ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 February 2018, ২৬ মাঘ ১৪২৪, ২১ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎসংযোগ নিয়ে ইটভাটা চালু ॥ জনগণ বিক্ষুব্ধ

কেশবপুর (যশোর): ফসলি জমি ও জনবসতি এলাকায় গড়ে তোলা উপজেলার সাতবাড়িয়া বাজারের পাশে সুপা ব্রিকস নামের ইটভাটা ছবিটি রোববার সকালে তোলা -সংগ্রাম

রমাল্যা আব্দুস সাত্তার, কেশবপুর (যশোর) থেকে: ইটভাটার চারপাশে জনবসতি ও ফসলি জমি। একটি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়, একটি মসজিদ ও বড় বাজার রয়েছে। এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ভাটা স্থাপনার বিরোধিতা করে আসছিল এলাকার জনগণ। রোববার গভীর রাতে শহর থেকে শতাধিক সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে ভাটার চারিপাশে কাঁটা তারের বেড়ায় বিদ্যুৎসংযোগ করে একটি অবৈধ ইট ভাটায় আগুন দেয়া হয়েছে। এ সময় আব্দুর রশিদ নামের এক যুবক বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতাবাড়িয়া বাজারের ১০০ গজের ভেতরেই অবস্থান এই ইটভাটার।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ বলছে, আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার  ও ফসলি জমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এছাড়া কোন সড়ক ও মহাসড়ক থেকে অর্ধকিলোমিটার দূরত্বে ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। কিন্তু সাতবাড়িয়া বাজারের পাশে কেশবপুর সরসকাটি সড়কের মাত্র ৫০ গজ দূরে স্থাপিত সুপার ব্রিকস নামের ইটভাটাটির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের কোন লাইসেন্স নেই। ভাটা কর্তৃপক্ষ আইন অমান্য করে গত ৪ জানুয়ারী থেকে ইট উৎপাদন শুরু করেছে। এমনই অবস্থা কেশবপুরের বেশীর ভাগ ইটভাটার।    
সরকারের নীতিমালা উপেক্ষা করে কেশবপুরে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ১৫টি ইটভাটা। এরমধ্যে মাত্র ৪টি ভাটার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। অবশিষ্ট ভাটা মালিকরা কাগজপত্র জমা দেয়ার জন্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছ থেকে এক মাসের সময় নেয়। কিন্তু গত ২ জানুয়ারী এক মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও অদ্যাবধি কোন ভাটা মালিক তাদের বৈধ কাগজপত্র জমা দেয়নি বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। এরপরও চলতি বছর সাতবাড়িয়া বাজারের ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় সুপার ব্রিকস, পৌর এলাকার ভোগতী গ্রামে জামান ব্রিকস ও বারুইহাটি মোড়ে রোমান ব্রিকস নামে নতুন করে আরও ৩টি ভাটা স্থাপনার কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। গত ১৫ জানুয়ারী কোন প্রকার কাগজপত্র ছাড়াই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বারুইহাটি মোড়ের রোমান ব্রিকসের মালিক সিদ্দিকুর রহমান ইট উৎপাদনের জন্যে তাঁর ভাটায় আগুন দেয়। এর দু‘দিন আগে ভোগতী মোড়ে অবৈধভাবে স্থাপিত জামান ব্রিকসের মালিকও ভাটায় আগুন দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে অবৈধভাবে ইট পোড়ানোর অভিযোগে ভাটা মালিক সিদ্দিকুর রহমান ও জামান ব্রিকসের সত্ত্বাধিকারী মমতাজ বেগমকে আটক করে প্রত্যেককে ৬ মাসের জেলসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপরও ওই দুটি ভাটায় অবৈধভাবে ইট পোড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। 
উপজেলার সাতাবাড়িয়া বাজারের ১০০ গজ দূরে অবস্থিত সুপার ব্রিকস নামের ইটভাটা। এ ভাটার চারিপাশে সরিষা, গম, ধান ও পেঁয়াজের আবাদ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ওই স্থানে ভাটা স্থাপন হলে রাস্তাঘাট, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া, শস্যহানিসহ পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। এ কারণে ওই স্থানে ভাটা স্থাপনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসি বিভিন্ন স্থানে অভিয্গো দেয়াসহ আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে।
এদিকে, গত রোববার গভীর রাতে ভাটা মালিক ফারুক হোসেন জনরোষের ভয়ে ভাটার চারিপাশে কাটা তারের বেড়া দিয়ে তাতে বিদ্যুতায়িত করে শহর থেকে শতাধিক সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে ভাটার চুলায় আগুন দেয়। খবর পেয়ে এলাকাবাসি বাঁধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীদের হুমকিতে ফিরে তাঁরা ফিরে আসতে বাধ্য হয়। এ সময় আব্দুর রশিদ নামের এক যুবক কাটা তাঁরের বেড়ায় বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর জখম হয়। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুলিশ প্রহরায় ওই অবৈধ ভাটায় আগুন দেয়া  হয়েছে বলে এলাকাবাসির অভিযোগ।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান বলেন, এ সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ