ঢাকা, সোমবার 5 February 2018, ২৩ মাঘ ১৪২৪, ১৮ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বোরো রোপণের ভরা মওসুমেও জিকে সেচ ক্যানেলে পানি নেই

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আওতাধীন জিকে ক্যানেলে বোরোধান রোপণের মওসুম শেষ হতে চললেও এক ফোঁটা পানি নেই

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আওতাধীন জিকে ক্যানেলে বোরোধান রোপণের মওসুম শেষ হতে চললেও এক ফোঁটা পানি নেই। সেচ প্রকল্পের মেইন ক্যানেলের বুকজুড়ে এখন শুধুই হাহাকার। পানির অভাবে আলমডাঙ্গার জিকে সেচ প্রকল্পের আওতাধীন বেশিরভাগ কৃষকরা এখনও বোরোধান রোপণ করতে পারেননি। ফলে সবুজ ধানক্ষেতের বদলে এসব ফসলি জমি এখনও রয়েছে গোচারণভূমি। বিলম্বে বোরোধান রোপণের কারণে উপজেলার জিকে সেচ প্রকল্পের আওতাধীন ৬৫ হাজার ৯শত বিঘাসহ চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলার কয়েক লাখ হেক্টর জমির বোরো ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার ৬৫ হাজার ৯শ বিঘার অধিক ফসলি জমি জিকে সেচ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার কয়েক লাখ হেক্টর কৃষি জমি জিকে অর্থাৎ গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের আওতাভুক্ত। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বছর সময়মতো সেচের পানি সরবরাহ না করায় বিপাকে পড়েছেন উপজেলার কয়েক হাজারসহ তিন জেলার কয়েক লাখ কৃষক। পানির অভাবে বোরোধান রোপণ করতে পারছে না তারা। এতে করে একদিকেপ যেমন বীজতলায় চারার বয়স বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বোরো রোপণের প্রকৃত সময় ইতোমধ্যেই অতিবাহিত হয়ে গেছে।
জানুয়ারি মাস শেষ হলেও আলমডাঙ্গা উপজেলাসহ তিন জেলার কৃষকরা সেচের পানির অভাবে বোরো ধান রোপণ করতে পারেনি। খুবই অল্প সংখ্যক কৃষক ডিপ টিউবওয়েল বা শ্যালোমেশিনের সাহায্যে সেচ দিয়ে ধানের চারা রোপণ করেছে। তবে জিকে সেচ প্রকল্পের আওতাধীন জমিতে শ্যালোমেশিনের সাহায্যে সেচ দেবার ব্যবস্থা সাধারণত নেই। ফলে প্রায় সকল কৃষকই আদ্যবধি পানির দিকে তাকিয়ে আছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম হাসিবুল ইসলাম বলেন, দেরিতে রোপণের ফলে বীজতলাতেই চারা বয়ষ্ক হয়ে পড়ে।
ওই বয়ষ্ক চারা জমিতে রোপণের পর রোগব্যাধিতে বেশি আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। অপরিণত ধানক্ষেতে থোড় দেখা দেয়। উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। অথচ ফলন কমে যাবে। সেচের অভাবে বিলম্বে বোরো ধান রোপণের ফলে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ফলনের ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া দেরিতে ধান ঘরে তোলার ক্ষেত্রে ঝড়, শিলাবৃষ্টির মতো অনাকাক্সিক্ষত প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থেকে যায়।
কেনো পানি উন্নয়ন বোর্ড এবার সময়মত জিকে ক্যানেলগুলিতে সেচের পানি দিতে বিলম্ব করছে? এ প্রশ্নের জবাব মেলেনি। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও নির্দিষ্ট করে কোনো জবাব দিতে পারেননি। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই পানি পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপ্রকৌশলি (সম্প্রসারণ) হাফিজ উদ্দীন জানিয়েছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজি নির্দেশ দিয়েছিলেন ১৫ জানুয়ারির মধ্যে পানি উত্তোলনের পা¤প চালু করতে কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। পদ্মা নদী থেকে সেচপা¤প অবধি পলি পড়েছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৮৫০ মিটার পলি জমলেও এবার প্রায় ১৬ মিটার পর্যন্ত পলি জমেছে,সে কারণে দেরি হচ্ছে। তাছাড়া চলছে পা¤প মেরামত কাজ। এই সপ্তার মধ্যে জিকে ক্যানেলে পানি দেয়া হবে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ফসলি জমিতে সময়মত সেচের পানি সরবরাহ করা। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তারা সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে যে কাজে টাকা আছে সেসব প্রকল্প নিয়ে বেশি ব্যস্ত। ফলে বৃহত্তর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসিনতায় ফসলের ফলন বিপর্যয়ের মতো ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে কৃষকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ