ঢাকা, শনিবার 3 February 2018, ২১ মাঘ ১৪২৪, ১৬ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনে শর্মিলা ও বাদাবন ইকো কটেজ

খুলনা অফিস : ঘরে বসে সুন্দরবনের পাক-পাখালির ডাক। পায়ে হেঁটে সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্য উপভোগ। নিরাপত্তার সাথে রাত্রি যাপন। মানসম্মত খাবার গ্রহণ। স্বল্প খরচে লোকালয় থেকে খুব কাছে ভ্রমণ করেই পর্যটকদের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন উপভোগের সুযোগ।

পর্যটকদের জন্য সুন্দরবন ভ্রমণের এমন সুযোগ নিয়ে ২০১৭ সালে চাঁদপাই ফরেস্ট রেঞ্জের আওতায় কৈলাশগঞ্জ ও দক্ষিণ চিলায় কমিউনিটি ইকো ট্যুরিজমের অংশ হিসেবে দুইটি ইকো কটেজ স্থাপন করা হয়। যা চলতি জানুয়ারি থেকে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের জন্য চালু করা হয়েছে। চাঁদপাই সহ-ব্যবস্থাপনা সংগঠনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সুন্দরবন শর্মিলা ইকো কটেজ ও বাদাবন ইকো-কটেজ দুটি স্থাপন করেন।

সূত্র জানায়, সুন্দরবন সংরক্ষণে ও বনজীবীদের জীবিকায়নে বিশেষ অবদান রাখতে এই কমিউনিটি ইকো-ট্যুরিজম তৈরি করা হয়েছে। কমিউনিটি ইকো-ট্যুরিজম কার্যক্রমে সম্পৃক্ত বননির্ভর পরিবার এবং প্রকৃতি প্রেমিক পর্যটকরা বন সংরক্ষণে যতœবান থাকেন। ইকো-কটেজে ভ্রমণ সুন্দরবন সুরক্ষায় অবদান রাখবে (এই কটেজের আয়ের ৫% বনজীবীদের উন্নয়নে ব্যয় হবে এবং এই কটেজের সাথে ১০-২০ পরিবারের জীবিকায়ন হতে পারে) তথা বনজীবীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে। এ কটেজে এলে বনের আশেপাশের সহজ-সরল মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে পারবেন, তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, বিশ্বাস, ধর্ম, প্রথা জানতে পারবেন, কিভাবে সহ-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তারা বন রক্ষায় কাজ করছে তা জানতে পারবেন। রাতে তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।

সরেজমিনে বাদাবন ইকো কটেজ ঘুরে দেখা গেছে, গোলপাতা, কাঠ দিয়ে তৈরি মাটির ঘর। সামনের পুকুরের ওপর বসার জন্য গোল ঘর। বারান্দায় রয়েছে সংরক্ষিত মাটিতে বাঘের পায়ের চিহ্ন।

সুন্দরবন শর্মিলা ইকো-কটেজ ঘুরে দেখা গেছে, ইকো-কটেজের সামনে বড় পুকুর। পুকুরের ওপর বসার জন্য গোল ঘর, খড়ের গম্বুজ। গোলপাতার ছাউনি দেয়া মুলিবাঁশের ঘর। নাস্তার সাথে সুন্দরবনের নানা পাখির ডাকে সময় কাটানোর সুযোগ। সুন্দরবনের লোকগান, পালাগান স্থানীয় শিল্পীদের কাছ থেকে শোনার সুযোগ রয়েছে।

সুন্দরবন শর্মিলা ইকো-কটেজের পরিচালক শর্মিলা সরকার বলেন, এখানে যে কোন মওসুমে সুন্দরবন দেখার সুবিধা রয়েছে। সেই সাথে সুন্দরবনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে সেলাই-সুতার কাজ, বাঘের/হরিণের/কুমিরের নিদর্শন সে সকল কাজে ফুটে উঠেছে।

বাদাবন ইকো-কটেজের পরিচালক মো. লিটন জমাদ্দার বলেন, এখানে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য রয়েছে দেশি গরুর খাঁটি দুধ, দেশি মুরগি ও হাঁস, পাশের ক্ষেতের বিষমুক্ত সবজি, গাছের ফল, সুন্দরবনের খাঁটি মধু।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ