ঢাকা, শুক্রবার 16 November 2018, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মিশরে ‘গুপ্ত হামলায়' লিপ্ত ইসরায়েলি বাহিনী

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তা আল সিসির সম্মতিতে ইসরাইলের একটি বাহিনী দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে গুপ্ত হত্যায় লিপ্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। জঙ্গি নির্মূলের নামে এসব গুপ্ত হত্যা চালানো হচ্ছ।

সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত রোববার এ খবর দিয়েছে সংবাদ সংস্থা ডন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি জঙ্গিবিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার মিশরীয় ভূখণ্ডের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গুপ্তহামলা পরিচালনা করছে।

মিশরীয় সরকারের অনুমোদনেই তারা গুপ্তভাবে এসব হামলা পরিচালনা করছে বলে  এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “অচিহ্নিত ইসরায়েলি ড্রোন, হেলিকপ্টার ও জঙ্গিবিমান দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গোপন একটি বিমান অভিযান পরিচালনা করছে, এ সময়ে মিশরের ভিতরে তারা ১০০টির বেশি বিমান হামলা পরিচালনা করেছে; আর সবই চালানো হয়েছে প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তা আল সিসির অনুমোদনক্রমে।”

ইসরায়েল ও মিশরের সম্পর্কের বিবর্তন যে একটি নতুন পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে, পারস্পরিক এই সহযোগিতা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মন্তব্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের।

অতীতে দেশ দুটি একে অপরের বিরুদ্ধে তিন তিনবার যুদ্ধ করেছে, পরে বিরোধ চেপে রেখে অস্বস্তি নিয়ে পরস্পর শান্তি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে, আর এখন প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তা আল সিসির আমলে মিশর ইসরায়েলের গোপন মিত্রে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর সীমিত একটি চক্র ছাড়া এই ইসরায়েলি বিমান অভিযানের কথা সবার কাছে গোপন করে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট সিসি।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলার কথা ফাঁস হলে মিশরে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে আশঙ্কায় দুই প্রতিবেশী দেশই ইসরায়েলের ভূমিকা গোপন করতে চেয়েছে।

অপরদিকে মিশরীয় সরকারি কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ইসরায়েলি অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলে গেছে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার অঙ্গীকার করে যাচ্ছে। 

মার্কিন কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, যেন সনাক্ত না করা যায়, তার জন্য ইসরায়েলি ড্রোনগুলোতে কোনো চিহ্ন রাখা হয়নি, জঙ্গিবিমান ও হেলিকপ্টারগুলোর চিহ্ন ঢেকে রাখা হয়। এগুলোর কোনো কোনোটি ঘুর পথে গিয়ে এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করে যে তারা মিশরীয় ঘাঁটিগুলো থেকে উড়ে এসেছে।

তারা আরও জানিয়েছেন, অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে প্রেসিডেন্ট সিসি এসব হামলার কথা সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সীমিত চক্র ছাড়া আর সবার কাছ থেকে গোপন রেখেছেন। পাশাপাশি মিশরীয় সরকার উত্তর সিনাই এলাকাটিকে অবরুদ্ধ সামরিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে উত্তর সিনাইতে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে মিশরীয় সামরিক বাহিনী। এই লড়াইয়ে ইসরায়েলি হস্তক্ষেপের ফলে মিশরীয়রা ওই এলাকায় অবস্থান সংহত করতে পেরেছে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। অপরদিকে এসব হামলার মাধ্যমে নিজের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে পারছে ইসরায়েল।

উত্তর সিনাইকে কেন্দ্র করে মিশর ও ইসরায়েলের এই সহযোগিতার সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আইএস, ইরান ও রাজনৈতিক ইসলাম- এই সব সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধতা রাজতান্ত্রিক আরবের বেশ কয়েকটি দেশের নেতাদের ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন মিত্রতা গড়ে তোলার দিকে নিয়ে গেছে।

এসব দেশের কর্মকর্তা ও সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রকাশ্যে ইহুদি রাষ্ট্রটির নিন্দা করলেও গোপনে তারা ইসরায়েলের মিত্র হয়ে উঠেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ