ঢাকা, মঙ্গলবার 6 February 2018, ২৪ মাঘ ১৪২৪, ১৯ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পুঁজিবাজারে সূচকের পতনে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের পতন অব্যাহত থাকায় গতকাল সোমবার দুপুরে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। দুপুর দেড়টায় বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। তবে পুলিশী বাধায় তা ১ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়।  
 বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় টানা ছয় কার্যদিবসে নিম্নমুখী রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে (সোমবার) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ১৮ পয়েন্ট। তবে, এদিন ডিএসই'র সার্বিক লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেড়েছে।
ঐক্য পরিষদের সংগঠনের সভাপতি মিজান-উর-রশীদ চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের ধসের সাথে সম্পৃক্ত কারসাজি চক্রের রাঘব বোয়ালদের শাস্তির আওতায় না আনায় তারা আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে বাজারে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করছে।
তিনি বলেন, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে ধসের কোনো কারণ নেই। কিন্তু কয়েক দিনের অব্যাহত পতনে বাজারের সূচক কমেছে ৫০০ পয়েন্ট।
মিজান-উর-রশীদ বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন পুনঃগঠনের পর থেকে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের দক্ষতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, আমরা বিনিয়োগকারীদের কথা জানাতে রাস্তায় এসেছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দিয়েছে। তাই আজ (৬ ফেব্রুয়ারি) আবারো বিক্ষোভ করবো।
জানা যায়, মুদ্রানীতি ঘোষণার আগ থেকে টানা দরপতনে ভুগছে পুঁজিবাজার। ব্যাংকগুলো এডি রেশিও'র পরিবর্তন আসছে এমন গুজবে বাজারে দরপতন হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পজেটিভ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে।
এদিকে, ঘোষিত মুদ্রানীতিকে ইতিবাচক ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংককে অভিনন্দন জানিয়েছে ডিএসই।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বাজারের সার্বিক মূল্য ১৩৩ পয়েন্ট কমে ছিল। এদিকে আজ (সোমবার) ডিএসই'র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৮ দশমিক ৫০ পয়েন্ট কমে ৫৮৬৮ পয়েন্টে স্থিতি পায়। এর আগে টানা ৬ কার্যদিবসে ধারাবাহিক পতনে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৪৬ পয়েন্ট কমেছে।   
এদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ৩২ পয়েন্ট। দিনশেষে সিএসই'র সার্বিক লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই ও সিএসই'র বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১১১টির, দর কমেছে ১৮৬টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের। এসময় ডিএসইতে ১১ কোটি ৬৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৫৩টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
টাকার অংকে এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৪০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর আগের কার্যদিবসে (রোববার) ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থাৎ সোমবার ডিএসই'র লেনদেন ৭৬ কোটি টাকা বেড়েছে।
দিনশেষে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৮.৫০ পয়েন্ট কমে ৫৮৬৮ পয়েন্টে স্থিতি পায়। এর আগে টানা ৬ কার্যদিবসে ধারাবাহিক পতনে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৪৬ পয়েন্ট কমেছে। এসময় ডিএস-৩০ সূচক শূন্য দশমিক ২৯ পয়েন্ট কমেছে। তবে দিনশেষে ডিএসইএস সূচক ছিল অপরিবর্তিত।
লেনদেন শেষে টার্নওভার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বেক্সিমকো ফার্মা। এসময় কোম্পানিটির ২১ কোটি ০৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। টার্নওভারে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল স্কয়ার ফার্মা, কোম্পানিটির ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মধ্য দিয়ে টার্নওভারের তৃতীয় অবস্থানে ছিল লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।
এছাড়াও টার্নওভার তালিকায় ছিল- গ্রামীণফোন, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, মুন্নু সিরামিক, রেনেটা, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও বিডি ফাইন্যান্স।
এদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হওয়া ২২৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৯টির, দর কমেছে ১২৫টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২০টি প্রতিষ্ঠানের। এসময় সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
 লেনদেন শেষে সিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক সিএসইএক্স কমেছে ৩৭ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট। এসময় সিএসইতে টার্নওভার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বেক্সিমকো, কোম্পানিটির ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ