ঢাকা, সোমবার 5 February 2018, ২৩ মাঘ ১৪২৪, ১৮ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

‘পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিন্ন স্বার্থের জায়গা খুঁজে বের করতে হবে’

পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আইজাজ আহমাদ চৌধুরী

৪ ফেব্রুয়ারি, এনপিআর : পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আইজাজ আহমাদ চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (এনপিআর)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, একসঙ্গে কাজ করার জন্য পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রকে একটি অভিন্ন স্বার্থের জায়গা খুঁজে বের করা উচিত। এ ধরনের একটি  সম্পর্ক ভেঙে দেওয়াটা ভুল হবে যা সাত দশক ধরে উভয় পক্ষকেই লাভবান করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (এনপিআর)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আইজাজ আহমাদ চৌধুরী।
শনিবার ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওতে তার এই সাক্ষাৎকার সম্প্রচারিত হয়।
আইজাজ আহমাদ চৌধুরী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা ভালো সম্পর্ক রাখতে চাই। এ নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই।’
তিনি বলেন, দুই দেশ সাত দশক ধরে একসঙ্গে কাজ করেছে। এ থেকে দুই দেশই লাভবান হয়েছে। সম্পর্কের অবনতি হলে উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা মনে করি এই সম্পর্ক ভেঙে দেওয়াটা ভুল হবে।
২০১৮ সালের প্রথম দিনে বছরের প্রথম টুইটে পাকিস্তানের প্রতি বিষেদগার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বোকার মতোই পাকিস্তানকে গত ১৫ বছরে ৩৩ বিলিয়ন ডলার সহযোগিতা দিয়েছে। বিপরীতে তারা আমাদের মিথ্যা ও শঠতা ছাড়া কিছুই দেয়নি। তারা আমাদের নেতাদের বোকা ভাবছে। আমরা আফগানিস্তানে যেসব সন্ত্রাসীদের তাড়া করছি তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে পাকিস্তান। আমাদের কোনও সহযোগিতা করছে না। আর না।’ ট্রাম্পের ওই টুইটকে ‘খুবই হতাশাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেন আইজাজ আহমাদ চৌধুরী। এই কূটনীতিক বলেন, দুই দেশের মধ্যকার উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় যখন একসঙ্গে কাজ করার জন্য একটি অভিন্ন স্বার্থের জায়গা খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই টুইট ইসলামাবাদকে অবাক করেছে।
২০১৭ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসের পাকিস্তান সফরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন আইজাজ আহমাদ চৌধুরী। গত অক্টোবর ও ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের এই দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী পাকিস্তান সফর করেন। আইজাজ আহমাদ চৌধুরী বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের এসব বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে। ধারণাটি ছিল এমন যে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস দুই দেশের কাজের ক্ষেত্রে অভিন্ন স্বার্থের জায়গা খুঁজে বের করবেন।’ তিনি বলেন, দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে কিংবা অসম্মানজনক আচরণ না করে দুই দেশের উচিত অভিন্ন স্বার্থের জায়গা খুঁজে বের করা। এই কূটনীতিক বলেন, ইসলামাবাদ বিশ্বাস করে পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসই সম্পর্কের ভিত্তি। আমি মনে করি যে ভবিষ্যতেও সম্পর্কের ভিত্তি এমনটাই হওয়া উচিত।
আফগানিস্তান নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে আইজাজ আহমাদ চৌধুরী বলেন, আফগানিস্তানের সহিংসতা থেকে পাকিস্তানের হারানো ছাড়া পাওয়ার কিছু নেই। আমরাই একমাত্র দেশ যারা আফগানিস্তানে শান্তি ফিরলে দেশটির জনগণের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।
এই ঝানু কূটনীতিক প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ইসলামাবাদ কেন আফগানিস্তানকে অস্থিতিশীল করে তোলার মতো উপাদানগুলোতে সমর্থন দেবে এবং এর মধ্য দিয়ে নিজ দেশে অস্থিতিশীলতা ডেকে আনবে?
এ বছরের জানুয়ারিতে কাবুলে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন দুই শতাধিক মানুষ। পরে তালেবান এর দায় স্বীকার করে। এ ধরনের হামলার ঘটনায় আফগান সরকার পাকিস্তানের যোগসাজশ খোঁজায় হতাশা ব্যক্ত করেন আইজাজ আহমাদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, আমরা এসব হামলার নিন্দা জানাই। নিরপরাধ মানুষের জীবন গেছে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামাবাদে নিযুক্ত আফগান দূতাবাসে গিয়েছেন। আমরা আফগান জনগণ ও সরকারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছি। তবে যে কোনও ঘটনায় আফগান সরকারের পাকিস্তানকে দায়ী করার যে প্রবণতা তা হতাশাজনক।
আইজাজ আহমাদ চৌধুরী বলেন, নিজের সমস্যায় বিদেশী শক্তির ওপর দোষ চাপানোর আফগান সরকারের যে প্রবণতা সমস্যা সমাধানে তা কোনও সাহায্য করবে না। আফগানিস্তানে বিদ্যমান সহিংসতার সমাধান নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একটি বিস্তৃত পদ্ধতি থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে সব গোষ্ঠীর মধ্যে একটি সত্যিকারের রাজনৈতিক সংলাপ হতে পারে। তিনি বলেন, এখানে আমরা কোনও পক্ষ হতে চাই না। আমরা মনে করি এটা আফগান সরকার ও দেশটির বিবদমান সব পক্ষগুলোর বিষয়। তালেবানদের অবশ্যই সেই প্রক্রিয়ার অংশ হতে হবে। এই কূটনীতিক বলেন, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই দফা উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উদ্যোগে আফগানিস্তানে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফার উদ্যোগে তালেবানদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে একমত হয় চার দেশ। দেশগুলোর তরফ থেকে বলা হয়, তালেবানদের আগে সহিংসতার পথ পরিহার করতে হবে। কিন্তু তাদের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু নিয়ে একটি খবর ফাঁসকে কেন্দ্র করে ওই বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়। তালেবানদের ওপর পাকিস্তানের প্রভাব কমেছে বলেও উল্লেখ করেন এই কূটনীতিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ