ঢাকা, সোমবার 5 February 2018, ২৩ মাঘ ১৪২৪, ১৮ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার চেষ্টা করব

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে এসে মিডিয়া ব্রিফিং করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন -সংগ্রাম

*বিচার বিভাগে সৃষ্ট ক্ষত পূরণে প্রধান বিচারপতির প্রতি এডভোকেট জয়নুলের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার : নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের (নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগ) মধ্যে সমন্বয় রক্ষার চেষ্টা করবেন তিনি। প্রধান বিচারপতি হিসেবে কর্মদিবস শুরুর দিন গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এজলাসে বসে এ কথা বলেন মাহমুদ হোসেন। এর আগে এজলাসে আইনজীবীরা সংবর্ধনা দেন প্রধান বিচারপতিকে। 

গত শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। গতকাল রোববার সকালে তিনি সুপ্রিম কোর্টে এলে রেজিস্ট্রার জেনারেল জাকির হোসেনসহ সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। রেওয়াজ অনুযায়ী আপিল বিভাগের ১ নম্বর বিচারকক্ষে নতুন প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আপিল ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে শুরুতে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বক্তব্য দেন। এরপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষের দিকে বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে ১১টা ৪০ মিনিটে শেষ করেন তিনি। ১৩ মিনিটের বক্তব্যের শুরুতে আইনজীবীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে দেশে দৃঢ়ভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং প্রতিটি মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমার পক্ষে যা করা সম্ভব, তার সবটুকু আমি করব। আমি আশা করি বিচারক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে আমার দায়িত্ব পালনে বারের (আইনজীবী সমিতি) সদস্যগণ যেভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, ঠিক সেভাবে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও আপনাদের সহযোগিতা পাব।

প্রধান বিচারপতি বলেন, রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় হলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব। আর এ লক্ষ্যে কাজ করা জরুরি। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ- আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবলমাত্র একটি দেশ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারে', বলেন দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি।

সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে সংবিধান অনুসারে যেন দায়িত্ব পালন করে, তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করবেন বলে জানান সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে এমনভাবে আদালতের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে হবে, যেন আদালত অঙ্গনে প্রবেশ করার সাথে সাথে শক্তিমান-দুর্বল, ধনী-গরীব সকলের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মে যে তারা সকলেই সমান এবং আদালতের নিকট শুধুমাত্র আইন অনুযায়ী প্রত্যেকে ন্যায়বিচার পাবেন।'

মামলা জটের ব্যাপারে বারের সহযোগিতা প্রয়োজন জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, মামলা জট আজকে আমাদের বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ প্রধান বিচারপতি বলেন, বলা হয়ে থাকে বার ও বেঞ্চ একই পাখির দুইটি পাখা। একটির অভাবে অন্যটি অচল। তাই মামলা জট আজ শুধু আদালতের একার সমস্যা নয়। এটি বারের জন্যও একটি অস্বস্তির কারণ। মামলার পাহাড় যত জমতে থাকবে, আদালতের সাথে সাথে বারের প্রতিও তেমনি বিচারপ্রার্থী মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা কমতে থাকবে।

মামলা জটের সমস্যা সমাধানে তাই বারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারের তথ্য–প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করা হবে। পরবর্তী সময়ে ব্যবহারের মাত্রা বাড়িয়ে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের পথে অগ্রসর হবে বিচার প্রক্রিয়া।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান উল্লেখ্য করে বলেন, আমি এই মুহূর্তে আল্লাহকে স্মরণ করছি। আমার পিতা-মাতাকে স্মরণ করছি। তাদের দোয়া নিয়ে আমি এত দূর এগিয়েছি।'

 ফেব্রুয়ারি মাসে ভাষা শহীদ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন প্রধান বিচারপতি। নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতির কর্মদিবসের প্রথম দিনে গতকাল এ সংবর্ধনা উপলক্ষে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হয়।

বিচার বিভাগে সৃষ্ট ক্ষত পূরণে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান: এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ফাইল ছবিদেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগে সৃষ্ট ক্ষত পূরণ করতে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

গতকাল সকালে প্রধান বিচারপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে আজ এক চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই সুযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে ঢালাওভাবে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা করছে। একেকটি মামলায় শত থেকে হাজার জনকে আসামি দেখানো হচ্ছে। আর গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে অবাধে গ্রেফতার বাণিজ্য চলছে। এই মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিও রক্ষা পায়নি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধেও রাজৈনতিকভাবে মামলা দিয়ে মানসম্মান ক্ষুণœ করছে, যা অতীতে আমরা কখনও দেখিনি।

প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ করা এবং বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাকে বিদায় দেওয়ায় দেশে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল এবং এতে করে বিচার বিভাগ মহাসংকটের সম্মুখীন হয়েছে। 

প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন,'মাননীয় প্রধান বিচারপতি, আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তার মূল চেতনা হচ্ছে গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের পূর্ব শর্ত হচ্ছে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের বিচারব্যবস্থা, বিশেষ করে নিম্ন আদালত এখনো সরকারি প্রশাসনের প্রভাব বলয়ে আটকে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে বিচারব্যবস্থাকে রক্ষা করা আপনার জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত হলো সংবিধানের রক্ষক, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল। তাই রাজনৈতিক কারণে ঢালাওভাবে হাজার হাজার লোককে নির্বিচারে আসামি করে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের প্রচেষ্টা চলছে। সে ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ অবশ্যই পুলিশের গ্রেফতার ও নির্যাতন হতে বারের জন্য আগাম জামিনের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখাবেন বলে আমরা আশা করি এবং এই ব্যাপারে প্রধান বিচারপতির বিশেষ দৃষ্টি থাকবে।

মামলাজট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে দীর্ঘদিন যাবৎ হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এইসব মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গতিবেগ আনার জন্য যে ধরনের যোগ্য, মেধাসম্পন্ন বিচারক নিয়োগ প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পর উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, আপনার নিয়োগের পর আমরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এক জরুরি সভা করেছি। এই সমিতি অতীতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে। আমরাও সর্ব ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের বিরোধী। আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। আপনার নিকট আমাদের অনেক প্রত্যাশা। আশা করি আমাদের সমস্যায় আপনার আন্তরিক সহযোগিতা পাব।

আদালতে দুর্নীতি হচ্ছে: অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের বিচার বিভাগের অবক্ষয় ঘটেছে। সাধারণ জনগণের কাছে এ আদালতের যে ভাবমূর্তি ছিল তাতে পরিবর্তন এসেছে। আদালতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভেতরে একটি বিরাট অংশ ইতিমধ্যে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।

নতুন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা বলেন। মাহবুবে আলম বলেন, আদালতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভেতরে একটি বিরাট অংশ ইতিমধ্যে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন এবং যারা এখনো সৎ আছেন এভাবে চলতে থাকলে তাদের পক্ষেও সততা বজায় রাখা কঠিন হবে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়াবহ যে বিষয়টি, তা হলো বিশেষ বিশেষ কোর্টের, বিশেষ বিশেষ আইনজীবীর কোর্ট হয়ে গেছে এবং অনেক সময় অনেক সিনিয়র এডভোকেটের কাছ থেকে ব্রিফ নিয়ে তাদেরকে নিয়োগদান করা হচ্ছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচারপ্রার্থী ব্যক্তিরা অনেকে জেনে গেছেন, কোন কোর্টে কাকে নিয়ে গেলে মামলা জেতা যাবে। এটাতো ন্যায়বিচারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ বিষযে অনেকেই ছুটছেন বিচারপতিদের সন্তান, স্ত্রী যারা আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত আছেন তাদের দিকে। তাদের চিন্তা হলে, এদেরকে নিয়ে গেলে হয়ত মামলায় জেতা যাবে। বিচারপতিদের আত্মীয় বা সন্তানরা আগেও এ পেশায় ছিলেন, কিন্তু কখনো এরূপ অবস্থার সৃষ্টি হয়নি, এখন কেন বিচারপ্রার্থীদের আচরণ এরূপ হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার।

মাহবুবে আলম বলেন, ‘ইতঃপূর্বে একজন প্রধান বিচারপতিকে এই আদালতে সংবর্ধনা দেওয়ার সময় আমি এ আদালতের অবক্ষয়ের কিছু নমুনা তুলে ধরেছিলাম এবং আমার এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি তদন্তের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তদন্ত অনেকটা অগ্রসরও হয়েছিল। কিন্তু যখন পরবর্তী প্রধান বিচারপতি এলেন, উনার দপ্তর থেকে সেই ফাইলটি নিখোঁজ হয়ে গেল। ’

সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, সংবিধানের বিধানমত আপনি ২০২১ সনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির পদে আসীন থাকবেন। এ সময়টা একটি দীর্ঘ সময়, প্রায় চার বছর। আমাদের বিচার বিভাগের বর্তমানের যে অবস্থা, আপনার এই সময়কালে তাতে আপনি আমূল পরিবর্তন আনতে পারেন, যদি এ বিষয়ে আপনি দৃঢ়ভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমরা যখন এই আদালতে ঢুকলাম তখন দেখেছি একটি মামলা শুনানি হয়েছে এবং তার রায় দেওয়া হয়েছে সঙ্গে সঙ্গে। কালে-ভদ্রে দুই একটি মামলা রায়ের জন্য সি.এ.ভি করে রাখা হতো এবং আগের মামলার রায় শেষ হওয়ার পরে পরবর্তী মামলাটি ধরা হতো। এখন দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো আদালতে বিনা নোটিশে মামলা আংশিক শ্রুত হচ্ছে। অনেক মামলা শুনানির পরে রায় দেওয়া হচ্ছে না দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। আবার দেখা যায় মামলার রায় হলেও পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হচ্ছে না মাসের পর মাস।

দেশের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা বলেন, আদালতে যোগদানের পর দেখেছি সকাল সাড়ে দশটায় ঠিক কাঁটায় কাঁটায় অনেক বিচারপতি এজলাসে বসতেন এবং কোর্টে আসীন হওয়া ও কোর্ট থেকে নেমে পড়ার ব্যাপারে কজ লিস্ট-এ যে সময় দেওয়া আছে তার কোন ব্যত্যয় হতো না। কিন্তু এখন কজ লিস্ট-এর যে সময় ধার্য করে দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে বিচারকদের আদালতে ওঠা বা নামার কোনোই সঙ্গতি নেই। এ অবস্থা চললে বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি ঢালাওভাবে হাইকোর্টের সমস্ত বেঞ্চের জন্য একথা বলছি না। অনেক বিচারকই বিচারকার্য হাতের মুঠোয় রেখেছেন এবং আদালতের কর্মকর্তারা তাদের কথা মতো কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সঠিকভাবে ও আইনজীবীদের প্রত্যাশা মতো তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কতিপয় বিচারপতির আদালত চালানোর অব্যবস্থা দ্বারা সমস্ত বিচারালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তার কারণ, সুগন্ধের পরিধি হয় সীমিত অথচ দুর্গন্ধের পরিধি হয় বিস্তৃত।

মাহবুবে আলম বলেন, ইদানীং ষোড়শ সংশোধনী মামলায় সরকার হেরে গিয়েছে সত্য, আমার বিবেচনায় সরকার হেরেছে, কিন্তু ইতিহাস জিতেছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে তৎকালীন সরকার যেহেতু চায়নি বিচার হোক, সেজন্য বিচারই শুরু হয়নি। যখন বিচার শুরু হলো, এ আদালতেরই অনেক বেঞ্চ মামলা শুনতে চায়নি এবং সে সময়ে কোনো রায়ে বঙ্গবন্ধুর নামও উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ে প্রত্যেক বিচারক বঙ্গবন্ধুকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামে’ উল্লেখ করেছেন এবং জাতির পিতা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান বিচারপতির শ্রদ্ধা: জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পার্ঘ অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। গতকাল বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সড়ক পথে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে তিনি এই শ্রদ্ধা জানান।

এসময় বিচার বিভাগের অন্যান্য বিচারপতিরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এক মিনিট নীরবতা পালন করেন প্রধান বিচারপতি।

পরে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বহিতে নিজের অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর গণমাধ্যমকর্মীরা প্রধান বিচারপতির অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে চলেন।

এর আগে স্মৃতিসৌধে প্রধান বিচারপতি পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান সাভারের সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ রাসেল, এবং সাভার জাতীয় স্মৃতিসৈাধের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। 

এর আগে দুপুরে দেড়টার দিকে তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

উল্লেখ্য, শনিবার বঙ্গভবনে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন। এ আদেশ শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ