ঢাকা, মঙ্গলবার 6 February 2018, ২৪ মাঘ ১৪২৪, ১৯ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আফনারে দেখতাম ফারলাম না দুক নাই আল্লায় আফনারে হায়াৎ দেউক

কবির আহমদ, সিলেট : কোনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি নয় কিংবা কোনো মহাসমাবেশ করার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সিলেটে আসেননি। তিনি গতকাল সোমবার সিলেটে এসেছেন শুধুমাত্র হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার জিয়ারত করতে। বেগম জিয়াকে একনজর দেখতে শেরপুর, শাদিপুর, ওসমানীনগর, দয়ামীর, বিশ্বনাথের রশীদপুর, লালাবাজার এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পুলিশের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে স্বাগত জানাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন লাখো জনতা। বেলা পৌনে ৪টায় বেগম জিয়ার গাড়িবহর পৌঁছে সিলেট মহানগরীর প্রবেশদ্বার আব্দুস সামাদ আজাদ চত্বর (চন্ডিপুল) এলাকায়। এরপর বেগম জিয়া চলে তাঁরই সরকারের আমলের সফল অর্থমন্ত্রী সিলেটের কৃতী সন্তান মরহুম এম সাইফুর রহমানের সদিচ্ছায় নির্মিত সুরমা নদীর পারে অবস্থিত সিলেটে ভিভিআইপি সার্কিট হাউসে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে বেগম খালেদা জিয়া হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে। সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা পয়েন্ট এলাকায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য সতর্কবস্থায় ছিল। হাজার হাজার মানুষ দুদিকে দাঁড়িয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য অপেক্ষমান ছিলেন। সুরমা পয়েন্টে দাঁড়িয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বি আমিন। হঠাৎ স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হলো সুরমা পয়েন্ট এলাকা। পুলিশ অফিসারের সাথে গল্পরত অন্যদিকে চলে গেলেন। বেগম জিয়ার গাড়ি যখন যাচ্ছিল তখন শত শত নেতাকর্মী ‘খালেদা জিয়ার আগমণ শুভেচ্ছার স্বাগতম, খালেদা জিয়ার ঘাঁটি এই সিলেটের মাটি, আমার নেত্রী আমার মা জেলে যেতে দিব না’ এ সকল স্লোগান দিয়ে মুখরিত করেছিলেন এই এলাকা। হঠাৎ করে এ প্রতিবেদকের চোখে পড়লো প্রায় ৬৭ বছরের বৃদ্ধ আফসোস করে এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন ‘আফনারে দেখতাম ফারলাম না দুক নাই, আল্লায় আফনারে হায়াৎ দেউক।’ এরপর কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে বৃদ্ধের। তিনি জানান, সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলার চতুল থেকে এসেছেন এক নজরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মীনি বেগম খালেদা জিয়াকে দেখার জন্য। আব্বাস উদ্দিন নামের এই বৃদ্ধ রওনা দিয়ে দুপুর ১২টার দিকে কদমতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছান। কোর্ট মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি নগরীর কুদরত উল্লাহ মসজিদের বারান্দায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। আছরের নামাজও পড়েন কোর্ট মসজিদে। এরপর থেকে দাঁড়িয়ে থাকেন সুদৃঢ়ভাবে বেগম জিয়াকে এক নজর দেখার জন্য। কিন্তু বয়সের ভারে মানুষের ধাক্কা খেয়ে পিছু হঠে তার প্রিয় নেত্রীকে দেখতে পারেননি আব্বাস উদ্দিন। তিন আফসোস করে তখন সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘আফনারে দেখতাম ফারলাম না দুক নাই, আল্লায় আফনারে হায়াৎ দেউক।’ শুধু আব্বাস উদ্দিন নয়, তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য পুরুষ, মহিলা, ছাত্র, যুবক হাজারো জনতা জড়ো হয়েছিলেন সিলেট নগরীতে। অনেককে বলতে শুনা গেছে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নেত্রী শুধু মাজারো আইছইন এল্লাগি অত মানুষ।  আর জনসভা খরলে খত মানুষ যে অইতা, আল্লাহ ছাড়া খেউ খইতা ফারতা নায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ