ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 February 2018, ২৬ মাঘ ১৪২৪, ২১ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বরূপে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় শারাপোভা

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : মাঠের রাণী খেতাবের পাশাপাশি গ্ল্যামারগার্ল হিসেবেও খ্যাতি রয়েছেতার। দীর্ঘ প্রায় একযুগ নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন তিনি। যদিও মাঝপথে কিছুটা হোঁচট খেতে হয়েছে। এরপরও ফিরে এসেছেন। তবে এখন আর আগের মতো মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া নতুনদের সাথে ফেরে উঠাটাও যেন অস্বাভাবিক। তাই অনেকেই বলছেন, এবার বুঝি বিদায় বলতেই হচ্ছে বিশ্ব টেনিস কোর্টের আলোচিত নাম মারিয়া শারাপোভাকে।
গত দেড় দশক ধরেই টেনিস কোর্টে আলো ছড়াচ্ছেন বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এই নম্বর ওয়ান। এই সময়ের মধ্যে পাঁচটি গ্র্যান্ডস্ল্যাম ছাড়াও অসংখ্য শিরোপার স্বাদ পেয়েছেন তিনি। তবে ২০১৬ সালে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে কলঙ্কজনক এক অধ্যায়ের জন্ম দেন রাশিয়ান টেনিসের এই গ্ল্যামারগার্ল। দীর্ঘ ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও কোর্টে ফিরেছেন তিনি। এরপর খেলেছেন বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট। যার মধ্যে রয়েছে দুটি গ্র্যান্ডস্ল্যামও। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। গত মৌসুমের শেষ মেজর টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেনের পর নতুন বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও ব্যর্থ হয়েছেন মারিয়া শারাপোভা। যে কারণেই টেনিস বোদ্ধাদের মনের মধ্যে জন্ম নিয়েছে সংশয়! আবারকী স্বরূপে ফিরতে পারবেন শারাপোভা? শুরুটা কিন্তু দুর্দান্ত মারিয়া শারাপোভার। ২০০৪ সালে। তখন তার বয়স মাত্র সতেরো। ঠিক সেই সময়েই টেনিস কোর্টে বিস্ফোরক ঘটেছিল মারিয়া শারাপোভার। সেরেনা উইলিয়ামস কেহারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জিতেই নজর কেড়েছিলেন টেনিস প্রেমীদের। সেই যে শুরু।
 এরপর আর পেছনের দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। টেনিস কোর্টের পারফর্মেন্সে আপরূপ-সৌন্দর্য দিয়ে আলাদাভাবেই টেনিস দুনিয়ায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পাঁচটি গ্র্যান্ডসøামসহ মোট ৩৬টি ডব্লিউটিএ শিরোপা জিতেন শারাপোভা। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখলকরে দীর্ঘদিন রাজত্বও করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে বিশ্বের জনপ্রিয় এবং শীর্ষ ধনী এ্যাথলেট হওয়ার তকমাটাও গায়ে মেখেছেন তার। কিন্তু হায়! এই শারাপোভাই বিশ্ব টেনিসে কলঙ্কজনক এক অধ্যায়ের জন্ম দেন। দুই বছর আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চলার সময় করা ডোপ পরীক্ষায় তার দেহে নিষিদ্ধ উপাদান মেলডোনিয়াম পাওয়া যায়। ওয়ার্ল্ড এ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (ওয়াডা) শারাপোভার নমুনা পরীক্ষা করে তার মেলডোনিয়াম নেয়ার প্রমাণ পায়।
এরপর ১৫ মাসের জন্য টেনিস থেকে নিষিদ্ধ হনমাশা। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত বছরের এপ্রিলেই কোর্টে ফেরেন তিনি। এরপর টেনিস কোর্টে আর নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেন নিমাশা।  যদিওবা নতুন বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম টুর্নামেন্টে স্বরূপে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। কিন্তু এখানেও থেমে গেল মারিয়া শারাপোভার জয়রথ। টানা দুইম্যাচ জয়ের পর তৃতীয় পর্বে জার্মানির এ্যাঞ্জেলিক কারবারের মুখোমুখি হয়েছিলেন রাশিয়ান টেনিসের এই গ্ল্যামারগার্ল। কিন্তু খুব বেশি দূর এগুতে পারলেন না মাশা। শনিবার তৃতীয় পর্বের ম্যাচে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নম্বর ওয়ান তারকা এ্যাঞ্জেলিক কারবার সরাসরি সেটেই পরাজিত করেন পাঁচ গ্র্যান্ডস্লামের মালিক শারাপোভাকে। নিষেধাজ্ঞা থেকে কোর্টে ফেরার পর শারাপোভার এটা দ্বিতীয় গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট।
এর আগে ইউএসও পেনের কোর্টে নেমেছিলেন তিনি। সেই টুর্নামেন্টে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও নতুন বছরের প্রথম মেজর টুর্নামেন্টে নতুন উদ্যমে শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন শারাপোভা। বিশেষ করে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে মেলবোর্নে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছিলেন সাবেক এই নম্বরওয়ান। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে রুশ তারকার। তাকে সরাসরি সেটে উড়িয়ে দিয়েই বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম প্রতিযোগিতার চতুর্থ রাউন্ডে উঠেন জার্মানির অ্যাঞ্জেলিক কারবার। ২০১৬ সালে এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের মাধ্যমেই ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের স্বাদ পান কারবার। সে বছরটা দুর্দান্ত কেটেছিল তার। বছরের শেষ গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেন জয়ের আগে রিওঅলিম্পিকেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটাও দখল করে নিয়েছিলেন দুটি গ্র্যান্ডস্লামের মালিক। তবে গত বছরটা খুব বাজে কেটেছিল তার। মেজর কোন শিরোপা জয় তো দূরের কথা ডব্লিউটিএ কোন টুর্নামেন্টের ফাইনালেই খেলতে পারেননি স্টেফিগ্রাফের উত্তরসূরি। অথচ, নতুন মৌসুমেই যেন জ্বলে উঠেন তিনি। শুরুটা করেন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল টেনিস টুর্নামেন্ট জিতে। এবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও যেন স্বরূপে ফিরেছেন তিনি। শনিবার মারিয়া শারাপোভাকে হারানোর পর সোমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালেরও টিকিট কেটেছেন কারবার। টুর্নামেন্টের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে জার্মান তারকা ৪-৬, ৭-৫ এবং ৬-২ গেমে পরাজিত করেন তাইওয়ানের সিয়েহ সু উইকে। প্রথম সেটে হেরেও পরের দুই সেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেন বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এই নম্বর ওয়ান তারকা। চতুর্থ পর্বের লড়াইটা যে কঠিন হবে তা অনুমিতই ছিল। কেননা এদিন যে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন সিয়েহ সু উই। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শুরু থেকেই একের পর এক চমক উপহার দেন তিনি। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে উইম্বলডনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন গারবিন মুগুরুজাকে হারিয়ে দেন কারবারের প্রতিপক্ষ। স্প্যানিশ টেনিস তারকার পর পোল্যান্ডের অ্যাগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানস্কাকেও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেন তাইওয়ানের এই খেলোয়াড়। কারবারের বিপক্ষে ম্যাচে তার লক্ষ্য ছিল টুর্নামেন্টে তৃতীয় অঘটনের জন্ম দেয়া। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। তারপরও প্রথম সেট জিতে রীতিমতো ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন কারবারের সমর্থকদের। তাই ম্যাচ শেষে সু উইকেও কৃতিত্ব দিলেন কারবার। এ প্রসঙ্গে দুটি গ্র্যান্ডস্লামের মালিক নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘সবার আগে তাকেই কৃতিত্ব দিতে হয়। অবিশ্বাস্য একটা ম্যাচ খেলেছে সে। চমৎকারভাবে বলে আঘাত করছিল সে। মনে হচ্ছিল আমি শুধু বলের পেছনে ছোটাছুটি করছি। কোর্টের ভেতরে কিংবা বাইরে সর্বত্রই দৌড়াদৌড়ি করে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করছিলাম। তবে যেভাবে খেলেছে তার জন্য বাহবা পাওয়ার যোগ্য সে। আপনি যদি তার শেষ তিনটি ম্যাচ দেখে থাকেন তাহলেও বুঝতে পারবেন। ২০১৮ সালেতার দাপট দেখা যেতে পারে।’
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেরেনা উইলিয়ামস। পুরোপুরি ফিট না হওয়ার কারণে এবার খেলছেন না তিনি। আমেরিকান টেনিস কিংবদন্তির সঙ্গে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সরে দাঁড়ান ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাও। ফেবারিট হিসেবে খেলতে নামা ভেনাস উইলিয়ামস, গারবিন মুগুরুজাকিং বামারিয়া শারাপোভারাও বিদায় নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ