ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 February 2018, ২৬ মাঘ ১৪২৪, ২১ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অলিম্পিক নিয়েই স্বপ্ন দেখছে রোলার স্কেটিং

নাজমুল ইসলাম জুয়েল : বিদেশে বেশ জনপ্রিয় রোলার স্কেটিং। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সেভাবে মানুষের মন কাড়তে পারেনি খেলাটি। ঢাকার রাস্তায় একটা সময় চাকাওয়ালা জুতো পরে স্কেটিং করতে খুব কম সংখ্যক ছেলেমেয়েকে দেখা যেত। এখন সেই সংখ্যাটা যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। ঢাকার রাস্তায় প্রায়শই দেখা মিলছে এসব তরুণ তরুণীর। সেটা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশে রোলার স্কেটিংয়ের প্রচলণ শুরু হওয়ায়। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই খেলাটি আলোচনায় চলে এসেছে। সাথে যোগ হয়েছে রোলবল নাম খেলা। রোলার স্কেটিং আর হ্যান্ডবলের সমন্নয়ে নতুন এই খেলার বিশ্বকাপও আয়োজন করে ফেলেছে বাংলাদেশ। গত বছর এই আয়োজন দিয়ে নতুন বার্তাও দিয়েছে ফেডারেশনটি। রাজধানীর পল্টন ময়দানে শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সেই এখন নিয়মিত খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। ছাদের উপরে সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎও বিক্রি করছে ফেডারেশনটি। এরই মধ্যে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওপেন স্পিড রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানেই অলিম্পিকের বীজ বোপন করেছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশে যে কয়টি সম্ভাবনাময় খেলা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম রোলার স্কেটিং।
 প্রতিষ্ঠার মাত্র ক’বছরের মধ্যেই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আয়োজন করে ইতোমধ্যে সারা জাগিয়েছে বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশন। এবার তাদের চোখ ২০২০ টোকিও অলিম্পিক গেমস। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই ক্রীড়া আসরে পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন ফেডারেশন কর্মকর্তারা। সেই স্বপ্নের রসদও জোগার করার কাজ শুরু হয়েছে। সব খেলা যখন রাজধানী কেন্দ্রীক হয় তখন রোলার স্কেটিংয়ের নজর একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন গ্রুপের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মাণ করা হচ্ছে এই স্টেডিয়াম।
সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রায় দশ একর জমির উপর নির্মিতব্য ‘ওরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল রোলার স্পোর্টস স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সমন্বয়ক (এসডিজিএস) ও বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সভাপতি মো: আবুল কালাম আজাদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ভিত্তিপ্রস্তর কাজের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সচিব মো: আসাদুল ইসলাম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব মো: মাসুদ করিম ও রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আসিফুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ওরিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওবায়দুল করিম। প্রায় একশ’ জন খেলোয়াড়ের আবাসন ব্যবস্থার এই স্টেডিয়ামে ২০০ মিটার ব্যাংকড ট্র্যাক, রোল বল গ্রাউন্ড, রোলার হকি এবং ৩৫০ মিটার  রোড ট্র্যাক মিটার রোড থাকবে। ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে ফেডারেশন সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই এমন একটি সময়ে অপেক্ষা করেছি।
আজ আমাদের জন্য খুব খুশির একটি দিন। এ দিনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পেল একটি মাল্টিপারপাস রোলার স্কেটিং স্টেডিয়াম। দেশের রোলার স্কেটিংয়ের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ করে দেয়ায় আমি ওরিয়ন গ্রুপকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানাই। সেই সঙ্গে অন্যান্য করর্পোরেট হাউজকেও দেশের খেলাধুলার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে আহবান জানাচ্ছি। যাতে খেলাধুলায় আরো এগিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ’। অনেকটা অপরিচিত জায়গায় শুরু হয়েছে এই ষ্টেডিয়ামের কাজ। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে চার কিলোমিটারের ভেতরে, আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ধরে সামনে এগোলেই চোখে পড়বে চেচুয়াপাড়া গ্রাম। চারদিকে সবুজের সমারোহ। যেন পুরো গ্রামটিকে কোলে ধরে মায়ের মতো আগলে রেখেছে বৃক্ষরাজি। একটু পর পরই শিরশির বাতাস এসে আপনাকে দেবে ঠান্ডা আবেশ। পাশে তাকালে দৃষ্টি আটকে যেতে পারে লালমাটির ওপর হামাগুড়ি দেওয়া ছোট্ট শিশুটির মুচকি হাসিতে। একেবারে ছায়া সুনিবিঢ় গ্রাম বলতে যা বোঝায় তার সবটাই আছে সেখানে। এমনই এক মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ভালুকায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল রোলার স্পোর্টস স্টেডিয়াম। ফেডারেশনের কর্মকর্তারা প্রত্যাশা করছেন, নির্মাণ শেষে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হবে এই ষ্টেডিয়াম। এ স্টেডিয়ামেই চলবে ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের রোলার স্কেটিং অনুশীলন। যে অনুশীলনের পথ ধরে অলিম্পিকের প্রথম পদকের স্বপ্নও দেখছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সিনিয়র সহ সভাপতি এবং স্টেডিয়ামটি নির্মাণের স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওবায়দুল করিম বলেন, ‘খেলাধুলা একটি জাতির দর্পন। আর আমরা এমন একটা কাজের সঙ্গে থাকতে পেরে সত্যিই গর্বিত। আশা করছি, সাত-আট মাসের মধ্যে স্টেডিয়ামের কাজ শেষ করতে পারব।
আমাদের টার্গেট পরবর্তী বিশ্বকাপ। এ ছাড়া প্রধান লক্ষ্য ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকে অংশ নেওয়া। প্রথম দিকে আমরা স্কেটিং দিয়ে শুরু করলেও ধীরে ধীরে এখানে অন্যান্য খেলাও যোগ করা হবে। বিকেএসপির মতো সুযোগ-সুবিধাও রাখার চিন্তা করছি।’ এই ষ্টেডিয়ামটি উদ্বোধনের পর নভেম্বরে ওয়ার্ল্ড ওপেন স্পিড রোলার স্কেটিং চ্যাম্পিয়নশিপ ও স্টেডিয়ামটির উদ্বোধন করবেন ক্রীড়াপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত, গত বছরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত রোলবল বিশ্বকাপের পরই বাংলাদেশে রোলার স্কেটিং জনপ্রিয় হতে শুরু করে।
ওই আসরে ২৮ গোল করে টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার জেতেন বাংলাদেশের হৃদয় হাসান। ভবিষ্যতে এর চেয়ে ভালো কিছুর আশা করছেন উপস্থিত অতিথিরা। স্টেডিয়ামটি নির্মাণে এগিয়ে আসায় ওরিয়নকে ধন্যবাদ জানান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদুল ইসলাম। এখন দেখার বিষয় যে স্বপ্ন নিয়ে এগুচ্ছে রোলার স্কেটিং তার কতটা বাস্তবায়িত হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ