ঢাকা, শনিবার 3 February 2018, ২১ মাঘ ১৪২৪, ১৬ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিউইয়র্কের স্কুলে বাংলা সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ

আমাদের প্রিয়ভাষার মাস শুরুর প্রাককালে গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রতিদিন এনআরবি নিউজকে উদ্ধৃত করে একটি খবর ছেপেছে। খবরটি হলো: নিউইয়র্ক সিটির ১৮০০ পাবলিক স্কুলে প্রি-কে ক্লাসে সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে বাংলা অন্তর্ভুত হয়েছে। বাংলাভাষীদের জন্য এটা একটা আনন্দ সংবাদই বটে। তাও একটা-দু’টো নয়, ১ হাজার ৮ শ’ স্কুলে! একে বাংলাভাষার বিশ্বজয় বললেও অত্যুক্তি হয় না। বিশ্বের আরও কিছু দেশে বাংলাদেশী শিশুশিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাস্কুল বা বাংলাভাষা শেখার ব্যবস্থা আছে। এর প্রধান উদ্যোক্তা সাধারণত সেসব দেশে কর্মরত বাংলাদেশের দূতাবাস বা হাইকমিশনগুলো। তবে সেগুলো তেমন ব্যাপক নয়। কিন্তু নিউইয়র্কের এ আয়োজন ব্যতিক্রম মনে হচ্ছে। আমেরিকার সর্ববৃহৎ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক স্কুল সিটির স্কুল চ্যান্সেলর কারমেন ফারিনা বলেন, বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শনের সময় প্রি-কে বা থ্রি-কে ক্লাসে দেখেছি, অর্ধেক শিশুই তাদের মা-বাবার ভাষায় কথা বলে। বাকি অর্ধেক ইংরেজি ব্যবহার করে। উল্লেখ্য, এ ক্লাসগুলো তিনবছর বয়সী শিশুদের জন্য। চ্যান্সেলর ফারিনা বলেন, দ্বিভাষিক ক্লাসে তারা নিজেদের ভাষার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচিত হতে পারবে। একই সঙ্গে নিজেদের কালচার ও ট্রেডিশনের সঙ্গে তাদের চিনপরিচয় হবে। কংগ্রেসম্যান ভ্যালেস্কুয়েজ নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেন, বাসায় মা-বাবা যে ভাষায় কথা বলেন, সে ভাষাকেও ক্লাসে গুরুত্ব দেয়াতে বাচ্চারা আরও উৎসাহ পাবে। আমেরিকান ভাষার প্রতিও আগ্রহী হবে। একই সঙ্গে বহুজাতিক নিউইয়র্ক সিটি তথা আমেরিকান ট্রেডিশনকে মহিমান্বিত করতে এই শিশুরাও অপরিসীম ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বাংলা শুধু আমাদের মাতৃভাষা নয়। এভাষা এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বদরবারে। পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে বাংলাভাষায় বেতারকেন্দ্র বা রেডিও চালু হয়েছে। বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে চালু হয়েছে বাংলা বিভাগ। কয়েকটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাভাষা ও সাহিত্য পড়ানো হয়। বাংলাভাষার এ বিস্তার নিশ্চয়ই আমাদের জন্য গৌরবের। তবে বাংলাভাষা নিয়ে আমাদের অনেক দুর্বলতাও আছে। অনেকেই নিজের ভাষা বাংলা শুদ্ধ ও সঠিকভাবে লেখতে এবং বলতে পারেন না। অনেকের বই ছাপা হয় ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ ভাষায়। এমনকি পাঠ্যবইয়েও অসংখ্য ভুলত্রুটি থাকে। শুধু যে ছাপার ভুল থাকে তাই নয়। লেখার ভুল থাকে। সম্পাদনার ত্রুটি থাকে। এ বই যখন পাঠকের হাতে যায়, বিশেষত শিশুরা যখন ত্রুটিপূর্ণ বই পড়ে তখন তারা বিভ্রান্ত হয়। ভাষা সম্পর্কে ভুল ম্যাসেজ পায়। এতে ক্ষতি হয় বড়রকমের। যারা ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ বই শিশুদের হাতে তুলে দেন বা পাঠ্য করান তারা শুধু ভুলই করেন না। অপরাধও করেন।
নিউইয়র্ক সিটির এ বিপুল সংখ্যক স্কুলে শিশুদের জন্য পাঠ্য হিসেবে বাংলাভাষায় যেবই নির্বাচন করা হয়েছে বা হবে সেগুলো নির্ভুল বা ত্রুটিমুক্ত কিনা তা বিশেষজ্ঞ দিয়ে যাচাইবাছাই হওয়া খুবই জরুরি। এবিষয়টি দেখবার জন্য দায়িত্বশীল লোক নিয়োগ দেয়া দরকার। এসব স্কুলের হাজার হাজার শিশুশিক্ষার্থী বাংলাভাষা ভুলভাবে শিখলে মহৎ উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে। তাই বিদেশ বিভূঁইয়ে বাংলাভাষা শেখাবার যারা মহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের সাধুবাদ জ্ঞাপনের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক বাংলাভাষা শেখাবার পাঠপদ্ধতি সম্পর্কে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছি আমরা। সর্বোপরি নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক এবং বহুভাষিক সিটিতে যারা বিপুল সংখ্যক স্কুলে বাংলাভাষা শেখাবার মহৎ আয়োজন করেছেন তাদের অভিনন্দন জানাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ