ঢাকা, সোমবার 5 February 2018, ২৩ মাঘ ১৪২৪, ১৮ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো সবার জন্য সুখকর নয় -সুলতানা কামাল

স্টাফ রিপোর্টার : আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেছেন, এসব ঘটনা সবার জন্য সুখকর নয়।
গতকাল রোববার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলন এ কথা বলেন তিনি। সম্প্রতি রাঙামাটিতে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের সময় দুই আদিবাসী তরুণীকে যৌন নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনটি করা হয়।
নিপীড়নের শিকার দুই তরুণীকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি অভিযোগ করে সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, ওই দুই তরুণী চাকমা রাজার জিম্মায় যেতে চাইলেও পুলিশ নিজেদের জিম্মায় রেখেছে তাদের।
পুলিশের ডিআইজি মিজানসহ সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগ গণমাধ্যমে আসছে উল্লেখ করে সুলতানা কামাল বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাগরিকদের ভালোভাবে কাজে আসছে না। তবে এ বিষয়ে ঢালাও বক্তব্য দেওয়া উচিত নয় বলেও জানান তিনি।
সুলতানা কামাল বলেন, যে ধরনের অভিযোগ আসছে, তা আমাদের নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা উচিত। এ জন্য জনমত গঠন করতে হবে। কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো সবার জন্য সুখকর নয়। গুরুত্ব না দেয়া ও বিচার না করায় বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা বিব্রতকর হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই মানবাধিকার কর্মী। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সংখ্যালঘু যারা আছেন তারা আরো বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সুলতানা কামাল বলেন, যারা এ ধরনের নির্যাতনের সম্মুখীন হতে বাধ্য হন, এসবের বিচারের ব্যবস্থা কীভাবে নস্যাৎ করে দেওয়া হয় তা যদি আপনারা একটু ধৈর্য সহকারে উপস্থাপন করেন, তাহলে যে বিপর্যয়ের মুখে দুই আদিবাসী তরুণী পড়েছেন, তা থেকে হয়তো উঠে আসতে পারবেন তারা।
ওই দুই আদিবাসী তরুণীর ওপর নির‌্যাতনের বর্ণনা সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরেন সুলতানা কামাল। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২২ জানুয়ারি রাতে রাঙামাটির দীঘলছড়ির ফারুয়া আর্মি ক্যাম্পের সেনাসদস্যরা বিলাইছড়ি থানার ওরাছড়ি গ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে যান। একপর্যায়ে দুই সেনা সদস্য একই পরিবারের দুই সহদোর বোনকে যৌন নিপীড়ন ও হয়নারি করেন। ঘটনার দিন সেনাবাহিনীর একটি দল নির্যাতনের শিকার দুই বোনের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন।
২৩ জানুয়ারি বিলাইছড়ি থানায় সাধারণ ডায়রি করে দুই তরুণী রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি হন জানিয়ে সুলতানা কামাল বলেন, সেনাবাহিনী ভিকটিমের বাবা-মা, দীঘলছড়ি জোনের হেডম্যান ও কারবারিকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে হেডম্যান ও কারবারিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ নির্যাতিত দুই বোনকে হাসপাতালের একটা কক্ষে আটকে রাখে। তারা চাকমা রাজার জিম্মায় যেতে চায়। কিন্তু পুলিশ তাদের যেতে দিতে বাধা দিচ্ছে।
পুলিশের দাবি, ডিএনএ, ডাক্তারি পরীক্ষা ও ভেজাইনাল স্পাম টেস্টের জন্য দুই তরুণীকে হেফাজতে রেখেছে তারা। এই পরীক্ষাগুলো করতে পুলিশ রাঙামাটির চিফ জুডিশিয়াল আদালতে আবেদন জানিয়েছে। তবে আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে দেয় বলে জানান সুলতানা কামাল।
ওই দুই তরুণীকে চাকমা রাজার হেফাজতে দেয়া, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করাসহ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয় সাংবাদিক সম্মেলনে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ