ঢাকা, মঙ্গলবার 6 February 2018, ২৪ মাঘ ১৪২৪, ১৯ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যাংক ঋণে আবারও কেলেঙ্কারি!

‘সরষের ভেতর ভূত’ প্রবাদটি ব্যাংক-ভুবনে বেশ প্রবল হয়ে উঠেছে। ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভয়ংকর রকম উদারভাবে ঋণ বিতরণ করছে জনতা ব্যাংক। এক গ্রাহককেই মাত্র ৬ বছরে তারা দিয়েছে ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার ঋণ ও ঋণসুবিধা। নিয়মনীতি না মেনে এভাবে ঋণ দেয়ায় বিপদে ব্যাংক, ঋণগ্রহীতাও ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। উল্লেখ্য যে, জনতা ব্যাংকের মোট মূলধন ২ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেয়ার সুযোগ আছে। অর্থাৎ এক গ্রাহক ৭৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পেতে পারেন না। অথচ আলোচ্য ক্ষেত্রে ঋণ দেয়া হয়েছে মোট মূলধনের প্রায় দ্বিগুণ।
প্রশ্ন জাগে, নিয়মবহির্ভূত এই কাজটি কীভাবে সম্পন্ন হলো? জানা গেছে, ব্যাংক দেখভাল করার দায়িত্ব যাদের, সরকারের নিয়োগ দেয়া সেই পরিচালনা পর্ষদই এই বিপজ্জনক কাজটি করেছে। হলমার্ক ও বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির পর এটিকেই পারস্পরিক যোগসাজশে সাধারণ মানুষের আমানত নিয়ে ভয়ঙ্কর কারসাজির আরেকটি বড় উদাহরণ বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। তাঁরা বলছেন, এটি একক ঋণের ক্ষেত্রে বৃহত্তম কেলেঙ্কারি।
উল্লেখ্য যে, সেই সময় জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারাকাত। আর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক নাগিবুল ইসলাম ওরফে দীপু, টাঙ্গাইলের কালিহাতী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী যুবলীগ নেতা আবু নাসের প্রমুখ। ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ বছর জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্বে ছিলেন তারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংকের এই পর্ষদের উৎসাহ ছিল বেশি। পর্ষদের সিদ্ধান্তে বার বার ঋণ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঋণ দেয়া হয় খেয়ালখুশি মতো। জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে গত তিন বছর দায়িত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ্জামান। গত ৭ ডিসেম্বর তার চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে তারা আরও ঋণ চেয়েছিল, আমি দেইনি। এ কারণে আমি তাদের শত্রুতে পরিণত হয়েছি। আর ঋণের প্রায় সবই আগের চেয়ারম্যানের (আবুল বারাকাত) সময় দেয়া।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গবর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, একটি ব্যাংক কীভাবে পারলো একজনকে ৫ হাজার কোটি টাকা দিতে। নিশ্চয়ই বড় কেউ আছে এর পেছনে। এটার পেছনে কারা, তা খুঁজে বের করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাই ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও দুদককে এক্ষেত্রে সক্রিয় হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন কার্যক্রম আরও জোরালো করার সময় এসেছে।
প্রসঙ্গত এখানে আমরা সোনালী ব্যাংক হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল শাখার কথা উল্লেখ করতে পারি। ২০১১ সালের দিকে হলমার্ক নামে গ্রুপটি ওই শাখা থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছিল। ফলে সোনালী ব্যাংক এখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। জনতা ব্যাংকও কি সেই পথেই পা বাড়ালো? অর্থমন্ত্রী এ ব্যাপারে কী বলবেন?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ