ঢাকা, সোমবার 5 February 2018, ২৩ মাঘ ১৪২৪, ১৮ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অর্থপাচার তদন্তে প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিচ্ছে এনবিআর

 

স্টাফ রিপোর্টার: বিদেশে অর্থপাচারের তদন্ত করতে একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

গতকাল রোববার বিকেলে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে এনবিআর-বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর ও বিএফআইইউ এর প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, এনবিআরের সদস্য, বিএফআইউ ও এনবিআরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থপাচার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের যে ফিগারের কথা বলা হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে যে তা অথেনটিক তা বলা যাবে না। পূর্বে যে অর্থপাচার হয়েছে তা নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন কিছু কাজ করেছে, এখনও করছে। এনবিআর থেকে একটি একাউন্টিং ফার্মকে তদন্ত করার কাজ দেওয়ার জন্য চিন্তাভাবনা করছি। যাতে করে যদি বাইরে অর্থপাচার হয়ে থাকে তারা যাতে সেসব তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ওই একাউন্টিং ফার্মটি অর্থপাচার নিয়ে দেশের বাইরে কিছু কাজ করে। যদি সম্ভব হয় প্রতিষ্ঠানটিও তথ্য বের করবে।

প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রকাশ না করে চেয়ারম্যান বলেন, আমরা প্রতিষ্ঠানটির সাথে সমঝোতা স্মারক সই করার পর নাম বলবো। প্রতিষ্ঠানটি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। যেটি আমাদের দেশেও অর্থপাচার নিয়ে কিছু কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট অর্থপাচার তদন্তের কাজ শুরু করেছে। তারা যখন পূর্ণাঙ্গরূপে কাজ করবে তখন তাদের সক্ষমতা বাড়বে। ইতোমধ্যে যদি কিছু অর্থপাচার হয়ে থাকে তারা তা অনুসন্ধান করবে, ভবিষ্যতে যাতে পাচার না হয় সে চেষ্টা জোরদার করা হবে।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অর্থপাচার প্রতিরোধে বিএফআইইউ এর সঙ্গে প্রথম এনবিআর সমঝোতা স্মারকে সই করছে। এরপর পুলিশ ও দুদকের সঙ্গে সই করবে। এর মাধ্যমে আমরা কোনো অর্থপাচারের তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের জানাবো, তারা পেলে আমাদের জানাবে।

 চেয়ারম্যান বলেন, অর্থপাচার খুব স্পর্শকাতর বিষয়। এটি যে আমাদের চোখের সামনে দিয়ে কেউ করে এমন কোনো কথা নয়। অত্যন্ত গোপনীয় ও সর্তকতার সঙ্গে এটি করা হয়। বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের কোনো তথ্য আমরা পেলে সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে জানাতে পারি, তারা যাতে সেটি রোধ করতে পারে এজন্য এ সমঝোতা। আমাদের জানালেও আমরা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করবো।

তিনি বলেন, বিএফআইইউ যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত হচ্ছে কিন্তু বিএফআইইউ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনভাবে বিএফআইইউ কাজ করবে।

অর্থপাচার বিষয়ে এনবিআরের পক্ষ থেকে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইসি) সাবেক যুগ্ম পরিচালক ড. নুরুল আমিন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর সাথে এনবিআরের মান্ডিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক তথ্য বিনিময়কে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন থেকে এ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আলোচনার পর দুই পক্ষ এ সমঝোতা সই করতে রাজি হয়।

সমঝোতা স্মারকের প্রধান উদ্দেশ্য সমূহ তুলে ধরে তিনি বলেন, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন অপরাধ দমনে পারস্পরিক তথ্য বিনিময় এবং আন্ত:সংস্থা সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নরোধ, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ মতামত প্রদান, প্রশিক্ষণ প্রদান, অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদান এবং লজিষ্টিক সহায়তা প্রদান করা। সমঝোতা স্মারকের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এক পক্ষ অপর পক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করবে, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ মতামত গ্রহণ বা প্রদান করবে, এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বিনিময় করা।

সমঝোতা স্মারকের প্রয়োগ উল্লেখ করে ড. নুরুল আমিন বলেন, সমঝোতা স্মারকের আওতায় কার্যকর যোগাযোগ রক্ষার জন্য উভয় পক্ষে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রাথমিক যোগাযোগ কর্মকর্তা থাকবেন। এনবিআরের পক্ষে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এর মহাপরিচালক এবং বিএফআইইউ এর পক্ষে এর মহাব্যবস্থাপক ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এনবিআরের প্রাথমিক যোগাযোগ কর্মকর্তারা এনবিআর চেয়ারম্যান, বা ফোকাল পয়েন্টকে অবহিত রেখে সরাসরি বিএফআইইউ এর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে পারবেন। ফোকাল পয়েন্ট এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় চুক্তিভুক্ত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন।

সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রেটি (জিএফআই) এর প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলা হয়, প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৫-২০১৪ মেয়াদে বাংলাদেশ হতে ৬১ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের জিডিপি’র প্রায় ২৫ শতাংশ। মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী কাজ এবং সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়নের ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার দেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।

আরো বলা হয়, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন অপরাধ প্রতিরোধ ও এ বিষয়ক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা দেশে বিদ্যমান ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’ ও ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯’ অনুসারে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার নিজ নিজ দায়িত্ব। এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার একযোগে কাজ করা এবং পারস্পরিক তথ্য বিনিময়ের বিষয়টি এ সংক্রান্ত অপরাধ দমনের জন্য অতি জরুরি। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিএফআইইউ এবং এনবিআর এর মধ্যে সই হচ্ছে এ সমঝোতা স্মারক।

এর আগে এনবিআর-বিএফআইইউ এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এনবিআরের সদস্য (বোর্ড প্রশাসন) এসএম আশফাক হুসেন এবং বিএফআইইউ এর নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি মো. মিজানুর রহমান জোদ্দার সমঝোতা সই করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ