ঢাকা, মঙ্গলবার 6 February 2018, ২৪ মাঘ ১৪২৪, ১৯ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দিতে কেন নির্দেশনা নয়

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্ঘটনায় আহত যেকোনও রোগীকে সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে  প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে নির্দেশনা জারির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের উক্ত রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল জারির আদেশ দেন।

একই সঙ্গে রুলে খুলনার ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম ও গ্রিন লাইফ হাসপাতালের এক কর্মীর জীবন রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তা কেন বে-আইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অপর এক রুলে ভিকটিম মো. ইব্রাহিমের পরিবারকে সালাহউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশ প্রধান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনার, গে-ারিয়া, যাত্রাবাড়ি, ধানমন্ডি এবং ওয়ারি থানার ওসি ও সালাহউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতালকে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীতে পৃথক পৃথক ছিনতাইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে দুই ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনায় জনস্বার্থে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তার সঙ্গে ছিলেন রিপন বাড়ৈ ও সঞ্জয় ম-ল।

গত ২৬ জানুয়ারি ভোরে সায়েদাবাদ এলাকায় ছিনতাইকারীর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আহত খুলনার ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম নিজেই নিকটস্থ টিকাটুলির সালাহউদ্দিন হাসপাতালে গেলে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার আগেই ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়।

অপরদিকে সম্প্রতি লঞ্চ যোগে বরিশাল থেকে এসে ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডি ৭ নম্বর রোডে মিরপুর সড়কের ক্রসিং স্বামীর হাত ধরে রাস্তা পার হচ্ছিলেন গ্রীন লাইফ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী হেলেনা বেগম। রাস্তার মাঝামাঝি অংশে আসতেই ছিনতাইকারীরা চলন্ত প্রাইভেটকার থেকে হেলেনা বেগমের ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে আচমকা হ্যাঁচকা টান দেয়।

ছিনতাইকারীর টানে হেলেনা বেগম ব্যাগসহ প্রাইভেট কারের সঙ্গে ঝুলে পড়েন। ওই অবস্থায় ছিনতাইকারীরা গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিলে তিনি গাড়ির নিচে পড়ে যান। তখন তার মাথার উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে যায় ছিনতাইকারীরা। সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু হয়।

এ দুটি ঘটনার প্রকাশিত খবর সংযুক্ত করে গত রোববার হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে আইনজীবী ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও মাহবুবুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন। পরে আদালত ছিনতাইয়ের এ দুই ঘটনায় আদালত রুল জারি করেন।

মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বেঁচে থাকার অধিকার হলো মানুষের মৌলিক অধিকার। সুতরাং দুর্ঘটনায় বা ছিনতাইয়ে কেউ আহত হয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে গেলে সে হাসপাতাল সরকারি-বেসরকারি যাই হোক সেবা দিতে বাধ্য। তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় দুর্ঘটনাস্থলের কাছের হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলো ওই সময় আহতদের চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এমনকি দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। এ ধরণের ঘটনা বা পরিস্থিতি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। অথচ সরকার কোনো ক্লিনিক/হাসপাতালকে লাইসেন্স দেয়ার সময় কোনো ধরনের বৈষম্য অনুমোদন করেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ