ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 February 2018, ২৬ মাঘ ১৪২৪, ২১ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুক্ত হাওয়ায় উড়ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট

মোহাম্মদ সুমন বাকী : বিন্দু পরিমাণ ভাবা যায়নি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে এ রকম ধস নামবে বাংলাদেশের। যা ছিলো কল্পনার বাইরে। অতিথি দলের এমন আক্রমণাত্মক আচরণ ভাবিয়ে তুলে সবাইকে। কারণ স্বাগতিক বাংলাদেশ খেই হারিয়ে ফেলে। সম্প্রতি শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে সেই দৃশ্য ফুটে উঠে। গ্রুপ পর্যায়ের শেষ এবং ফাইনাল ম্যাচ সর্বনাশ ঘটায় বাংলাদেশের। বিষয়টি বিশ্লেষণ করে অনায়াসে বলা যায় মুক্ত হাওয়ায় নীল আকাশে উড়া থেকে একেবারে মাটিতে নামিয়ে আনে টাইগারদের। টুর্নামেন্টে লাল-সবুজ পতাকা দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে ছিলো দাপটের সাথে। উদ্ভাসিত নৈপূন্যের প্রদর্শন। নিমিষে কেটে যায় ভয়। সেটা শিরোপা জয় করার প্রত্যাশাতে। শ্রীলংকার হঠাৎ গা ঝাড়া দেবার দাপনে যা বুমেরাং হয়ে গেছে। এর আগে টাইগার বাহিনী দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে। ফর্ম ধরে রেখে। ব্যাট-বলের যুদ্ধে অসাধারন সৈনিক ছিলেন যারা। সবুজ ঘাসের ময়দানে দৃশ্যমান হয়ে ফুটে উঠে সেটা। বাগানের সবচেয়ে আকর্ষনীয় গোলাপের মতো অনেকটা। একের পর এক সাফল্য অর্জন করে চলেছেন তারা। তা দেশ বিদেশের ময়দানে। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে। সেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ছন্দপতন। তাও আবার হঠাৎ! প্রশ্ন জাগে সেটা কেন? গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় শ্রীলংকার কাছে মাত্র ৮২ রানে অল আউট! ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানের হার!! সবকিছু যেন ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন মনে হয়! এবার প্রত্যাশা মাশরাফি বাহিনী ফাইনালে জয় পাবে। খুশির জোয়ারে ভেসে গিয়ে শিরোপা ঘরে তুলবে। স্থায়ীভাবে চ্যাম্পিয়ন কাপটি শোভা পাবে। নানা সাজে পরিবেষ্টিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মনোমুগ্ধকর কার্যালয়ে। না, শেষ পর্যন্ত সেটা হলো না। অবশেষে সেই শতভাগ আশা গভীর সাগরে তলিয়ে যায়। তা টেনে উঠাবার জন্য সফল ডুবুরী হতে পারেননি টাইগার দলের কোনো সদস্য। যারা ব্যাট-বলের যুদ্ধে বীর সৈনিক। এমন পরিস্থিতিতে ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতার ফাইনালে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পরাজয়। যা ঘটে দ্বিতীয় বার। বলা যায় পূর্ব স্মৃতি আবার উপস্থাপন হওয়া। সে কথার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। এবারের ফাইনালে লাল-সবুজ পতাকা দল হারে ৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। এক নৈপূন্য প্রদর্শন করার ধারায় হঠাৎ ছন্দপতন। শুধুমাত্র বাজে ব্যাটিংয়ের জন্য! দুই বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান দলে নেই। ইনজুরির কারণে বিশ্রাম নামক শব্দটির সদস্য হয়ে পড়েন তিনি। তাই বাংলাদেশ টিম সামান্য পিছিয়ে থেকে দুই টেস্ট ম্যাচ সিরিজের লড়াইয়ে নামে শ্রীলংকার বিপক্ষে। ঘুরে দাঁড়াবে স্বাগতিক বীর সৈনিকর, যাদের কাছে দর্শকরে প্রত্যাশা এমন। সেটা শতভাগ আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে। এই স্বপ্ন নিয়ে চট্টগ্রাম ভেন্যু প্রস্তুত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ কি জিতবে? সকলের মনে প্রশ্ন উঁকি দেয় বার বার। শুরুটা খারাপ হয়নি। দারুন খেলেছেন তারা। এর ফলে ম্যাচ ড্র হয়। তা ছিলো জয় পাবার সমতূল্য। যা মনে রাখার মতো। কারন শেষ দিকে মমিনুল হকের দৃঢ়তায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ। কক্সবাজার জেলার এই বীর সন্তান দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন। সেটা রেকর্ডে রূপ পায়। পাহাড়, সমুদ্র, প্রকৃতির মনোরম ছোঁয়ায় সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়ে আলোচনার আলোড়ন তুলে বিশ্ব মিডিয়ায়। ক্রিকেট ভুবনে আবার মমিনুল হিরো বনে যায়। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দল করে ৫১৩ রান। এর বিনিময়ে সব উইকেট বিসর্জন দেয়। যেখানে ম্যাচের সূচনা লগ্নে মহা নায়ক টকবগে বিশ্ব তারকা মমিনুল হক। যার ব্যাটে রানের ফুল ঝুরি ফুটে। লংকান বোলাররা দিশেহারা হয়ে যায় বেধড়ক পিটুনি খেয়ে। ১৭৬ রান করেছেন তিনি। সুপার নৈপূন্য দেখিয়েছেন মমিনুল হক। এক কথায় খুবই চমৎকার। দলের জন্য এটা অবশ্যই কার্যকর উপহার। যেখানে উপস্থাপন হয় চার-ছক্কার বাহার। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫১৩ রান। প্রতিপক্ষ দলকে ঘায়েল করার জন্য তা কম নয়। এই পাহাড় সম রান চেজ করতে গিয়ে ফলোঅনে পড়ে অনেক দল ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে। লংকানদের বেলায় সে রকম কিছু ঘটতে যাচ্ছে কিনা? এই প্রশ্নের উত্তরে উল্টো বাংলাদেশ টিমকে বিপদে ফেলে তারা। যা বিস্ময় জাগিয়ে তুলে। শ্রীলংকা ৭১৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। যাদের নিরাপদ অবস্থান হয়। লিড নেয় ২০০ রানের। এই পরিস্থিতিতে ম্যাচ হারার সম্ভাবনা নেই। এর বিপরীত চিত্রে জিতবে নয়তো ড্র করবে। ২০০ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। ম্যাচের চতুর্থ দিনের শেষ লগ্নের ঘটনা সেটা। তা স্বাগতিক দলকে মাঝারি ধাক্কা দেয়। যা ভাবা যায় না! স্কোর বোর্ডে জমা পড়ে ৮১ রান। উইকেট নেই ৩টি। সেটা ভয় পাইয়ে দেয়। কথাটি একেবারেই সত্য। চতুর্থ দিন বিদায় নেয় স্বাগতিকদের আতংকে ফেলে। কারন তখনো ১১৯ রান পিছিয়ে। আবার ত্রান কর্তার মহা ভূমিকা পালন করেছেন মমিনুল হক। যে হয়ে উঠে আস্থার প্রতীক। তাকে প্রাথমিক অবস্থায় সাহায্য করেন তামিম ইকবাল (৪১ রান)। এরপর পিছনে তাকাতে হয়নি তাদের। তামিম আউট  আবার ধাক্কা! চিন্তাটা স্থায়ী আকারে রূপ পায়নি। মমিনুলের সঙ্গী হয়ে ওয়াল বনে যায় লিটন দাস। তা লংকানদের খেলার রেজাল্ট ড্র মানাতে বাধ্য করে। লিটন মাত্র ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি। ৯৪ রান করেন তিনি। অবশেষে শতক পূর্ণতার জোয়ারে ভেসে যান সমুদ্র এলাকার বীর সন্তান মমিনুল। যা গাঢ় হয়ে ফুটে উঠে প্রথম টেস্ট ম্যাচের দুই ইনিংসে। ১০৫ রান করেন যিনি। রেকর্ড বুকে নাম লেখান। তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন খেলা ড্র হবার কারনে। টাইগাররা কঠিন পরিস্থিতিতে ইনিংস ব্যবধানের পরাজয় ঠেকানোর কৌশল শিখে কাজে লাগিয়েছে। এখন এক ধাপ উপরে উঠে ড্র করে। সবার প্রত্যাশা ভবিষ্যতে জয় পাবে। সেটা মিরপুর শের ই বাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট খেলায় (অনুষ্ঠিতব্য) যেন ঘটে যায়। তাহলে সিরিজ জিতবে টাইগার টিম। যা কামনা করছেন স্বাগতিক দর্শকরা। টেস্ট ঘরনায় বাংলাদেশ নিউ কামার দল। সুপার পারফর্মার তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, জিম্বাবুয়েকে পরাজিত করে এ কথার প্রমাণ রেখেছে। ড্র পায় সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ভারত এবং পাকিস্তানের সঙ্গে। এখনো টেস্ট লড়াইয়ে সাক্ষাত হয়নি নবাগত আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। বর্তমানে লং ভার্সন ম্যাচের এই ভুবনে (গাংগুটি) তাদের পারফরম্যান্স ভেরি নাইস। সে কথা বলা বাহুল্য। এমন নৈপুণ্য প্রদর্শনে বিশ্বখ্যাতি পেয়েছেন সাকিব, তামিম, মাশরাফি, মমিনুল, মুশফিকরা। তাই অনায়াসে অভিহিত করা যায় মুক্ত হাওয়ায় উড়ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ