ঢাকা, সোমবার 5 February 2018, ২৩ মাঘ ১৪২৪, ১৮ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মমিনুলের জোড়া সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম থেকে : রোববার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অসাধারণ লড়াইয়ে চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র হয়েছে। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট হারার শঙ্কা ছিল। ম্যাচ বাঁচাতে মরিয়া ছিল বাংলাদেশ দল। আগের দিন তাইজুল বলেছিল যেকোনোভাবে ম্যাচ ব্াচাতে হবে তাদের। তবে মমিনুল হকের ১০৫ রান আর লিটন দাসের ৯৪ রানের ওপর ভর করে ম্যাচ ড্র করেছে টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সব উইকেট হারিয়ে ৫১৩ ও শ্রীলঙ্কা ৯ উইকেটে ৭১৩ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। ২০০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল বাংলাদেশ।

ম্যাচের চতুর্থদিন দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রানে ৩ উইকেটে হারিয়ে বেশ চাপে পড়েছিল স্বাগতিকরা। ১১৯ রানে পিছিয়ে থেকে পঞ্চম দিন ব্যাটিং শুরু করেন স্বাগতিকরা। ওইদিন দলের পক্ষে আরো ২২৬ রান যোগ করে টাইগাররা। সবশেষ ১০০ ওভারে  ৫ উইকেটে ৩০৭ রান  সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। ফলে দুপুর সাড়ে তিনটায় দুই অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও দিনেশ চান্ডিমালের সম্মতিতে ম্যাচ ড্র ঘোষণা করা হয়। এসময় ১০৭ রানে এগিয়ে টাইগাররা। তখনো প্রায় ১৭ ওভার খেলা বাকী ছিল। 

এই ম্যাচের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ৩২তম জন্মবার্ষিকীতে দলের হার এড়িযেছেন। তিনি জন্মদিনের খুশিটা উইকেটে থেকেই উপহার পেয়েছেন। স্বস্তি¡তে বাংলাদেশ ম্যাচ শেষ করেছে। এই টেস্ট তাই থাকবে সামনে এগিয়ে চলার পাথেয় হয়ে। হয়তো তার চেয়েও বেশি করে মনে থাকবে, মুমিনুলের টেস্ট হিসেবে!

 শেষ দিনটায় তৃপ্তি থাকলেও আগের দিন হতাশায় মোড়ানো ছিল বাংলাদেশের।  ৩ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল স্বাগতিকরা।  তাই শেষ দিন ভিন্ন ইতিহাস রচনার প্রয়োজন ছিল।  যা করে দেখিয়েছেন মুমিনুল হক। এক সময় ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশকে লিডের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন মুমিনুল। আর সেই ভিত্তি গড়তে রেকর্ডবুকটাও নতুন করে লিখেছেন। টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া ছাড়াও এক টেস্টে সর্বাধিক রানের মালিক এখন মুমিনুল। এমন ঐতিহাসিক দিনে প্রথম সেশনটা দাপটের সঙ্গে শেষ করেন মুমিনুল হক ও লিটন দাস জুটি। প্রথম সেশনে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন মুমিনুল।  মধ্যাহ্নভোজনের পর ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন দাস।  দাপটের সঙ্গে প্রথম সেশন পার করা জুটি ২৮.১ ওভারে বিনা উইকেটে করে ১০৬ রান।

১১৯ রানে পিছিয়ে থেকে পঞ্চম দিনে ব্যাটিং শুরু করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ক্রিজে আসেন আগের দিনের অপরাজিত মুমিনুল হক। সাথে যোগ হয় লিটন দাশ। ৭৭.২ ওভারে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে দিমুথ করুনারতেœ ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফিরেন মমিনুল হক। তার আগে মমিনুল ১৭৪ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৫ রান সংগ্রহ করেন। ৪ উইকেটে রান ২৬১। ৮২.২ ওভারে রঙ্গনা হেরাথের বলে দিলরুয়ান পেরেরার তালুবন্দি হন লিটন দাস। তিনি ১৮২ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৯৪ রান সংগ্রহ করেন। ৫ উইকেটে রান ২৭৯ রান। ম্যাচ ড্র হওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ৩০৭ রান। মাহমুদুল্লাহ ২৮ রানে ও মোসাদ্দেক হোসেন ৮রানে অপরাজিত ছিলেন। মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, সানজামুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমানকে ব্যাট করতে হয়নি। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১০০ ওভারে ৩০৭/৫ (তামিম ৪১, ইমরুল ১৯, মুমিনুল ১০৫, মুশফিক ২, লিটন ৯৪, মাহমুদুল্লাহ ২৮*, মোসাদ্দেক ৮*; হেরাথ ২/৮০, লাকমল ০/২৫, ধনঞ্জয়া ১/৪১, দিলরুয়ান ১/৭৪, সান্দকান ১/৬৪, কুমারা ০/১৬, মেন্ডিস ০/২)। 

 শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৭১৩/৯, ইনিংস ঘোষণা।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫১৩। 

 ফল: ২ ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র।

ম্যাচ সেরা : মমিনুল হক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ