্যাকরণ হলো কোনো ভাষা শিক্ষার নিয়ম-কানুন। ভাষাকে আদর্শ রূপ দান করে ব্যাকরণ। অথচ ব্যাকরণ শেখার প্রতি ছাত্রদের অনাগ্রহ লক্ষ্য করাযায়। একটু কঠিন কঠিন লাগে তাদের কাছে। অধ্যবসায় ও অধ্যয়ন থাকলে ব্যাকরণ মোটেও কঠিন নয়। ব্যাকরণ তোমার ভাষার সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলবে।

নিজের ভাষায় লেখো: যে বিষয়বস্তু না বুঝে শুধু মুখস্থ করে সে তার প্রতিভা ধ্বংস করে। যা পড়বে বুঝে পড়বে। বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানার্জন করে তা নিজের ভাষায় লেখার চেষ্টা করবে। মানুষ শুধু পড়েই শেখে না। ভ্রমণ করে, চোখে দেখেও শেখে। তুমি দু’চোখে যা দেখো তা নিজের ভাষায় লেখার চেষ্টা করো। এতে তোমার লেখার হাত উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হবে।

সঠিক উচ্চারণ : কথা বলার সময় শব্দের সঠিক উচ্চারণ করলে ভাষার সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। শব্দের সঠিক উচ্চারণের জন্য তোমরা জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনীর, ‘ব্যবহারিক বাংলা উচ্চারণ অভিধান’ গ্রন্থটি অধ্যয়ন করতে পারো। বলায় ও কথায় আঞ্চলিকতা পরিহার করা ভাষার সৌন্দর্যের আরেকটি দিক।

আবৃত্তি চর্চা: কবিতা আবৃত্তির চেষ্টা করো। নামকরা আবৃত্তির ক্যাসেট শোন। আবৃত্তি প্রশিক্ষণ বা কর্মশালার খোঁজ পেলে সেখানে অংশ নাও। আবৃত্তির চেষ্টা বলার ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনবে।

শব্দ করে পত্রিকা পড়: তোমরা প্রতিদিনই কমবেশি খবরের কাগজ পড়ে থাকো। 

কিন্তু উচ্চস্বরে কি কেউ পড়? শব্দ করে কিছুক্ষণ পত্রিকা পড়। অভ্যাসটা গড়ে তোলো। হাতের কাছে রেকর্ডার থাকলে তাতে রেকর্ড করো। এরপর শোনা, কোথায় ভুল উচ্চারণ হচ্ছে। কোন জায়গায় বলার মধ্যে আঞ্চলিকতা আসছে কিনা।

শুদ্ধ করে বলার চেষ্টা: প্রমিত বাংলা অর্থাৎ শুদ্ধ করে কথা বলাটা কিন্তু কিছুক্ষণের প্র্যাকটিসে সম্ভব নয়। কারণ, এটি জীবনাচারের একটি অংশ। বেশিরভাগ সময় আঞ্চলিক টানে কথা বললে কখনোই তুমি প্রমিত বাংলা কথা বলতে পারবে না। তোমার পরিবেশে শুদ্ধ করে কথা বলতে লোকলজ্জা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

লোকলজ্জা পরিহারে তোমার চারিত্রিক দৃঢ়তা থাকতে হবে।

এখন তাহলে এ বিষয়গুলো নিয়ে একটু ভাবো। পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তবে চর্চা করো। ভাষার নিপুণতায় নিজেকে জড়িয়ে নাও। দেখবে এক আকর্ষণীয় ক্যারিয়ারে তুমি নিজেকে ভূষিত করেছ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ